আমি কোথাও যাচ্ছি না, সেরা সময় এখনো সামনে: তাসনিম জারা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:০০ পিএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
তাসনিম জারা/ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হলেও দেশ ছেড়ে কোথাও যাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন একসময় যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করা তাসনিম জারা। সেই সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক এ নেত্রী মনে করেন, সেরা সময় এখনো সামনে রয়েছে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান তাসনিম। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পান ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। এ আসনে বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

তাসনিম বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য আমি বিএনপিকে অভিনন্দন জানাই। ঢাকা-৯ আসনে বিজয়ী প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিবকেও অভিনন্দন। গতকাল রাতেই আমি তাকে ফোন করে ব্যক্তিগতভাবে শুভকামনা জানিয়েছি। ঢাকা-৯ ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে তাদের সাফল্য কামনা করি। আমরা একটি গঠনমূলক শক্তি হিসেবে কাজ করবো। জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে আমাদের সমর্থন থাকবে। কিন্তু মানুষের জন্য ক্ষতিকর কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার থাকবো।’

নিজের নির্বাচনি প্রচারে নারীদের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণকে এক বড় প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেক নীতিনির্ধারণী আলোচনায় আমি দেখেছি যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে নারীরা থাকলে আলোচনার মান বদলে যায়। যে কিশোরী বা তরুণীরা এই প্রচারণা আগ্রহ নিয়ে দেখেছো, তোমাদের বলছি: স্বপ্ন দেখতে ভয় পেয়ো না। ক্ষমতার কেন্দ্রে তোমারও অধিকার আছে। আমাদের আরও বেশি করে সামনে আসতে হবে।’

‘আমাদের ভলান্টিয়াররা এই পরিচ্ছন্ন রাজনীতির হৃদস্পন্দন। সাধারণ নাগরিকদের রাজনৈতিক সক্রিয়তার যে অনন্য দৃষ্টান্ত আপনারা তৈরি করেছেন, তা সচরাচর দেখা যায় না। মন খারাপ করবেন না। আপনারা মানুষের মন জয় করেছেন, আর সেটাই রাজনীতির সবচেয়ে কঠিন জয়। আমরা সংগঠিত থাকবো, সোচ্চার থাকবো, একসঙ্গে থাকবো,’ যোগ করেন তাসনিম।

নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকে ভাবছেন নির্বাচন শেষ হলেই হয়তো আমি যুক্তরাজ্যে ফিরে যাবো। আমি কোথাও যাচ্ছি না। আমার শেকড় এই মাটিতে, আমার কাজও এখানে। একটিমাত্র নির্বাচনের জন্য আমরা এই পথচলা শুরু করিনি। আমাদের লক্ষ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন। এটি দীর্ঘ পথ। আর আপনাদের সঙ্গে এই পথ চলা আমার জন্য সম্মানের।’

এনসিপির সাবেক এ নেত্রী বলেন, ‘আমরা প্রমাণ করেছি, পরিচ্ছন্ন প্রচারণায় মানুষের হৃদয় জয় করা যায়। তবে আমাদের সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে। পরিচ্ছন্ন রাজনীতি টিকে থাকতে হলে তাকে শক্তিশালী হতে হবে। নির্বাচনের দিনে প্রতিটি বুথে সাহসী পোলিং এজেন্ট এবং কেন্দ্রের বাইরে সচেতন নাগরিকদের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক মডেলকে রক্ষা করতে হলে আমাদের আরও শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলতে হবে, যা যে কোনো ভয়ভীতি মোকাবিলা করতে সক্ষম।’

জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটি সম্ভব হতো না যদি জুলাইয়ের অকুতোভয় যোদ্ধারা রাজপথে বুক পেতে না দাঁড়াতেন। গণতন্ত্রের যে স্বাদ আমরা পাচ্ছি, তা তাদের অকল্পনীয় আত্মত্যাগের ফসল। আমি ধন্যবাদ জানাই অধ্যাপক ইউনূস ও তার টিম এবং নির্বাচন কমিশনকে। এমন এক জটিল সময়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা মোটেও সহজ কাজ ছিল না, কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক জাতি হিসেবে টিকে থাকার জন্য এটি ছিল অত্যন্ত জরুরি একটি দায়িত্ব।’

৪৪ হাজারের বেশি ভোট পাওয়াকে এক বিশাল ভিত্তি হিসেবে জানিয়ে তানসিম বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পেইন ও ফলাফল প্রমাণ করেছে যে মানুষ ক্লিন পলিটিক্স চান। আমরা রাজনীতির পুরোনো ছকটি ভেঙে দিতে পেরেছি। আমরা ঢাকা-৯ ও বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার কাজ চালিয়ে যাব। আমাদের সেরা সময় এখনো সামনে।’

এনএইচ/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।