জানালো ফায়ার সার্ভিস

এস আলম চিনিকলে ৫৪ ঘণ্টা পরও নেভেনি আগুন, ছিল না ন্যূনতম নিরাপত্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৩২ পিএম, ০৬ মার্চ ২০২৪
গোডাউনের পশ্চিম পাশের দেওয়াল ধসে যেতে পারে যে কোনো সময়
  • হেলে পড়া দেওয়াল ধসে বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা
  • বালু দিয়ে সুরক্ষা দেওয়াল তৈরির চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ

দীর্ঘ ৫৪ ঘণ্টা পরও নিয়ন্ত্রণে আসেনি চট্টগ্রামের এস আলম রিফাইন্ড সুগার মিলের আগুন। উল্টো আগুনের তাপ ও পুড়ে যাওয়া চিনির গলিত লাভার চাপে গোডাউনের দেওয়াল হেলে গিয়ে মূল কারখানায় আগুন ছড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, ২৫ হাজার স্কয়ার ফুটের বিশাল এ কারখানায় যে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার প্রয়োজন ছিল, তার ন্যূনতমও ছিল না এই চিনিকলে। ফলে এ ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় জাগো নিউজকে এসব জানিয়েছেন চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক এম ডি আবদুল মালেক।

তিনি বলেন, আগুনের তাপ ও পুড়ে যাওয়া চিনির গলিত লাভার চাপে গোডাউনের দেওয়াল হেলে গিয়ে মূল কারখানায় আগুন ছড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কারণ দেওয়াল থেকে ৩০ গজের মধ্যেই কারখানার মূল প্ল্যান্টটির অবস্থান। মূল কারখানা ও বাকি গোডাউনগুলো রক্ষায় এখন বালু দিয়ে সুরক্ষা দেয়াল তৈরির চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট দিনরাত কাজ করলেও দেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এ আগুন কবে নিয়ন্ত্রণে আসবে তা এখনো বলা যাচ্ছে না।

এম ডি আবদুল মালেক আরও বলেন, ২৫ হাজার স্কয়ার ফুটের বিশাল এ কারখানায় একটি স্বয়ংক্রিয় ফায়ার ইউনিটের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এখানে তার ন্যূনতম ব্যবস্থাও ছিল না। এছাড়া পুরো কারখানা এলাকায় পানির কোনো সোর্স নেই। ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে গেছে। এখন আমাদের কর্ণফূলী নদী থেকে পাইপ দিয়ে পানি টেনে আগুনে দিতে হচ্ছে, পর্যাপ্ত চাপ পাওয়া যাচ্ছে না। আমি আমার ৩০ বছরের কর্মজীবনে এমন আগুন দেখিনি।

ঘটনাস্থলে থাকা বায়েজিদ ফায়ার স্টেশনের স্টেশন লিডার কামরুজ্জামান বলেন, আগুনের তাপ ও গলে যাওয়া কাঁচামালের চাপে দেওয়ালটি হেলে পড়েছে। যদি দেওয়ালটি ধসে যায়, তাহলে পরিস্থিতির অবনতি হবে। পাশের ভবনে কারখানার মূল যান্ত্রপাতি ও ফিনিসগুডস থাকায় সেগুলো নিয়ে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। পাশের ইউনিটগুলোতে আগুন ছড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এস আলম গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার আক্তার হাসান জানান, কারখানাটিতে ছয়টি গুদাম আছে। পুড়ে যাওয়া গুদামটিতে এক লাখ মেট্রিক টনের বেশি অপরিশোধিত চিনি ছিল। যার সবই পুড়ে গেছে। বাকি গুদামে বর্তমানে ৬ লাখ ৪১ হাজার মেট্রিক টন চিনির কাঁচামাল রয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার আগুন না নির্বাপনের কারণ জানাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডেপুটি ডিরেক্টর জসিম উদ্দিন বলেন, পুড়ে যাওয়া কাঁচামাল থেকে কার্বন সৃষ্টি হচ্ছে। অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে যা আরও দাহ্য হয়ে উঠছে। এ কারণে আগুন নির্বাপণে দেরি হচ্ছে। এ আগুন পানি দিয়ে নির্বাপণ সম্ভব নয়, তাই গুদামটির ছাদ অপসারণ করে ফোম টেন্ডার ব্যবহার করে চেষ্টা চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত গোডাউনটি প্রায় পাঁচ তলার সমান উচ্চতার। এটির পুরোটাজুড়েই চিনির কাঁচামাল মজুত আছে। শুধু নিচ থেকে পানি দিয়ে আগুন নেভানো সম্ভব নয়।

ওইদিন দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত দল। কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মামুন রহমান বলেন, আগুন নেভার আগ পর্যন্ত এর প্রকৃত কারণ বলা যাবে না।

এদিকে গতকাল রাত থেকে এস আলম সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মিলে আগুনে পুড়ে যাওয়া চিনি ও কেমিক্যাল ফেলা হচ্ছে কর্ণফুলী নদীতে। এতে বিষক্রিয়ায় মারা যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও কাঁকড়া। বুধবার সংবাদকর্মীরা এ খবর সংগ্রহে মিলে গেলে প্রবেশ করতে না দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

এএজেড/এমএইচআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।