‘অনেক গণতান্ত্রিক দেশেও নির্বাচন শতভাগ অবাধ হয় না’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:১৮ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯

অনেক গণতান্ত্রিক দেশেও নির্বাচন শতভাগ অবাধ হয় না বলে মন্তব্য করেছেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. এস এ মালেক। তিনি বলেছেন, পৃথিবীর অনেক গণতান্ত্রিক দেশেও নির্বাচন শতভাগ অবাধ ও নিরপেক্ষ হয় বলে আমার মনে হয় না। বাংলাদেশেও এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটেনি। যে যা সুযোগ পেয়েছে অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে। এজন্য সরকার ও বিরোধী দলের কিছু দায়িত্বহীন লোকেরাই দায়ী।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বর্তমান বাস্তবতা শীর্ষক এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডা. এস এ মালেক বলেন, ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণ বলতে যা বোঝায় বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট সবকিছুই করেছে। পরাজয় নিশ্চিত জেনেই তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায় ও ঘোষণা দেয় রায় মানেন না, পুনর্নির্বাচন দিতে হবে।’

প্রবীণ এই রাজনীতিক বলেন, ‘এবার শেখ হাসিনা সরকার যে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেকেই বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা এদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চান। তিনি ভালো করেই জানেন গণতন্ত্রে বিরোধী দলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনি সেভাবেই বিরোধী দলকে দেখতে চান।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল হাসান খান বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে কমিশনের (নির্বাচন কমিশন) কাছে অনিয়মের কোনো অভিযোগ পড়েনি। তাই বলা যায় নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। তবে স্বাধীনতাবিরোধীরা এ নির্বাচনকে মেনে নিতে পারেনি। তারা স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর এসেও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তাই দেশের মানুষ তাদের আর এই দেশের মাটিতে দেখতে চায় না।’

তিনি বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে দেশের জনগণ তার প্রমাণ দিয়েছেন। এই দেশে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ অনেকে দেখেছে। এখন আগামীতে দেশকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে সেই পরিকল্পনা করতে হবে। এজন্য দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দুর্নীতি দমন করতে হবে।’

তবে দুর্নীতিবাজ দিয়ে দুর্নীতি কমানো সম্ভব না। এজন্য নিজেদের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করার পরামর্শ দেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. এস এ মালেকের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপ‌স্থিত ছি‌লেন বাংলা একাডেমির সাবেক ডিজি শামসুজ্জামান খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফায়েকুজ্জামান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আশরাফ হোসেন প্রমুখ।

এইউএ/এসআর/পিআর