জেন-জির কাছে এবারের ভোট ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ
ঢাকা-১৮ আসন। কুড়িল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র। স্কুলটিতে কেন্দ্র দুটি। দুপুরে কেন্দ্রের সামনে দেখা মিললো একদল জেন-জি ভোটারের। সবার চোখ-মুখের অভিব্যক্তিই বলে দিচ্ছিল ভোট কেমন হচ্ছে।
কেন্দ্রের সামনে তাদের থামিয়ে জানতে চাওয়া হলো এবারের ভোট, ভোটের পরিবেশ, জেন-জি আন্দোলন, কেমন বাংলাদেশ তারা চায়, ভবিষ্যৎ নেতাদের কাছে তাদের প্রত্যাশার কথা। বেশ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তারা কথা বলেছেন জাগো নিউজের সঙ্গে।
সামির আফ্রিদি বুয়েটের শিক্ষার্থী। এবার প্রথম ভোট দিলেন। থাকেন কুড়িলে। তিনি বলেন, ‘২০২৬ সালের নির্বাচন আমার কাছে অপেক্ষাকৃত সুন্দর লেগেছে। আমরা জেন-জি যারা তাদের মধ্যে আমি এবার প্রথম ভোটার হয়েছি। আগে ভোটকেন্দ্রে যে সহিংসতা, অরাজকতা দেখেছি এবার তা দেখিনি। এটাই বড় পাওয়া।’
পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাফিন রাইদ। বেশ রাজনৈতিক সচেতন এই জেন-জি ভোটার বলেন, ‘ভোটে যেই জিতুক তিনি সৎ হবেন, যোগ্য, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলবেন বলে আশা করি। নতুন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা সহিংসতা এড়িয়ে যেন একটি স্থিতিশীল বাংলাদেশের দিকে নিয়ে যেতে পারে। একটি স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলবে-এটা আমাদের চাওয়া।’
কুড়িল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে মাত্র ভোট দিয়ে বের হলেন মাহির। অনুভূতি জানতে চাইলে জাগো নিউজকে বলেন, ‘এবার পরিবেশ ভালো, নিরাপত্তাও ভালো। যদিও লাইন একটু বড় ছিল। আমি যে লাইনে দাঁড়িয়েছি সবাই দেখলাম আমার বয়সী। এটা দেখে বেশি ভালো লেগেছে। এই প্রথম দেখলাম এত ইয়াং জেনারেশন ভোট দিতে আসছে।’
কলেজশিক্ষার্থী রাতুল বলেন, ‘যারা আমাদের তরুণদের কথা বিবেচনা করবে, জুলাই আন্দোলনে আমাদের যারা সাহস যুগিয়েছে তাদের আমরা চাই।’
‘আগে অটো ভোট হয়ে যেত। এবার নিজে ভোট দিতে পারছি, সবাই সবার ভোট দিতে পারছে, এটা ঈদের আনন্দের মতো অবস্থা। এটা আমার প্রথম ভোট। বাসার সবাইও এনজয় করেছে। পাড়াপ্রতিবেশীরাও এনজয় করেছে। পরিবেশটা ভালো লেগেছে। এত ভালো আশা করিনি।’ একটানে কথাগুলো বলেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাকিব হাসান।
রাইন রাফসানের পড়াশোনা মাত্র শেষ। চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই তরুণ। তিনি বলেন, ‘এর আগেও ভোট দেখেছি। কিন্তু এবারই প্রথম ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলাম। গতকাল রাতে ভোটকেন্দ্র দেখতে বেরিয়েছিলাম, আগে যেমন রাতে ভোট হয়ে যেত এবার দেখলাম কেন্দ্রের আশপাশে অনেক পুলিশ, নিরাপত্তা। এবার মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে আসতে পেরেছে। ভেতরের পরিবেশও সুশৃঙ্খল ছিল।’
জেন-জির নারী ভোটার ইপ্সিতা নাওয়ার রোদসী। ভোট দিতে পেরে বেশ উচ্ছ্বসিত তিনি। রোদসী বলেন, ‘ভোট দিতে কোনো অসুবিধা ফেস করিনি। চারপাশের ভোটের পরিবেশও ভালো। জেন-জি হিসেবে প্রথম ভোটার। ভোট দিতে পেরে বেশ ভালো বোধ করছি।’
ঢাকা-১৮ আসনটি উত্তরা, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও মোল্লারটেক নিয়ে গঠিত। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১, ১৭, ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড এই আসনের মধ্যে পড়েছে। এই আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ১৩ হাজার ৫০ জন, নারী ভোটার ৩ লাখ ৮২৭ জন। এই আসনে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৬ জন।
এই আসনে ১০ জন প্রার্থী। ধানের শীষ প্রতীকের এস এম জাহাঙ্গীর, শাপলা কলির আরিফুল ইসলাম ও মোমবাতি প্রতীকের বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. জসিম উদ্দিনের এজেন্ট দেখা গেছে কেন্দ্রগুলোতে। আসনটিতে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপির এস এম জাহাঙ্গীর ও এনসিপির আরিফুল ইসলামের মধ্যে।
এএসএ/এমএমএআর/