স্ত্রী ‘মানসিক রোগী’ দাবি সোহেলের


প্রকাশিত: ০৫:২৬ এএম, ১৫ জুন ২০১৬

স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে থানায় মামলা গড়ানোর পর বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল ফেসবুকে সরব হয়েছেন। স্ত্রী তানিয়া খান থানায় যে অভিযোগ করেছেন তা নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি।

সোমবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হওয়ার পর পুলিশের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ ‘রক্তাক্ত অবস্থায়’ তানিয়া খান সোহেলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনেছেন। তবে এ নিয়ে সোহেলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর সোহলে তার ফেসবুকে এ নিয়ে একটি স্ট্যাস্টাস দিয়েছেন। তাতে সোহেল স্ত্রী তানিয়া খানকে ‘মানসিক রোগী’ দাবি করেছেন।

মারুফ কামাল খান তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘এমন শোচনীয় বিপর্যয়ের কথা কল্পনাও করিনি। আমি নিজে অসুস্থ। ছোট ছেলেটি চিকিৎসাধীন। সরাসরি রাজনীতি না করলেও আমার কাজের রাজনৈতিক সংশ্লেষের কারণে অনেকগুলো রাজনৈতিক মামলায় আমার স্বাভাবিক জীবনযাপন বিপন্ন। এই অবস্থায় সুদীর্ঘকাল ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ আমার স্ত্রী অভাবনীয় অভিযোগ করেছেন আমার বিরুদ্ধে পুলিশ স্টেশনে।’

তিনি আরো লিখেছেন, ‘তার চিকিৎসা আমি দীর্ঘকাল করিয়েছি ঢাকার ‘মুক্তি’ হাসপাতালে কয়েক দফা রেখে। দেশের খ্যাতনামা মনোরোগ বিশেষজ্ঞরাই তার চিকিৎসা করেছেন। এখন আর্থিক ও অন্যান্য অসামর্থ্যের কারণে তার প্রয়োজনীয় মানসিক চিকিৎসা করাতে পারছি না।’

Kamal

‘তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমার বাসায় পুলিশ এসে ছেলেমেয়েদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তাদের বিরুদ্ধেও তিনি অভিযোগ করেছিলেন। যাই হোক, এমন বিপন্ন সময়ে আমার বলার এমনকি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও খুব সীমিত। এমন একজন ভায়োলেন্ট সিজিওফ্রেনিয়াক রোগী এত বছর ধরে সামাল দেয়া যে কত কঠিন কাজম সেটা ভুক্তভোগী ছাড়া কারো পক্ষে অনুধাবন করা কঠিন। আমি বুঝি এবং আমার দুর্ভাগা সন্তানরা জানে এমন পরিবেশে জীবন কত কঠিন ও দুর্বহ।’

স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে সোহেলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক চারদলীয় জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহকারী প্রেস সচিব মহিউদ্দিন খান মোহন। তিনিও ফেসবুকে এ নিয়ে পৃথক দুটি পোস্ট দিয়েছেন।

একটিতে মোহন লিখেছেন, ‘আজ (১৪/০৬/২০১৬) বিকালে মনটা ভালো হয়ে গেল। এক সাংবাদিক বন্ধু জানালেন পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে পিটিয়ে মাথা ফাটানোর অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল সোহেলের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়েছে। খবরটা শুনে মনে প্রশান্তি অনুভব করলাম। এই ভণ্ডটা আমার রাজনৈতিক জীবনটাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।’

‘এ শয়তানটা ২০০৯ এর কাউন্সিলের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে আমার নামটা বাদ দিয়েছে। ওর কারণে বিএনপির গুলশান অফিসে আমার নামটা কেউ উচ্চারণ করতে পারে না। আমার অপরাধ- আমি এ নষ্ট মানুষটার কিছু অন্যায় ও অপকর্মের প্রতিবাদ করেছিলাম। আমি আল্লাহর দরবারে নালিশ করেছিলাম। আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন আমার ফরিয়াদ শুনেছেন। ইবলিশটার শাস্তি হচ্ছে আজ। বাকি থাকল আরেক শয়তান শিমুল বিশ্বাস। ইনশাআল্লাহ ওই শয়তানটার বিচারও আল্লাহ নিশ্চয় করবেন। কেননা তিনি ন্যায়বিচারক।’

এদিকে এ ঘটনার পর থেকে ফের আত্মগোপনে গেছেন সোহেল। বিএনপির ইফতার মাহফিলগুলোয় তার সরব উপস্থিতি দেখা গেলেও মঙ্গলবার বসুন্ধরা কনভেনশন সিটির রাজদর্শন হলে তার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে বিএনপির কেউ মুখ না খুললেও নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির মধ্যম সারির এক নেতা বলেন, সোহেল ভাই যদি এমন কাণ্ড করেই থাকেন, তাহলে তা হবে দুঃখজনক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলের পক্ষ থেকেও তার শাস্তি দাবি করেন তিনি।

এমএম/জেএইচ/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।