দেশের আমদানি-রপ্তানি খাতে স্থবিরতা: উত্তরণের পথ কোথায়?
দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলো বৈদেশিক বাণিজ্য। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় এবং শিল্প উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে দীর্ঘদিন ধরে সচল রেখেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের আমদানি ও রপ্তানি—দুই খাতেই এক ধরনের স্থবিরতা বা মন্দা দেখা যাচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ডলার সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ নীতিগত দুর্বলতার কারণে বাণিজ্য খাতে চাপ ক্রমেই বাড়ছে। ফলে অর্থনীতির সামগ্রিক গতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আগের বছরের তুলনায় আমদানি ব্যয় কমেছে। আবার রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও প্রত্যাশিত নয়। একসময় আমদানি কমাকে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হলেও এখন এটি শিল্প উৎপাদন ও বিনিয়োগ কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ, বাংলাদেশের শিল্প খাত মূলত আমদানি-নির্ভর। কাঁচামাল, জ্বালানি, যন্ত্রপাতি ও মধ্যবর্তী পণ্য আমদানির ওপরই উৎপাদন ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে আছে। ফলে আমদানি কমে গেলে উৎপাদনও কমে যায়, যার প্রভাব পড়ে কর্মসংস্থান ও রপ্তানিতে।
সম্প্রতি রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) দেশের পণ্য রপ্তানি ২ দশমিক ০২ শতাংশ কমেছে। এ খাতের সবচেয়ে বড় পণ্য তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৮২ শতাংশ। রপ্তানির শীর্ষ পাঁচের অন্যতম কৃষিজ পণ্যের রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ। রপ্তানির পাশাপাশি আমদানিতেও মন্দাভাব বিরাজ করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ভোগ্যপণ্য আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলা কমেছে দশমিক ১৯ শতাংশ। মূলধনি যন্ত্রপাতির এলসি খোলা কমেছে ৩ দশমিক ০৭ শতাংশ, শিল্প কাঁচামালের ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্র খোলা কমেছে ১০ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
পরিসংখ্যান থেকে এটা স্পষ্ট—আমদানি ও রপ্তানি উভয় খাতেই নিম্নমুখী প্রবণতা বিরাজ করছে, যা দেশের অর্থনীতির গতি মন্থর হওয়ার ইঙ্গিত। আমি মনে করি, ইপিবির তথ্য অনুযায়ী ১০ মাসে মোট পণ্য রপ্তানি কমে যাওয়াটা শুধু একটি সংখ্যাগত পতন নয়; এটি দেশের অর্থনীতিতে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চাপের প্রতিফলন। বৈশ্বিক মন্দাভাব, বিশেষ করে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারে চাহিদা হ্রাস প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাককে সরাসরি প্রভাবিত করেছে। পাশাপাশি জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ডলারের বাজারে অস্থিরতা উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে। ফলে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।
সামগ্রিকভাবে আমদানি ও রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রেই নিম্নমুখিতা নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সংকেত। কারণ, আমদানির নিম্নমুখী প্রবণতায় দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণ, উৎপাদন খরচ কমানো এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণ জরুরি। শিল্পের কাঁচামাল, ভোগ্যপণ্য ও মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি হ্রাস উদ্যোক্তাদের উৎপাদন সম্প্রসারণে অনীহা, নতুন বিনিয়োগে ধীরগতি এবং ভোক্তা চাহিদায় নিম্নগতিকে নির্দেশ করে। বিশেষভাবে মূলধনি যন্ত্রপাতির ঋণপত্র খোলা কমে যাওয়া ভবিষ্যৎ শিল্পায়নের গতি মন্থর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্র হ্রাস পাওয়া রপ্তানি-নির্ভর শিল্পে অর্ডার কমে যাওয়ার একটি পরোক্ষ সূচক।
অর্থনৈতিক নীতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যদি অনিশ্চয়তা কাজ করে, তবে বিনিয়োগ ও উৎপাদন কোনোটিই বাড়বে না। তাই সরকারকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার বার্তা দিতে হবে।
এমনিতেই দেশের শিল্প খাত কয়েক বছর ধরেই চাপে রয়েছে। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ০৩ শতাংশে নেমে এসেছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হার এবং লজিস্টিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংকটের দিকে। এ ছাড়া সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন কমে যাওয়ায় স্টিল ও সিমেন্টের মতো নির্মাণসামগ্রীর চাহিদাও হ্রাস পেয়েছে। তবে আশার কথা, চলতি বছরের এপ্রিলে ৪০০ কোটি ৯৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৩২ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি।
নীতিনির্ধারকরা আমদানি-রপ্তানি পরিস্থিতির জন্য ভূরাজনৈতিক অস্থিরতাকে দায়ী করছেন। তারা বলছেন, বর্তমানে পৃথিবীতে দুটি বড় যুদ্ধ চলমান। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল যে প্রণালি দিয়ে পার হয়, সেই পথ এখন এক ধরনের স্থবিরতার মুখে, যার সম্মিলিত প্রভাব বিশ্ববাণিজ্যের ওপর পড়ছে। এ প্রসঙ্গে আমাদের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির গণমাধ্যমকে বলেছেন, পৃথিবীতে এখন দুটি যুদ্ধ চলমান। গত দুই মাস এমন এক অঞ্চলে যুদ্ধ চলছে, যার সঙ্গে নৌপথের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ রয়েছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল যে প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়, সেটি এখন বন্ধ। এর একটি বড় ধরনের পুঞ্জীভূত প্রভাব অর্থনীতিতে পড়ছে।
বাংলাদেশের আমদানি কমার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ডলার সংকট। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো এলসি খুলতে কঠোরতা আরোপ করেছে। শিল্পোদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সময়মতো আমদানি করতে পারছেন না। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রপ্তানি আদেশ সময়মতো সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ অতীতেও বহু অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। তৈরি পোশাক শিল্প, প্রবাসী আয় এবং উদ্যোক্তাদের উদ্যম দেশের অর্থনীতিকে বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছে। বর্তমান মন্দাও অতিক্রম করা সম্ভব, যদি বাস্তবভিত্তিক নীতি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা যায়।
অন্যদিকে রপ্তানি খাতেও চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে। কিন্তু ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে মূল্যস্ফীতি এবং ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়ায় পোশাকের অর্ডারও কমেছে। বড় বড় ব্র্যান্ড এখন কম দামে পণ্য কিনতে চাইছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও রপ্তানি আয় কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ছে না। আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভিয়েতনাম, ভারত ও কম্বোডিয়া দ্রুত বাজার সম্প্রসারণ করছে। তারা প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বাণিজ্য সুবিধায় এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশ এখনও অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে।
বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের আরেকটি বড় দুর্বলতা হলো পণ্যের বৈচিত্র্যের অভাব। দীর্ঘদিন ধরে পোশাক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হয়েছে। অথচ বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন পণ্য ও বাজারে প্রবেশের উদ্যোগ খুব সীমিত। চামড়া, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষিপণ্য কিংবা জাহাজ নির্মাণ খাত সম্ভাবনাময় হলেও কাঙ্ক্ষিত নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগের অভাবে এগুলো বড় আকারে বিকশিত হতে পারেনি। দেখা যায়, একটি খাতে সংকট তৈরি হলে পুরো রপ্তানি ব্যবস্থায় চাপ পড়ে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতাও বড় প্রভাব ফেলছে। প্রথমে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। পরে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এসব কারণে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, আবার ক্রেতারাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। উন্নত দেশগুলোর সুদের হার বৃদ্ধির ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্থরতা দেখা দিয়েছে, যা বাংলাদেশের মতো রপ্তানি-নির্ভর দেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
তবে শুধু বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে দায় দিলে চলবে না। দেশের অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যাও বাণিজ্য খাতের মন্দাকে তীব্র করেছে। বন্দরে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, করব্যবস্থার জটিলতা এবং নীতিগত অস্থিরতা উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করছে। ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন যে, নীতি পরিবর্তনে ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে। অনেক সময় হঠাৎ সিদ্ধান্তের কারণে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা ও উচ্চ সুদের হার বিনিয়োগ পরিবেশকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এ অবস্থায় উত্তরণের জন্য প্রথমেই প্রয়োজন অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। ডলারের কৃত্রিম সংকট দূর করতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো, হুন্ডি নিয়ন্ত্রণ এবং রপ্তানি আয় দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উৎপাদনমুখী শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
রপ্তানি বহুমুখীকরণ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। শুধু পোশাকের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। ওষুধ শিল্প, আইটি সেবা, কৃষিপ্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়া শিল্প, হালকা প্রকৌশল এবং জাহাজ নির্মাণ খাতে বিশেষ প্রণোদনা ও অবকাঠামোগত সহায়তা দিতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি পণ্যের নতুন বাজার খুঁজে বের করতে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে আরও সক্রিয় করা জরুরি।
একই সঙ্গে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও জোর দিতে হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ও রপ্তানির বিকল্প নেই। অথচ বাংলাদেশের অনেক শিল্প এখনও শ্রমঘন ও কম প্রযুক্তিনির্ভর। উৎপাদনশীলতা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা প্রয়োজন। কারিগরি শিক্ষা ও শিল্প খাতের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে।
বন্দর ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম বন্দরে জট কমানো, কাস্টমস ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করা এবং দ্রুত পণ্য পরিবহনের সুবিধা বাড়ানো গেলে ব্যবসার খরচ অনেক কমবে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে ‘লিড টাইম’ কমানো জরুরি। কারণ, ক্রেতারা এখন দ্রুত সরবরাহকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের স্বপ্ন দেখছে। এই স্বপ্ন যেমন একটি অর্জন, তেমনি নতুন চ্যালেঞ্জও বটে। তাই এখন থেকেই মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক তৎপরতা বাড়ানো জরুরি।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, অর্থনৈতিক নীতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যদি অনিশ্চয়তা কাজ করে, তবে বিনিয়োগ ও উৎপাদন কোনোটিই বাড়বে না। তাই সরকারকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার বার্তা দিতে হবে।
বাংলাদেশ অতীতেও বহু অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। তৈরি পোশাক শিল্প, প্রবাসী আয় এবং উদ্যোক্তাদের উদ্যম দেশের অর্থনীতিকে বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছে। বর্তমান মন্দাও অতিক্রম করা সম্ভব, যদি বাস্তবভিত্তিক নীতি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা যায়। আমদানি-রপ্তানি খাতের এই স্থবিরতা শুধু বাণিজ্যের সংকট নয়; এটি পুরো অর্থনীতির জন্য সতর্কবার্তা। তাই সময় থাকতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়াই হবে সবচেয়ে বড় প্রজ্ঞার পরিচয়।
লেখক: কলাম লেখক ও শিল্পোদ্যোক্তা।
এইচআর/জেআইএম