ভোটার-এজেন্টদের বাধা দিয়ে দেউলিয়াত্ব প্রকাশ করছে ‘একটি দলের কর্মীরা’
ভোটার ও এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দিয়ে ‘একটি দলের কর্মীরা’ দেউলিয়াত্ব প্রকাশ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য জাহিদুর রহমান, ড. মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার সাইফ উদ্দীন খালেদ, ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম ও মিয়া মো. তরুণ।
ব্রিফিংয়ে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে আনন্দঘন ও প্রত্যাশিত একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। জনগণ বাড়িতে গিয়েছেন এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন।
তিনি বলেন, একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হচ্ছে। নতুন ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশের জন্য এবং কল্যাণকর রাষ্ট্রের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হওয়া অপরিহার্য বিষয়। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করবেন।
তিনি বলেন, আমরা দেশবাসীকে আহ্বান জানাই, সবাই দ্রুততম সময়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। আগামীর বাংলাদেশের জন্য সৎ, দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করার দায়িত্ব পালন করুন।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, আমরা রিপোর্ট পেয়েছি- কিছু কিছু জায়গায় দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। বরিশালের ভোলায় গতকাল আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক হামলা হয়েছে। আমাদের এজেন্টদের কাজ করতে দেওয়া হয়নি। তারা কাগজপত্র প্রস্তুত করার সময় সংঘাতের সৃষ্টি করা হয়েছে। আজও ভোলা-২ আসনে হামলার শিকার হয়েছেন। প্রশাসন কার্যকর সহযোগিতা করছে না বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
‘কুমিল্লা-৮ আসনে একদল সন্ত্রাসী কেন্দ্রে এজেন্টদের ঢুকতে দিচ্ছে না, ভোটারদের বাধা দিচ্ছে। নোয়াখালীর হাতিয়ায় ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। যারা এগুলো করছে, তারা হতাশাগ্রস্ত। এসবের মাধ্যমে তারা নিজেদের দেউলিয়াত্ব প্রকাশ করছে।’
তিনি বলেন, আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি- প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণ একটি সুন্দর ও প্রত্যাশিত নির্বাচন দেখতে চায়। কোনো অবস্থায় দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যেন হেলে না পড়েন এবং সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন- এটি আমাদের ও জাতির প্রত্যাশা। এর কোনো ব্যত্যয় হলে অবশ্যই জনগণের কাঠগড়ায় তাদের জবাবদিহি করতে হবে।
জামায়াতের এই মুখপাত্র বলেন, আমরা আশা করছি, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি আরও বাড়বে। প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনে যারা আছেন, তারা নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
আরএএস/এমকেআর