দায়ী কে?

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০৮:৩৭ এএম, ০৪ এপ্রিল ২০১৮

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে পাঁচটি খাল খনন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এটি আশার কথা। শুধু খাল খনন করা নয় যে খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে কিংবা দখলে আছে সেগুলোতেও প্রাণপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে। রাজধানী শহরকে বাঁচাতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে হাজারীবাগ, বাইশটেকী, কুর্মিটোলা, মান্ডা ও বেগুনবাড়ী খালে ভূমি অধিগ্রহণ এবং খনন/পুনঃখনন করার প্রকল্প নেয়া হয়। এ বিষয়ে নেয়া আলাদা প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬০৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, এসব খাল উদ্ধার করতে কঠোর হতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এসব খালের উপর কোনো ভবন থাকলে তা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন।

রাজধানী ঢাকা এখন পরিণত হয়েছে দুর্ভোগের নগরীতে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে একটু বৃষ্টিতেই তলিয়ে যাচ্ছে রাজধানীর অলিগলি। ফলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয় লোকজনকে। খাল ভরাট করে ভবন হয়েছে। পানি যাওয়ার কোনো উপায় নেই। খাল ভরাট করে সেখানে চার-পাঁচতলা ভবন করা হয়েছে। খালের মালিক জেলা প্রশাসন, আর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ওয়াসার। কিন্তু কে কতটা দায়িত্ব পালন করছে তা খালগুলোর করুণ অবস্থা দেখলেই বোঝা যায়।

বিভিন্ন সময় আদালত থেকেও খাল উদ্ধারে নির্দেশ এসেছে। কিন্তু খাল দখলমুক্ত করা যায়নি। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হচ্ছে সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান এবং প্রভাবশালী মহল অনেক খাল দখল করে রাখছে। ঢাকা মহানগর এলাকায় ৫৮টি খাল চিহ্নিত করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে ৩৭টি খালের অংশবিশেষ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (রাজউক) তিনটি সরকারি ও সাতটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল এবং ২৪৮ জন ব্যক্তি দখল করে নিয়েছে। ফলে খালগুলোর প্রবাহ আর স্বাভাবিক নেই। এভাবে রক্ষক যদি ভক্ষক হয় তাহলে খাল বাঁচবে কি করে?

রাজধানীর পানিপ্রবাহ ঠিক রাখার জন্য খাল খনন এবং দখলমুক্ত রাখার কোনো বিকল্প নেই। মানবদেহের ধমনির মত খালগুলো এই শহরকে বাঁচিয়ে রাখছে। হীন স্বার্থে সেগুলোকে হত্যা করলে সেটি হবে আত্মঘাতী। তাই অবিলম্বে খাল উদ্ধার করে ঢাকার পানিপ্রবাহ ঠিক রাখতে হবে। বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীকে যেন জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেয়া যায় সেজন্য এখন থেকেই কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে এগুতে হবে। রাজধানীর খালগুলো তো উদ্ধার করতেই হবে ঢাকার চারপাশে নদীগুলোরও দখল-দূষণ বন্ধ করতে হবে। নানা কারণেই রাজধানী বাসঅনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এখন জলাবদ্ধতাও যদি বাড়তি দুর্ভোগ তৈরি করে সেটি হবে ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’।

নগরীর জলাবদ্ধতার জন্য বিভিন্ন সংস্থা একে অপরকে দোষারুপ করে। কে দায়ী, কে দায়ী নয় তারচেয়ে বড় কথা নগরবাসীকে দুর্ভোগ থেকে বাঁচাতে হবে। এরজন্য একটা মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে সে অনুযায়ী এগুতে হবে। ঢেলে সাজাতে হবে ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে। এই ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সাতটি সংস্থা জড়িত। এগুলোর সাথে সমন্বয় থাকতে হবে।

এইচআর/পিআর

নগরীর জলাবদ্ধতার জন্য বিভিন্ন সংস্থা একে অপরকে দোষারুপ করে। কে দায়ী, কে দায়ী নয় তারচেয়ে বড় কথা নগরবাসীকে দুর্ভোগ থেকে বাঁচাতে হবে। এরজন্য একটা মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে সে অনুযায়ী এগুতে হবে। ঢেলে সাজাতে হবে ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে