সিইসিকে স্মারকলিপি

জামায়াতের নিবন্ধন ও আমিরের প্রার্থিতা বাতিল চাইলেন নারী নেত্রীরা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৪৫ পিএম, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রোববার সিইসিকে স্মারকলিপি দেওয়ার পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন নারী নেত্রীরা/ছবি: জাগো নিউজ

সংবিধানবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল চেয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন নারী নেত্রীরা। একই সঙ্গে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’ (টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিল চাওয়া হয়েছে।

নারী নেত্রীরা বলছেন, নারী নেতৃত্ব নিয়ে জামায়াতের অবস্থান নারীদের প্রতি চরম অবমাননাকর। দলটি মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান ও গণতন্ত্রবিরোধী। তাদের আমির নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে পুরো নারীসমাজকে হেয় করেছেন।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তারা এ স্মারকলিপি দেন। পরে সেখানে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু।

তিনি বলেন, সম্প্রতি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে যে অবমাননাকর, কুরুচিপূর্ণ ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করেছেন, তা শুধু নারীদের প্রতি চরম অবমাননাই নয়; বরং দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী, আত্মমর্যাদাশীল ও অবদানশীল নারীর শ্রম, সম্মান ও সামাজিক ভূমিকার সরাসরি অস্বীকৃতি।

‘পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দলের পক্ষ থেকে ওই মন্তব্যকে ‘হ্যাকিং’-এর ফল বলে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। অথচ ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে করা এমন বক্তব্যের ক্ষেত্রে এই দাবি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলে আমরা মনে করি’—এ প্রসঙ্গে বলেন তিনি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, প্রামাণ্য তথ্য বা স্বচ্ছ তদন্তের ফলাফল এখনো পর্যন্ত জনসমক্ষে উপস্থাপিত হয়নি বলেও উল্লেখ করেন এ নারী নেত্রী।

মোশরেফা মিশু বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, ওই ‘হ্যাকিং’ অভিযোগে বঙ্গভবনের এক কর্মীকে আটক দেখানো হলেও এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী তথ্য এসেছে। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনাপ্রবাহ তথাকথিত ‘হ্যাকিং’ দাবিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

তিনি বলেন, বিগত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পসহ বিভিন্ন খাতের শ্রমজীবী নারীরা তাদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে পরিবার, সমাজ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাদের এ অবদানকে অবমূল্যায়ন করে প্রকাশ্যে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া সংবিধানস্বীকৃত সমতা, মানবাধিকার, নারীর মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের চরম পরিপন্থি।

জামায়াত আমিরের ওই স্ট্যাটাসের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে মনে করি, এ ধরনের বক্তব্য নারীর প্রতি ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দেয় এবং নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কর্মপরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলে। একজন রাজনৈতিক নেতৃত্বের আসনে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

এসময় তিনি চার দফা দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হলো—অবিলম্বে ওই অবমাননাকর বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার করতে হবে; কর্মজীবী নারী ও নারী শ্রমিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে; ভবিষ্যতে নারীর মর্যাদা ও শ্রমকে হেয় করে এমন বক্তব্য থেকে বিরত থাকার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করতে হবে; নির্বাচন কমিশনের নৈতিকতা ও আচরণবিধি অনুযায়ী এ ধরনের বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং ওই ব্যক্তির (জামায়াত আমিরের) প্রার্থিতা বাতিল করতে হবে।
 
সিইসির সঙ্গে বৈঠকে অন্যদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, এনপিএ মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হান, আইনজীবী ও অধিকার কর্মী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
 
নারী নেত্রীরা বলেন, আমরা বলেছি জামায়াতের আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। হ্যাক কথাটি সত্য নয়। নারীদের নিয়ে উনার বক্তব্যটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংবিধানে বলা আছে নারী-পুরুষের সমতার কথা। তাহলে নারীবিদ্বেষী কথা বলে তারা কীভাবে রাজনীতি করতে পারে, তাদের দলের নিবন্ধন ও নির্বাচনে প্রার্থিতা বাতিল হওয়া উচিত।

এমওএস/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।