ইসি গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগ


প্রকাশিত: ০৬:১৯ এএম, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৬

শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করার বিষয়টি জোরেশোরে আলোচিত হচ্ছে। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে ১৩ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেছেন সংবাদ সম্মেলন করে। এরপর থেকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন প্রসঙ্গটি আরো গতি পেয়েছে। তাছাড়া বর্তমান কমিশনের মেয়াদও শেষ পর্যায়ে। এ অবস্থায় পরবর্তী নির্বাচন কমিশন কাদের নিয়ে গঠিত হয়- সেটিই এখন দেখার অপেক্ষায় দেশের মানুষ। আশার কথা হচ্ছে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ইতোমধ্যেই বিএনপিসহ পাঁচটি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক দলগুলো ইতিবাচকভাবেই দেখছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে পারস্পরিক অবিশ্বাসের মূলে রয়েছে নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা। এ থেকে উত্তরণের সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে সবার আস্থাভাজন একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করা। বিশেষ করে বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রান্তে এসে নতুন কমিশন গঠন নিয়ে আলোচনা সামনে চলে এসেছে। শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য সার্চ কমিটিসহ নানা মাত্রিক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারকে বলছে রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকেরা। মূলত সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হওয়ার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটেই নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার বিষয়টি সবার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প হিসেবে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার কথা সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের বিকল্প নেই। নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলে সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে যে তারা সক্ষম- এর প্রমাণ বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে।এছাড়া নির্বাচন কমিশন নির্বাচন অনুষ্ঠানে এরই মধ্যে একটি গুণগত পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই এই পরিবর্তনের শুরু। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে চলতে বাধ্য হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনও এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আগের মতো ঢাকঢোল পিটিয়ে দলবল নিয়ে এখন আর প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন না। জনসভা, মিছিল-মিটিং, নির্বাচনী প্রচারণার কাজে মাইক ব্যবহারও সীমিত করা হয়েছে। প্রার্থীরা নির্ধারিত মাপ ও রঙের বাইরে পোস্টার করতে পারছেন না। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে এমপি, মন্ত্রী কিংবা এ ধরনের পদাধিকারীদের অংশগ্রহণেও বিধিনিষেধ রয়েছে। নির্বাচনী ব্যয়ের ব্যাপারেও কমিশন সীমা বেঁধে দিয়েছে। নির্বাচনের পর প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবও দিতে হচ্ছে কমিশনে। এর ব্যত্যয় হলে কমিশন ব্যবস্থাও নিচ্ছে। প্রত্যেক ভোটারের আইডি কার্ড থাকায় জাল ভোট প্রতিরোধ করাও এখন সহজ হয়েছে।

পঞ্চম সংশোধনী পাস হওয়ার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিলোপ হয়েছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো বিকল্প হচ্ছে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন। সেজন্যই দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার ব্যাপারে সরকার, বিরোধী দলসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা নিয়ে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পর নির্বাচন কমিশন যেন সরকারের প্রভাবমুক্ত থেকে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে- সেটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের আর্থিক স্বাধীনতা, নিজস্ব ভবন, আলাদা সচিবালয়সহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করতে হবে। আমরা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছি। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতেও আরো গুণগত পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি। নির্বাচন কমিশন গঠন প্রশ্নে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগ সফল হোক-দেশের মানুষ এটিই দেখতে চায়।

এইচআর/আরআইপি

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]