সিটি নির্বাচন চুড়ান্ত : অংশ না নেওয়ার অবস্থানেই অনড় বিএনপি
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনে চুড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার মন্ত্রীসভার বৈঠকে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের চুড়ান্ত অনুমোদন দেন তিনি। তবে এই সিটি নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার অবস্থানে অনড়।
মন্ত্রীসভার সিদ্ধান্তের পর তাৎক্ষণিক ভাবে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করে জাগো নিউজ এমন আভাস পেয়েছে। নগরের জনগণ চলমান এই পরিস্থিতিতে ঢাকা সিটি নির্বাচন চাচ্ছে না বলে মনে করছে বড় এই রাজনৈতিক দল।
গুলশানের একটি সুত্র জানায়, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চুড়ান্ত সংগ্রাম চলছে বলে মনে করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি মনে করছেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না হলে সব ক্ষেত্রেই স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। তাই প্রথমে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পরবর্তীতে সিটি করপোরেসন নির্বাচনসহ বাকী নির্বাচন নিয়ে ভাবতে হবে।
গুলশান কার্যালয়ে অবস্থানরত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান জাগো নিউজকে বলেন, সিটি করপোরেসন নির্বাচন নিয়ে আপাতত বিএনপির কোন চিন্তাই নেই। তবে দলের নীতি নির্ধারণী ফোরামের সিদ্ধান্ত যথা সময়ে জানানো হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেছেন, এই মুর্হুতে যেই নির্বাচনই হউক না কেন বিএনপি বিপুল ভোটে জিতবে। তবে বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এসময় ঢাকা সিটি করপোরেসনের নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।
বিএনপি সূত্র বলছে, সরকারের পক্ষ থেকেই সিটি করপোরসন নির্বাচন নিয়ে যতই আলাপ আলোচনা করা হউক না কেন বিএনপি ভাবছে তাদের চুড়ান্ত আন্দােলনের গতিবিধি নিয়ে। কিভাবে চলমান আন্দােলন সফল করে সরকার পতন করা সম্ভব এই কৌশলই খুজছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, চলমান আন্দােলনের গতি অন্যদিকে প্রবাহিত করতে সিটি করপোরেসন নির্বাচন সরকারের একটা ফাঁদ। সরকারের এই ফাঁদে বিএনপি কখনোই পা বাড়াবে না।
তবে বিএনপির অপর একটি সূত্র বলছে, সিটি করপোরেসন নির্বাচন নিয়ে খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে বিবেচিত হবে। এ ব্যাপারে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে না পারায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি এই নির্বাচনকে বর্জন করছে এটা বলা সম্ভব হচ্ছে না।
তবে সরকার তাড়াহুড়া করে নির্বাচন দেয়ার অপচেষ্টা করলে অবশ্যই যথাসময়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এব্যাপারে স্পষ্ট বক্তব্য গণমাধ্যমের মাধ্যেম জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে বলেও জানিয়েছে ঐ সুত্র।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (ডিসিসি-উত্তর ও দক্ষিণ) নির্বাচনের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর গত সোমবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত গেজেটও প্রকাশ করেছে।
## সিটি নির্বাচন চূড়ান্ত করলো সরকার
এমএম/এসএ/আরএস/এমএস