সহায়ক সরকারের পাশাপাশি নির্বাচনে সেনা চান খালেদা


প্রকাশিত: ০৮:৪০ এএম, ২৬ জুন ২০১৭

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না, জনগণ ভোটও দিতে পারবে না। এ কারণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সহায়ক সরকারের অধীনে করার পাশাপাশি সে সময় সেনা মোতায়নের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে খালেদা জিয়া এ দাবি জানান।

তিনি বলেন, গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগ প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশের মানুষও পরিবর্তন চায়। এই সরকারে কাছ থেকে জনগণ আর ভালো কিছু আশা করে না।

তিনি আরও বলেন, সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে। জনগণ ভোটও দিতে পারবে। নির্বাচনে সুষ্ঠু করার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়ন করতে হবে।

মানুষের মনে ঈদের আনন্দ নেই দাবি করে খালেদা জিযা বলেন, পাহাড়ধস ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সরকারের নজর নেই। হাওড়বাসীর মনে আনন্দ নেই। ঈদের আগে যানজটের ভোগান্তি মানুষকে নাজেহাল করে দিয়েছে। সড়কে মৃত্যুর মিছিল শোক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন মুসলমানদেন জন্য ঈদ অত্যন্ত আনন্দের। কিন্তু এই ঈদে আমাদের কারো মধ্যে আনন্দ নেই, সারা বাংলাদেশের মানুষের মনে কোনো আনন্দ নেই। কোনো উৎসবমুখর পরিবেশ এবার ছিলো না।

ঈদের আনন্দ না থাকার কারণ হিসেবে দ্রব্যমূল্যের ঊধর্বগতি, আকাশচুম্বি চালের মূল্য, সড়ক দুর্ঘটনা, ঘুরমুখী মানুষের যাত্রাপথে ভোগান্তির বিষয়টি তুলে ধরেন খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, রমজান মাসে চালের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই বছর দাম এতো বেশি যে নিম্ন মানের চাল দিয়েও সাধারণ মানুষ দুই বেলা পেট ভরে খেতে পারেনি। প্রতিটি জিনিসের দাম অত্যাধিক। এ ছাড়া বিদ্যুৎ-গ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। এই অবস্থার ঈদ আনন্দ দিতে পারেনি।

খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, আমরা পত্রিকায় সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে দেখেছি, জেনেছি যে এবার ঈদে একটা শ্রেনী আছে যারা অনেক টাকার মালিক, বহু টাকার মালিক তারা ঈদের জন্য কেউ ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, কেউ কলকাতা-দিল্লী বিভিন্ন জায়গা থেকে ঈদের শপিং করেছেন। অথচ সাধারণ মানুষ ঈদের কাপড়-চোপড়ও কিনতে পারেনি।

দেশে আয় বৈষম্য বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক শ্রেণির মানুষ চুরি-চামারি এবং লুটপাট করেঅতিরিক্ত বড়লোক হচ্ছে। আরেক শ্রেণির মানুষ গরীব হচ্ছে।

সড়ক-মহাসড়কের বেহাল অবস্থার কারণে দুঘর্টনা বেড়েছে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, এবার অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে, মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সেদিকে সরকারের কোনো দৃষ্টি নেই।

প্রস্তাবিত বাজেটের নানা দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, এবারের বাজেট হলো সবচেয়ে খারাপ বাজেট। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাই অর্থমন্ত্রীকে কীভাবে গালিগালি করেছে, আপনারা তা দেখেছেন।

খালেদা জিয়া বলেন, এই বাজেটের জন্য কী শুধু অর্থ মন্ত্রী দায়ী? তাকে যেভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, সেভাবে হয়েছে। আদেশ-নির্দেশ সবকিছুই তো এক জায়গা থেকে হয়, তিনি (অর্থমন্ত্রী) সেভাবে কাজ করেছেন।

প্রতিটি ক্ষেত্রে ১৫% ভ্যাট আরোপ ও ব্যাংকের আমানতের ওপর অতিরিক্ত করারোপেরও সমালোচনা করেন খালেদা জিয়া। এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ধস, হাওর অঞ্চলে দুরাবস্থার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

 

Khaleda

নির্বাচন প্রসঙ্গে
খালেদা জিয়া বলেন, হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে নির্বাচন করলে কোনো দিনই সেই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না, নিরপেক্ষ হবে না। ভোটাররা ভোট দিতে যেতে পারবে না ভোটকেন্দ্রে। আওয়ামী লীগের গুণ্ডা-লাঠিয়াল বাহিনীর অত্যাচারের নমুনা আমরা অতীতে দেখেছি। আমাদের মহাসচিবকে পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে পাঠিয়েছিলাম। সেখানে আওয়ামী লীগের গুণ্ডাবাহিনী তার ওপরে আক্রমণ করেছে, গাড়ি ভাংচুর করেছে।

তিনি বলেন, তারপরও কীভাবে আপনারা আশা করতে পারেন, আওয়ামী লীগ ও হাসিনার অধীনে ভালো নির্বাচন হতে পারে? সেটা সম্ভব নয়। সেজন্য নির্বাচনের সময় একটা সহায়ক সরকার হতে হবে। তার অধীনে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ থাকতে পারবে। এছাড়া সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে- এটাই মানুষের প্রত্যাশা।

অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাসির্য়া স্টিফেন্স ব্লুম বানির্কাট, ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক, ভ্যাটিকেনের রাষ্ট্রদূত আর্চবিশপ জর্জ কোচেরি, ইইউ’র রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদনসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা বেগম জিয়ার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদ, অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, অধ্যাপক আফম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক সদরুল আমিন, সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক মাহবুবউদ্দিন খোকন, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) সভাপতি শওকত মাহমুদ, সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ডিইউজে সভাপতি আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ইলিয়াস খানসহ বিভিন্ন পেশার নেতৃবৃন্দ।

২০ দলীয় জোটের মধ্যে কল্যাণ পার্টির মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় পার্টির(কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, জামায়াতে ইসলামীর মজিবুর রহমান, মিয়া গোলাম পারওয়ার, জাগপার রেহানা প্রধান, তাসমিয়া প্রধান, ইসলামী ঐ্ক্যজোটের মাওলানা আবদুল করীম, এনডিপির খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান খান, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ এবং এলডিপির সাহাদাত হোসেন সেলিমও খালেদা জিয়ার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে আসেন।

বিএনপির নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, আহমেদ আজম খান, নিতাই রায় চৌধুরী, আমানউল্লাহ আমান, আবদুল মান্নান, আবদুল কাইয়ুম, তৈমুর আলম খন্দকার, ইসমাইল জবিউল্লাহ, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, হারুনুর রশীদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, অ্যাড. সানাউল্লাহ মিয়া, অ্যাড. মাসুদ আহমেদ তালুকদার, আমিনুল হক, ফাওয়াজ হোসেন শুভ, নাজিমউদ্দিন আলম, মীর সরফত আলী সপু, অঙ্গসংগঠনের মধ্যে ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, আনোয়ার হোসা্ইন, নুরুল ইসলাম খান নাসিম, সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, রাজীব আহসান, আকরামুল হাসান, মহানগর দক্ষিণের কাজী আবুল বাশার, উত্তরের আহসান উল্লাহ হাসান, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারি, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ব্যক্তিগত সচিব আবদুস সাত্তার, প্রেস উইংয়ের শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদারসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খালেদা জিয়াকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।

এমএম/আরএস/এমএমজেড/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :