শিশু তারকা থেকে স্টাইল স্টেটমেন্ট
দেড় বছর বয়সে ক্যামেরার আলো যার চোখে প্রথম ধরা দিয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আলোই তাকে শিখিয়েছে কীভাবে নীরবে নিজেকে গড়ে তুলতে হয়। বিজ্ঞাপনচিত্রে ছুটে বেড়ানো শিশুশিল্পী থেকে দক্ষিণি সিনেমার পরিচিত মুখ সারা অর্জুনের বেড়ে ওঠা হয়েছে ফ্রেমের ভেতরেই। কিন্তু বিশে পা দিয়ে তিনি আর কেবল অভিনয়ের স্মৃতি নন, হয়ে উঠছেন এক পূর্ণাঙ্গ স্টাইল স্টেটমেন্ট। ছবি: সারার ইনস্টাগ্রাম থেকে
-
কালো গাউনের ভাঁজে ভাঁজে ধরা পড়ছে তার পরিণত আত্মবিশ্বাস, আলো-ছায়ার খেলায় প্রকাশ পাচ্ছে নিজের শর্তে দৃশ্যমান হওয়ার সাহস। এই উপস্থিতি কোনো তাড়াহুড়োর ঘোষণা নয়; বরং সময় নিয়ে গড়ে ওঠা এক রূপান্তরের নিঃশব্দ স্বাক্ষর।
-
এই ছবির সাজ-পোশাকেই সেই রূপান্তরের সবচেয়ে স্পষ্ট ইশারা। কালো গাউনটি প্রথম দেখায় সরল মনে হলেও কাছ থেকে তাকালেই ধরা পড়ে এর নির্মাণভাষা। শিয়ার প্যানেলিং, টেক্সচারের স্তর, কাঁধে ভলিউম আর কোমরের দিকে নরম ভাঁজ। পোশাকটি শরীর ঢাকে না, আবার প্রকাশও করে না; বরং ইঙ্গিতে বলে। এই ‘ইঙ্গিতের নান্দনিকতা’ই সারাকে আলাদা করে।
-
গাউনের মাঝখানের স্বচ্ছ অংশটি সাহসী, কিন্তু ভঙ্গি নয়। এটি কেবল ত্বক দেখানোর আয়োজন নয়; এটি নিয়ন্ত্রণের প্রদর্শনী। কাঁধের কাঠামোগত ভলিউম মুখের দিকে দৃষ্টি টানে, আর নীচের দিকে নামা মসৃণ ভাঁজ চলনে যোগ করে নাটকীয়তা।
-
কালো রঙ এখানে শোকের নয়, ক্ষমতার। আলো পড়লে কাপড়ের টেক্সচার চকচক করে ওঠে, আবার ছায়ায় মিলিয়ে যায়; যেমন সারা নিজে, ক্যামেরার সামনে থাকলে দৃশ্যমান, নীরব থাকলে রহস্যময়।
-
স্টাইলিংও সচেতনভাবে সংযত। ভারী নেকলেস নেই, কানে ছোট জ্যামিতিক ঝুমকা; হাতে মিনিমাল রিং। চুল আঁটসাঁট করে বাঁধা, নেই কোনো উড়ন্ত অবহেলা।
-
মেকআপে ন্যুড টোন, চোখে নরম শ্যাডো সব মিলিয়ে একটাই বার্তা: পোশাক নয়, ব্যক্তিত্বই আগে। এই ব্যক্তিত্বের পেছনে আছে দীর্ঘ প্রস্তুতি। দেড় বছর বয়সে ক্যামেরার সামনে আসা, পাঁচ পেরোতেই বিজ্ঞাপনের সেঞ্চুরি; সারা অর্জুনের বেড়ে ওঠা আসলে ফ্রেমের ভেতরেই। কৈশোরে দক্ষিণের বড় পর্দায় কাজ করতে করতেই তিনি শিখেছেন ‘অতিরিক্ত’ নয়, ‘যথাযথ’ কীভাবে হতে হয়। এই ছবির ফ্যাশন-ভাষাও সেই শিক্ষারই ফল নাটকীয়, কিন্তু নিয়ন্ত্রিত।