আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায়ই মূলকথা

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০৯:৪৬ এএম, ১১ জানুয়ারি ২০১৮

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৌলভীবাজারের শামসুল হোসেন তরফদারসহ পাঁচ আসামির মধ্যে দু’জনের ফাঁসি ও তিন জনের আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গতকাল বুধবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে এ রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই রায়ের মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধ বিচারে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। অবিলম্বে দণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা কার্যকরে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, নেসার আলী ও ওজায়ের আহমেদ চৌধুরী। আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, শামসুল হোসেন তরফদার, মোবারক মিয়া ও ইউনুস আহমেদ। রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত ওজায়ের আহমেদ চৌধুরী ও ইউনুস আহমেদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকিরা পলাতক রয়েছেন। বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারকের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল বেলা সাড়ে ১০টার পর ২০২ পৃষ্ঠার এই রায়ের সংক্ষিপ্তসার পড়া শুরু করেন। তাদের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, আটক, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের এ দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

স্বাধীনতা অর্জনের ৪৫ বছর পর যুদ্ধাপরাধের বিচার ছিলো একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। কেননা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই সপরিবারে হত্যার মধ্যদিয়ে দেশ আবার পরিচালিত হয় মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধ স্রোতে। এসময় জেলে আটক যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দেওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় সরাসরি স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী সংগঠন নিষিদ্ধ জামায়াতে ইসলামীকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেন সামরিক শাসক জিয়া।

শুধু তাই নয় যুদ্ধাপরাধী রাজাকার, আলবদর, আল-শামসরা রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হয়। যুদ্ধাপরাধী শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী করেন জিয়া। এরই ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়া নিজামী, মুজাহিদের গাড়িতে তুলে দেন শহীদের রক্তখচিত লাল-সবুজ পতাকা। কিন্তু সবদিন সমান যায় না। অবেশেষে ঘাতকের দিন শেষ হতে থাকে। জনরায় নিয়ে ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি যুদ্ধাপরাধ বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্যাইব্যুনাল গঠন করেন। এরপর একে একে গ্রেফতার করা হয় চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের।

ইতোমধ্যেই চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা, এম কামারুজ্জামান, আলী আহসান মুজাহিদ, মতিউর রহমান নিজামী, মীর কাসেম আলী এবং বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ অনেক কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীর দণ্ড ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয়েছে।

সবশেষ মৌলভীবাজারের শামসুল হোসেন তরফদারসহ পাঁচ আসামির মধ্যে দু’জনের ফাঁসি ও তিন জনের আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশের রায় এলো। ফাঁসির দণ্ড পাওয়া পলাতক আসামিসহ অন্যদেরও দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের মধ্য দিয়ে জাতি একে একে কলঙ্কমোচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশ ফিরে আসছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারায়। যুদ্ধাপরাধের বিচারের মধ্য দিয়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকেও বেরিয়ে আসছে জাতি। অপরাধ করলে যে কেউ পার পায় না এই বার্তাটিও পৌঁছে যাচ্ছে সমাজে।

এরফলে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা পাবে। গণতন্ত্র আরো মজবুত ভিত্তি পাবে। শোষণ, বঞ্চনাহীন অসাম্প্রদায়িক মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাও সম্ভব হবে। আমাদের লক্ষ্য হোক সেই দিকে।

এইচআর/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :