যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নাগরিকের নিরাপত্তা


প্রকাশিত: ০৯:৪৩ এএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নাগরিকের নিরাপত্তা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ব্রঙ্কসে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে বাংলাদেশি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতা জাকির খান নিহত হওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যুক্তরাষ্ট্রের মত একটি উন্নত দেশে বাংলাদেশি একজন নাগরিকের এ ধরনের অস্বাভাবিক মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।

নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় গত বুধবার সাড়ে ছয়টার দিকে নিজ বাসায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় বাংলাদেশি নাগরিক জাকির খানকে। তার বাড়ি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে। জাকির খান নিউ ইয়র্কে পার্কচেস্টার রিয়েল এস্টেট কোম্পানি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউ ইয়র্কের খবরে বলা হয়েছে,  ব্রঙ্কসের নিজ বাড়িতে জাকির খানকে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডে প্রাথমিকভাবে তার বাড়ির মালিককে সন্দেহ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাড়ির মালিককে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে।

নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে জাকির খান ছিলেন পরিচিত মুখ ও খুবই জনপ্রিয়। কমিউনিটির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ছিল তার সরব উপস্থিতি। এ ধরনের একজন মানুষকে হত্যা করার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে সেটি ক্ষতিয়ে দেখতে হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের  ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও গত বছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বন্দুকধারীর গুলিতে ইমামসহ নিহত দুই বাংলাদেশি নিহত হন। সেদিন দুপুরে জোহরের নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে নিউ ইয়র্কের আল-ফুরকান জামে মসিজদের ইমাম আলাউদ্দিন আকনজি (৫৫) ও থারা উদ্দিন নামে আরেক বাংলাদেশিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় বাংলাদেশিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। এখন আবার একজন ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হল।

যুক্তরাষ্ট্রে এখন নতুন সরকার ক্ষমতায়। ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি নিয়ে এমনিতেই রয়েছে নানা আতঙ্ক। এর ওপর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও যদি ঠিক না থাকে সেটি হবে আরো ভয়াবহ ব্যাপার। বিশেষ করে সে দেশে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকরা যেন নিরাপদে থাকেন সেটি নিশ্চিত করতে হবে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে। আমরা বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশা করছি।

এইচআর/পিআর