নির্বাচনি ইশতেহার
মানবিক ইসলামি সুশাসনের রূপরেখা দিলো বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক ইসলামি সুশাসনের রূপরেখা উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পল্টনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের আমির মাওলানা মামুনুল হক এ নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন।
ঘোষিত ইশতেহারে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করে সংকট থেকে উত্তরণে একটি সমন্বিত ও বাস্তবধর্মী পথনকশা তুলে ধরা হয়।
পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত এবং মোট ২২ দফা সম্বলিত এ ইশতেহারে একটি বিস্তৃত ভূমিকা ও উপসংহার সংযুক্ত রয়েছে। যেখানে দলটির রাজনৈতিক দর্শন, নৈতিক অবস্থান ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
ইশতেহারের প্রথম অধ্যায়ে ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা প্রায় ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে একতরফা নির্বাচন, ভোটাধিকার হরণ, গুম-খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন, প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দলীয়করণ এবং সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রব্যবস্থা ধ্বংসের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে এসব ঘটনার জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিরপেক্ষ তদন্ত, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির দাবি জানানো হয়।
দ্বিতীয় অধ্যায়ে সংগঠনটির ছয়টি অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এগুলো হলো- সুষম উন্নয়ন ও নাগরিক জীবনের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, শক্তিশালী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও জাতীয় নিরাপত্তা, স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি, সর্বজনীন ও নৈতিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থান ও তরুণদের জন্য এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি-ধর্মী কর্মসূচি।
ইশতেহারে স্পষ্টভাবে বলা হয়, উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে মানুষ, চাকরি ও মানবিক নিরাপত্তা- মুষ্টিমেয় গোষ্ঠীর স্বার্থ নয়।
তৃতীয় অধ্যায়ে ধর্মীয় পরিচয় ও রাষ্ট্রীয় নীতি, ইসলামি অর্থনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতি, কওমি মাদ্রাসা, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, নারী ও শিশু সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার নিয়ে বিস্তারিত কর্মসূচি উপস্থাপন করা হয়। ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতের পাশাপাশি ইসলামি আকিদা ও মূল্যবোধ রক্ষায় রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের বিষয়টিও সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।
চতুর্থ অধ্যায়ে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ঘুষ-দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, গুম-খুন, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন, ঋণখেলাপি এবং অর্থ পাচারের মতো রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার ঘোষণা দেওয়া হয়। এসব অপরাধ দমনে বিশেষ আইন, স্বাধীন তদন্ত কমিশন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকরের অঙ্গীকার করা হয়।
পঞ্চম অধ্যায়ে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের ইতিবাচক আদর্শ পুনর্ব্যক্ত করে বলা হয়- রাজনীতি হবে আমানত, ক্ষমতা হবে জবাবদিহিমূলক এবং রাষ্ট্র পরিচালিত হবে আল্লাহভীতি, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার ভিত্তিতে।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দলের সিনিয়র নায়েবে আমির ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা ইউসুফ আশরাফ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির মাওলানা কুরবান আলী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা এনামুল হক মূসা, মাওলানা আবু সাঈদ নোমান, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা জহিরুল ইসলাম, বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, অফিস সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমীন খান, প্রচার সম্পাদক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মাওলানা হাসান জুনাইদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা ছানাউল্লাহ আমিনী এবং খেলাফত ছাত্র মজলিসের আশরাফুল ইসলাম সাদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
আরএএস/একিউএফ