প্রকাশ্যে টাকা দিয়ে ভোট কেনা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ: মাহদী আমিন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:০০ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ছবি: জাগো নিউজ

নির্বাচনের মাঠে প্রকাশ্যে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগকে রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ মন্তব্য করে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, ইনসাফ ও সততার কথা বলে ভোট কেনার চেষ্টা চরম দ্বিচারিতার উদাহরণ।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) গুলশান-২ বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, খোদ দলীয় প্রধানের আসন ঢাকা-১৫-তে তার জন্য দাঁড়িপাল্লার ভোট চাইতে দলটির অন্যতম নেতা ও শীর্ষ আইনজীবী যেভাবে প্রকাশ্যে টাকা দিয়েছেন এবং ভোট কেনার চেষ্টা করেছেন, সেই ভিডিও দেশব্যাপী ভাইরাল হয়ে তুমুল সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের মাঠে সততা ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কথা বলা দলগুলোর বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ চরম লজ্জাজনক। 

মাহদী আমিন বলেন, এই উৎসবমুখর নির্বাচনি সময়ে দেশি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ধারাবাহিক প্রতিবেদন, বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান ও জরিপের ফলাফল, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনি জনসভায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে বিপুল উপস্থিতি এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা সবকিছু মিলিয়ে এখন এটি স্পষ্ট যে জনসমর্থনের দিক থেকে বিএনপি সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। সারা দেশে বিএনপির পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় অনিবার্য, ইনশাআল্লাহ।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই বাস্তবতা উপলব্ধি করেই একটি নির্দিষ্ট দল ক্রমাগত অপপ্রচার ছড়াচ্ছে, সহিংস রাজনীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে অপব্যবহার করে ভোট চাইছে এবং এমনকি জাল ভোটের প্রস্তুতির চিত্রও সামনে আসছে। 

মাহদী আমিন আরও বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তথাকথিত অবস্থানকে পুঁজি করে যে দলটি নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছে, তারা সেই প্রচারণাতেই মানুষকে এমনকি শিশুদেরও অর্থ দিয়ে প্রলুব্ধ করছে, যা নির্বাচনি আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন। স্বয়ং দলীয় প্রধানের আসনেই যদি টাকা দিয়ে ভোট কেনার অপপ্রয়াস চলে, তাহলে দেশব্যাপী কী পরিস্থিতি চলছে তা সহজেই অনুমেয়। এটি একাধারে জনবিচ্ছিন্নতা ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ।

এ সময় তিনি নির্বাচন কমিশন প্রণীত সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি-৪ উদ্ধৃত করে বলেন, নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে বা গোপনে চাঁদা, অনুদান বা উপঢৌকন দেওয়া কিংবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

মাহদী আমিন বলেন, খুলনা-১ আসনে ওই দলের প্রার্থী ভোটারদের মাঝে নিজ হাতে টাকা বিতরণ করেছেন, যা এরইমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে একটি দল দেশজুড়ে টাকা দিয়ে ভোট কেনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নেমেছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার আইডি, বিকাশ, নগদ ও রকেট নম্বর সংগ্রহ করে অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে ওই দলের সন্ত্রাসীরা রাতের আঁধারে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। একইভাবে বগুড়া-৪ আসনের নন্দীগ্রাম উপজেলার ৪ নম্বর থালতামাঝ গ্রামে গতকাল রাতে সাজাপ্রাপ্ত ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী কর্মীদের দ্বারা স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে অনেকেই গুরুতর আহত হন এবং তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়, যা জনমনে চরম ভীতির সৃষ্টি করেছে।

এসব ঘটনার স্থানীয় প্রশাসন, রিটার্নিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, বিএনপির অবশ্যম্ভাবী বিজয় নস্যাৎ করতে যত অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র, অর্থনৈতিক লেনদেন ও সহিংসতাই করা হোক না কেন, গণতন্ত্রকামী জনগণ তা রুখে দিয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে।

কেএইচ/এসএনআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।