শামসুজ্জামান দুদু

নির্বাচনে ব্যত্যয় ঘটলে গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব হুমকিতে পড়বে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩৬ পিএম, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের উদ্যোগে আয়োজিত কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু/ছবি: সংগৃহীত

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ব্যাহত হবে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেন, একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই পারে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক ও বসবাসযোগ্য রাষ্ট্রে রূপ দিতে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে অসহায় মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার জন্য, যাতে এ দেশের মানুষ সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারে এবং দু’বেলা দু’মুঠো খেতে পারে। কিন্তু আজ বাস্তবতা ভিন্ন। দেশে ৪০ থেকে ৫০ লাখ শিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকার রয়েছে, যাদের জন্য কাজের সুযোগ নেই। এই সংকট থেকে উত্তরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হলে নির্বাচিত সরকার দরকার।

তিনি বলেন, সেই কারণেই জনগণকে ভেবে-চিন্তে ভোট দিতে হবে। অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশে যে আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল, জনগণ আজ আবার তেমন একটি সরকার প্রত্যাশা করে। বিশেষ করে নারী শিক্ষায় বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ছিল যুগান্তকারী।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি, দেশের জনগণ প্রত্যাশা করে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সরকার আসবে, যে সরকার বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ও বসবাসযোগ্য রাষ্ট্রে পরিণত করবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব নেবে।

সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, আগামী মাসের ১২ তারিখ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। খুব বেশি সময় বাকি নেই। তাই নির্বাচনের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশ্যে দুদু বলেন, বিগত স্বৈরাচার শাসকের আমলে নির্বাচনের নামে নিপীড়ন ও অত্যাচারে দেশের লাখ লাখ মানুষ মামলা-হামলায় জর্জরিত হয়েছে। অনেকে শহীদ হয়েছেন, অনেকে গুমের শিকার হয়েছেন। তারা ভালো নির্বাচন দেয়নি। আপনার ওপর এখন সেই দায়িত্ব এসে পড়েছে যে, দেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করবেন।

বর্তমান সরকারের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীত সরকার গায়ের জোরে বারবার ক্ষমতায় থেকেও একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সেই দায়িত্ব এখন বর্তমান সরকারের ওপর এসে পড়েছে। এই সরকারকে তা প্রমাণ করতে হবে।

খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৬ থেকে ১৮ বছর ধরে যে আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে, তার মূল লক্ষ্য ছিল একটি ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল আছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলছে, যা একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। যেটা আমরাও চাই। সেই দলটির সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক বেশি রয়েছে, তাদের উচিত সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ত্রুটিগুলো সরাসরি তুলে ধরে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া। অন্যথায় জনগণ এসব বক্তব্যকে শুধু কথার কথা হিসেবেই দেখবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের কৃষক, শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষ আজ চরম কষ্টে আছে। নিত্যপণ্যের দাম প্রতিদিন বাড়ছে। গত ১৭-১৮ মাসে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকলেও দ্রব্যমূল্য কমেনি, বরং বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ভালো নির্বাচনের জন্য যেমন জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে, তেমনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে যারা আছেন বিশেষ করে নেতৃত্ব পর্যায়ে তাদের আরও বেশি দায়িত্বশীল ও সতর্ক হতে হবে।

জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম জিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, জিয়াউর রহমান সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন খোকন প্রমুখ।

কেএইচ/এমএমকে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।