তারেক রহমানের নিরাপত্তা হতে হবে বেহুলার বাসরঘরের মতো: রিজভী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫৯ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরাপত্তায় যেন কোনো ধরনের ফাঁক না থাকে তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, তারেক রহমানের নিরাপত্তা হতে হবে সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র। বেহুলার বাসরঘরের মতো যেন কোনো ছিদ্র না থাকে। 

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ফিরোজ আহমেদের স্ত্রী ফিরোজা আক্তারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এর উদ্যোগে তারেক রহমানের নির্দেশনায় ও ড. জুবাইদা রহমানের পরামর্শে লালমাটিয়ায় ওই পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারা।

রিজভী বলেন, তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়েও সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। আমরাও এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা বারবার বলেছি—চেয়ারম্যানের নিরাপত্তার বিষয়টি সরকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আপাতদৃষ্টিতে আমরা সেই মাত্রার উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি না।

তিনি বলেন, গতকাল গুরুতর আহত পরিবারগুলোর সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় একজন মায়ের আকুতি ও বুকভাঙা কান্না দেখে চেয়ারম্যান গভীরভাবে বিচলিত হন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্টেজেই আমাকে এবং আতিকুর রহমান রুমনকে নির্দেশ দেন—আজই ঢাকায় তিনি যে বাসায় অবস্থান করছেন, সেখানে গিয়ে ওই পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এবং তাদের সমস্যাগুলো বিস্তারিত জানার জন্য।

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, আজ আমরা সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সেখানে এসেছি এবং আমাদের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে কিছু সহযোগিতাও নিয়ে এসেছি। আমরা শহীদ ফিরোজের পরিবারের কাছে এসেছি। শহীদ ফিরোজ রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার বাসিন্দা। ৫ আগস্ট পলাতক ফ্যাসিবাদ বিদায়ের সময়ও নির্বিচারে মানুষ হত্যা করতে করতে গেছে—শহীদ ফিরোজ তারই আরেকটি নির্মম নিদর্শন।

আরও পড়ুন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতরা সবাই মুক্তিযোদ্ধা: তারেক রহমান
জুলাই শহীদ ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময়
তারেক রহমানের গাড়িতে খাম সেঁটে দেওয়া বাইকার এখনো শনাক্ত হননি

ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, বর্তমানে শহীদ ফিরোজের পরিবার রাজশাহী থেকে ঢাকায় এসে আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছেন। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, খোঁজখবর নিয়েছি এবং ঠিকানা সংগ্রহ করেছি। বিএনপি পরিবারের পক্ষ থেকে এবং চেয়ারম্যান মহোদয়ের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হবে।

রিজভী বলেন, শহীদ ফিরোজের দুটি সন্তান। তাদের ভবিষ্যৎ ও লেখাপড়া নিয়ে তাদের দাদি, অর্থাৎ ফিরোজের মা অত্যন্ত উৎকণ্ঠিত। এই বিষয়গুলো আমরা অবহিত হয়েছি, নোট নিয়েছি এবং গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছি।

তিনি আরও বলেন, আজ আমরা সবাই এখানে উপস্থিত হয়েছি এই পরিবারটির সব বিষয় জানার জন্য, যেন সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় থাকে এবং শহীদ পরিবার কোনোভাবেই বঞ্চিত না হয়। শহীদ ফিরোজের রেখে যাওয়া সন্তানদের লেখাপড়া যেন বন্ধ না হয়, সেজন্য আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবো।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আপনারা জানেন আগামী নির্বাচনে জনগণের সমর্থনে বিএনপি নির্বাচিত হলে দলের চেয়ারম্যান যে অঙ্গীকার করেছেন, তা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি সবসময়ই বলেছেন—ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি শহীদ পরিবার ও আহত পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, একটি বৃহত্তর লক্ষ্য ও আদর্শের জন্য তারা যেভাবে জীবন উৎসর্গ করেছেন, এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এই মহিমান্বিত আত্মদানকে ছোট করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। তাই বিএনপি যেমন অতীতে তাদের পাশে ছিল, তেমনি ভবিষ্যতে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে তাদের সামগ্রিক পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, আজ আপনাদের সামনে এটুকু বলতে চাই—আমরা আশা করছি, আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে। তবে কিছু দৃষ্টান্ত এবং নির্বাচন কমিশনের আচরণ দেখে মাঝে মাঝে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে—নিরপেক্ষতার জায়গায় কোনো চির ধরছে কি না। শেক্সপিয়ারের ভাষায় বলতে হয়, `Something is rotten in the state of Denmark'—এই ধরনের কোনো পচনের গন্ধ আমরা অনুভব করছি।

‘যদি এমন কিছু ঘটে, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা এবং গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল ও জনগণের আস্থায় চিড় ধরবে। আমি এখনো বলতে চাই—নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ আচরণ করবে, যেন প্রতিটি ভোটার নির্বিঘ্নে, বিনা সংশয়ে ও নির্ভীকভাবে ভোট দিতে পারেন। কোনো ধরনের সূক্ষ্ম কারচুপির সুযোগ যেন না থাকে—এটি নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রধান দায়িত্ব।’

রিজভী বলেন, ভোটাররা যেন ১২ তারিখ সকালে নিশ্চিন্তে ঘুম থেকে উঠে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন—এটাই জনগণের প্রত্যাশা। নির্বাচন কমিশন যেন তার নিরপেক্ষতার রং অক্ষুণ্ন রাখে এবং সরকার যেন তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে। অন্যথায় ইতিহাস ও এ দেশের জনগণের কাছে তারা দায়ী থাকবে।

তিনি আরও বলেন, একটি দল নির্বাচনে যাবে না—এটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। সেটি তাদের বিষয়। এ বিষয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। তবে সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে, যেন জনগণ নিশ্চিত হতে পারে যে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে এবং কোনো ধরনের সূক্ষ্ম বা বড় অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হবে না।

বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে—কোথাও ২ হাজার, কোথাও ১০ হাজার বলা হচ্ছে। কতজন এটি পাবেন—এসব বিষয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। নির্দিষ্ট ও স্পষ্ট তথ্য যথাসময়ে জানানো হবে। এখন নির্বাচন ও প্রচারণার সময়—এ বিষয়ে আমি আর বিস্তারিত কিছু বলছি না।

‘তবে একটি কথাই বলতে চাই—ফ্যামিলি কার্ড হোক কিংবা ফার্মার্স কার্ড, চেয়ারম্যান যে অঙ্গীকার করেছেন, জনগণ যদি বিএনপিকে রায় দেয়, তাহলে অক্ষরে অক্ষরে তা বাস্তবায়ন করা হবে। কোনো তথ্যগত গরমিল থাকবে না—সবকিছু হবে সুস্পষ্ট।’

এসময় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন, সংগঠনটির উপদেষ্টা আবুল কাশেম ও ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা-ই-জামান সেলিম, সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, শাকিল আহমেদ, ফরহাদ আলী সজীব ও শাহাদাত হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুবুল ইসলাম মাহবুব, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ডা. জাহিদুল কবির জাহিদ, স্বেচ্ছাসেবক নেতা তুষার আহমেদ, ছাত্রদল নেতা মিসবাউল আলম, মশিউর রহমান মহান, আব্দুল্লাহ আল মিসবাহসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কেএইচ/ইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।