দেশীয় পণ্যেই দেশাত্মবোধ


প্রকাশিত: ০৪:২৮ এএম, ০২ ডিসেম্বর ২০১৫

পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার শুরু হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক। পাটশিল্প তো বটেই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেও এটি একটি বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশকে তো এক সময় সোনালি আঁশের দেশই বলা হত। বৈদেশিক আয়ের সিংহভাগ আসত পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে। কিন্তু কালের চক্রে পাটের সেই সোনালি দিন আর নেই। মাঝখানে হঠাৎ আলোর ঝলকানির মতো পাটের সুদিন ফিরিয়ে আনার এক চেষ্টা হয়েছিল। বিশেষ করে সরকার বন্ধ পাটকল চালুসহ নানাবিধ উদ্যোগ নিয়েছিল পাটখাতের উন্নয়নে। কিন্তু সেটিও ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পাট চাষীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। এবং পাটজাত পণ্যের সঙ্গে যেসব মানুষজন জড়িত তারাও উদ্বিগ্ন। এ অবস্থায় পাটের সোনালি দিন ফিরিয়ে আনতে আবারও উদ্যোগী হতে হবে। দেশকে ফিরিয়ে দিতে হবে ঐতিহ্যময় গৌরব।

সরকার ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক আইন ( ২০১০) করলেও এর প্রয়োগ নেই বললেই চলে। এই আইনে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যে ৭৫ শতাংশ পাট আছে, এমন উপাদান দিয়ে তৈরি মোড়ক ব্যবহারের বিধান রয়েছে। কিন্তু  এ সিদ্ধান্তের পরও দেশে পাটের ব্যাগের ব্যবহার না বেড়ে বরং কমে গেছে। পরিবেশ সচেতনতার এ যুগে পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের প্রতি এ অবহেলা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।

বর্তমান সরকার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন ব্যাগ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি করে বলেছে, ম্যান্ডেটরি জুট প্যাকেজিং আইন-২০১০ বাস্তবায়নে ২৫ অক্টোবর থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল পণ্য পাটের ব্যাগে প্যাকেজিং করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্যাকেজিংয়ের জন্য পাটের ব্যাগ ব্যবহার করা নিশ্চিত করবে।  এসব পণ্য পরিবহনের মতো কাজে পাটের বস্তার দৈনিক চাহিদা সাত লাখের বেশি। বিজেএমসি বর্তমানে মিলগেটে প্রতিটি পাটের বস্তার মূল্য যথাক্রমে ৬৭ ও ৪৫ টাকা নির্ধারণ করেছে।

পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার শুরু হওয়ায় পাটকলগুলোতেও শুরু হয়েছে কর্মচঞ্চলতা। এটা ধরে রাখতে হলে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে হবে। পর্যাপ্ত কাঁচা পাটের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। কাঁচামালের অভাবে যেন উৎপাদন ব্যাহত কিংবা বন্ধ হয়ে না যায় সেটি দেখতে হবে। কোনো অবস্থায়ই যেন প্লাস্টিকের বস্তায় পণ্য পরিবহন না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। পাটের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃষি ঋণ প্রদানসহ কৃষকদের অন্যান্য সুযোগ সবিধা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু বস্তা, ব্যাগ নয় প্রয়োজনীয় এবং সৌখিন অনেক পাটজাত পণ্য আছে এগুলোর ব্যবহারও বাড়াতে হবে।
এখন বিজয়ের মাস ডিসেম্বর চলছে। এই মাসে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নতুন করি শানিত করি। এটা দেশপ্রেমেরই অংশ। পাটের ব্যবহার বাড়লে আমাদের অর্থনীতি আরো মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। এ জন্য দেশপ্রেমের পরিচয় দিতে হবে। আমাদের কৃষকরা পাট নিয়ে বিপাকে পড়বে আর আমরা শুধু মুখে দেশপ্রেমের বুলি আওড়াবো এটা হতে পারে না। দেশীয় পণ্য ব্যবহারের মধ্য দিয়েই আমাদের দেশাত্মবোধের উন্মেষ ঘটাতে হবে। বিজয়ের মাসে এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

এইচআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]