নির্বাচনি ইশতেহার

প্রতিবেশীদের সঙ্গে সমতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বিএনপি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৩৩ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বিএনপি/ ছবি- সংগৃহীত

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমতা, সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে বিএনপি। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

বাংলাদেশের মাটিতে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না এবং কোনো সন্ত্রাসীকে আশ্রয় বা সহায়তা দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে বিএনপি।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণাকালে এসব কথা বলেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

ইশতেহারে বলা হয়, বিএনপি প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সমতা, সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই সম্পর্কই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সম্মিলিত অগ্রগতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। এ লক্ষ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।

অভিন্ন নদী ও পানি সম্পদের বিষয়ে ইশতেহারে পদ্মা, তিস্তা এবং বাংলাদেশের সব আন্তঃসীমান্ত নদী থেকে ন্যায্য পানির হিস্যা আদায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন তারেক রহমান।

বিএনপির মতে, ন্যায্য পানিবণ্টন নিশ্চিত করা জাতীয় স্বার্থ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর ও উপ-রাষ্ট্রপতি পদ রাখবে বিএনপি 
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ডসহ ৯ প্রধান প্রতিশ্রুতি 

সীমান্ত নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ইশতেহারে বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণের ওপর যে কোনো ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সীমান্তে হত্যা, পুশইন সহ সব অন্যায্য ও অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মানব পাচার ও মাদক পাচার কঠোরভাবে দমন করা হবে।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কথা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়রাম্যান।

তিনি বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি আসিয়ানের পূর্ণ সদস্যপদ অর্জন এবং সার্ককে কার্যকর করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, পূর্ব ও দূরপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং অন্যান্য অঞ্চলের দেশ ও অর্থনৈতিক জোটগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের অঙ্গীকার করা হয়।

তারেক রহমান বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে বিএনপি কোনো ধরনের আপস করবে না। বাংলাদেশের মাটিতে কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না এবং কোনো সন্ত্রাসীকে আশ্রয় বা সহায়তা দেওয়া হবে না।

জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এসব অপশক্তি নির্মূল করা হবে বলেও তিনি জানান।

জেপিআই/কেএসআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।