জনগণের কণ্ঠস্বরই হবে আমার রাজনীতি
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবাসহ বাস্তব সব সমস্যা সাহসের সঙ্গে জাতীয় সংসদে তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও বিএনপি নেত্রী সেলিনা সুলতানা নিশীতা। গণতন্ত্র পুনর্গঠন, নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তৃণমূলের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হিসেবে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন সেলিনা সুলতানা নিশীতা। তৃণমূল মানুষের প্রত্যাশা পূরণ, নারীর নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং গণতন্ত্র পুনর্গঠনে নিজের রাজনৈতিক ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জাগো নিউজের কাছে তুলে ধরেছেন তিনি। সেলিনা সুলতানা নিশীতার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক খালিদ হোসেন।
জাগো নিউজ: সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হিসেবে আপনার প্রধান অগ্রাধিকার কী হবে?
সেলিনা সুলতানা নিশীতা: আমার প্রধান অগ্রাধিকার হবে দেশের গণতন্ত্র পুনর্গঠন, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তৃণমূলের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করা। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তা শক্ত হাতে রক্ষা করেছেন। আর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান নতুন বাংলাদেশ গঠনের যে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নারীদের অংশীদার করাই হবে আমার লক্ষ্য।
জাগো নিউজ: দলীয় রাজনীতির বাইরে গিয়ে আপনি কীভাবে নারীদের বাস্তব সমস্যাগুলো সংসদে তুলে ধরতে চান?
সেলিনা সুলতানা নিশীতা: আমি বিশ্বাস করি নারীর কান্নার কোনো দল নেই। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা—এসব বাস্তব সমস্যা সাহসের সঙ্গে সংসদে তুলে ধরবো। বিএনপি সবসময় জনগণের দল, তাই জনগণের কণ্ঠস্বরই হবে আমার রাজনীতি।

জাগো নিউজ: বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ ও কর্মসূচির সঙ্গে আপনার ভূমিকা কীভাবে সমন্বয় করবেন?
সেলিনা সুলতানা নিশীতা: বিএনপির রাজনীতি মানে গণতন্ত্র, মানবিকতা ও জনগণের অধিকার। আমি সেই আদর্শ ধারণ করেই কাজ করব। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে মানুষের যে আত্মত্যাগ, তা বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।
জাগো নিউজ: নারী ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্ব বিকাশে আপনি কী ধরনের উদ্যোগ নিতে চান?
সেলিনা সুলতানা নিশীতা: প্রত্যেক জেলায় নারী নেতৃত্ব উন্নয়ন সেল, তরুণীদের জন্য রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা সহায়তা কার্যক্রম চালু করার পক্ষে কাজ করবো। আমরা চাই নারীরা শুধু ভোটার নয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হোক।
জাগো নিউজ: গ্রাম ও শহরের নারীদের মধ্যে যে বৈষম্য রয়েছে, তা কমাতে আপনার পরিকল্পনা কী?
সেলিনা সুলতানা নিশীতা: গ্রামের নারীরা এখনো শিক্ষা, প্রযুক্তি ও চিকিৎসায় পিছিয়ে। আমি চাই ইউনিয়ন পর্যায়ে নারী সহায়তা কেন্দ্র, ডিজিটাল প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তহবিল চালু হোক।

জাগো নিউজ: সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসেবে সরাসরি জনগণের সঙ্গে সংযোগ কীভাবে বজায় রাখবেন?
সেলিনা সুলতানা নিশীতা: আমি নিয়মিত গণশুনানি, অনলাইন সংযোগ ও মাঠপর্যায়ের সফরের মাধ্যমে জনগণের পাশে থাকতে চাই। রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতার বিষয় নয়, মানুষের আস্থা অর্জনের বিষয়।
জাগো নিউজ: আপনি কি মনে করেন বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোতে নারীদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে?
সেলিনা সুলতানা নিশীতা: সুযোগ রয়েছে, কিন্তু এখনো যথেষ্ট নয়। নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিকতা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারীদের নেতৃত্বে সামনে আনার যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা বহন করে।
জাগো নিউজ: নারী নির্যাতন ও নিরাপত্তা ইস্যুতে সংসদে আপনার অবস্থান কী হবে?
সেলিনা সুলতানা নিশীতা: নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান হবে জিরো টলারেন্স। অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধটাই বড়—এই নীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

জাগো নিউজ: দলীয় শৃঙ্খলা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রাখবেন?
সেলিনা সুলতানা নিশীতা: দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলবো, তবে জনগণের ন্যায্য দাবি ও বিবেকের প্রশ্নে সাহসিকতার সঙ্গে কথা বলবো।
জাগো নিউজ: তরুণ নারীদের জন্য আপনার বার্তা কী?
সেলিনা সুলতানা নিশীতা: নিজেকে ছোট ভাববে না। বাংলাদেশ বদলাবে তোমাদের নেতৃত্বেই। শিক্ষা, আত্মবিশ্বাস ও দেশপ্রেম—এই তিন শক্তি নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
জাগো নিউজ: সংরক্ষিত আসনের ভূমিকা কি আরও কার্যকর করা দরকার?
সেলিনা সুলতানা নিশীতা: অবশ্যই। সংরক্ষিত আসনের এমপিদের আরও সক্রিয় ভূমিকা ও নির্দিষ্ট দায়িত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

জাগো নিউজ: আগামী পাঁচ বছরে আপনার বড় লক্ষ্য কী?
সেলিনা সুলতানা নিশীতা: একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও নারী-নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে অবদান রাখা—এটাই আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।
জাগো নিউজ: মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
সেলিনা সুলতানা নিশীতা: আপনাকেও ধন্যবাদ।
কেএইচ/এমআরএম/এমএমএআর/এমএফএ