পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগ কমিটিতে জামায়াত শিবির


প্রকাশিত: ০১:২৭ পিএম, ২১ জুলাই ২০১৬

ওয়ার্ড ও উপজেলা জামায়াত নেতাদের ছেলে এবং ছাত্রশিবিরের পদধারী নেতাসহ ছাত্রত্ব নেই এমন লোকদের নিয়ে সদ্য ঘোষিত পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কমিটিতে স্থান পাওয়া সভাপতি, সহ-সভাপতি, যুগ্ম-সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পাদকীয় পদসহ অনেকের বিরুদ্ধেই ছাত্রত্ব না থাকাসহ হত্যা মামলায় আসামি হয়ে হাজতবাস ভোগ করার অভিযোগও রয়েছে। প্রশ্ন ঊঠেছে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও।

অভিযোগে বলা হয়, কমিটিতে স্থান পাওয়া ছাত্র নেতাদের প্রায় সবাই এখন বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, এর মধ্যে অনেকেই আবার বিবাহিত। যোগ্য মেধাবী কর্মীরা প্রার্থী থাকা সত্বেও এই কমিটিতে স্থান পায়নি।

BCL

চলতি বছরের গত ২০ জুন ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কমিটিতে স্থান পাওয়া সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একটি বিশেষ মহলের নির্দেশে ঢাকায় বসে তালিকা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেনের বাসায় গিয়ে কমিটির অনুমোদন নেয়।

অভিযোগ রয়েছে, কমিটির সভাপতি শুভ্রজিত হালদার বাবুর এখন কোন শিক্ষাপপ্রতষ্ঠানে ছাত্রত্ব নেই। তিনি বর্তমানে ‘এইচ এস বি’ কনস্ট্রাকশনের ব্যবসায় জড়িত। সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম মাসুদ পিরোজপুর জর্জকোর্টের অ্যাডভোকেট। সহ-সভাপতি সাকিব হাসান তুষ্টি ঢাকা জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট। তিনি ঢাকায় আইন পেশায় মামলা পরিচালনা করেন। সহ-সভাপতি ছানাউল্লাহ ছানা, সুমন শিকদার ও সালেহ আহমেদের ছাত্রত্ব নেই। সহ-সভপতি সাইফুল আলম, মেজবাহ উদ্দিন, মাহাবুবুর রহমান সোহাগ ও সুমন মাতুব্বরের বিরুদ্দে হত্যা মামলা, মাদকদ্রব্য মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় সাজা ভোগ করার অভিযোগ রয়েছে। যুগ্ম-সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ সজল ইয়াবা ব্যবসায় একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছেন। যুগ্ম-সম্পাদক নিয়াজ মোর্শেদ ও মোহাইমিনুর রহমান অনিক ছাত্র শিবিরের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

BCL

সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম রাসেল শিবির নেতা ছিলেন। তার পরিবারও জামায়াত করে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। উপ-প্রচার সম্পাদক এই্চ এম ইমরানেরও পরিবার জামায়াতের রাজনীতি করে। উপ-পাঠাগার সম্পাদক মো. আল মামুন, মানবসম্পদ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ ও আল আমিন শিবির করতের বলে অভিযোগ রয়েছে। ত্রাণ ও দুর্যোগ সম্পাদক শাহরিয়ার ইমন সবুজ স্থানীয় ওয়ার্ড জামাতের ছেলে। মারুফ শেখ, হাসান শিকদার, ওসমান, ওসমান শিকদার ও রাতুল হাসান বাবুল ছাত্রদলে যুক্ত। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি দিয়ে ব্যানার রয়েছে কাউখালিতে। এছাড়াও মৌসুমী আরফিন লোপা, এহসাম হাওলাদার, কায়ছারুল আলম রুবেল, সোহেল উদ্দিন রুবেল বিবাহিত থাকার পরও কমিটিতে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ জাগো নিউজকে বলেন, শিবির সম্পৃক্ত কেউ ছাত্রলীগের কমিটিতে নেই। কেউ কেউ অভিযোগ করতে পারে তবে তারা যৌক্তিক কোন তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করতে পারেনি। যদি কেউ থাকে আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এইউএ/জেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।