‘গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সেদিন গ্রেফতার করেছিল’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:১৯ পিএম, ১৬ জুলাই ২০২২

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেছেন, ২০০৭ সালের ১৬ মে ষড়যন্ত্রকারীরা শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করেনি, গ্রেফতার করেছিল বাঙালির অনুভূতি, শক্তি, সাহস, গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে।

শনিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে নাটোরে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কামাল হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী স্বঘোষিত অবৈধ রাষ্ট্রপতি জিয়া এবং পরবর্তীতে খালেদা ২১ বছর দেশ পরিচালনা করে মানুষের ভোট ও গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। তারা বাংলাদেশকে তালেবান বানানোর ষড়যন্ত্র করেছিল, খুনিদের রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল।

‘৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সেনা অফিসারদের বিনা বিচারে হত্যা করেছিল, বাংলাদেশকে দুর্ভিক্ষের দেশ বানিয়েছিল, মঙ্গার দেশ বানিয়েছিল।’

‘জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পরে সেই বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় ফিরিয়ে এনেছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের হত্যার বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। গঙ্গার পানি চুক্তি করেছিলেন, শান্তি চুক্তি করেছিলেন। খাদ্য ঘাটতির বাংলাদেশকে খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশ বানিয়েছিলেন, বাংলাদেশকে ঘুরে দাঁড় করিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।’

‘২০০১ সালের নির্বাচনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা শেখ হাসিনার ক্ষমতায় যাওয়ার পথ রুদ্ধ করে দেয়। এরপর ক্ষমতায় আসলেন দুঃশাসনের প্রতীক খালেদা জিয়া। তিনি ক্ষমতায় আসার পর পাক হানাদার বাহিনীর মতো আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর তার সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে সারাদেশে সন্ত্রাসের তাণ্ডব শুরু করলেন।’

‘কারো বাড়ি লুট করলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে গ্রামের নিরীহ সাধারণ মানুষ অনেককেই গুম করলেন, খুন করলেন। ক্ষমতায় যাওয়ার দুই বছরের মধ্যেই ক্লিন হার্ট অপারেশনের নামে ১২৮ জন মানুষকে বিনা বিচারে হত্যা করলেন।’

‘খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক জিয়া হাওয়া ভবন ও বাংলা ভাই সৃষ্টি করে উত্তর জনপদে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেন। বিএনপির আটজন মন্ত্রী বাংলা ভাইয়ের পৃষ্ঠপোষকতা করলেন। একজন বিদেশি রাষ্ট্রদূতকে হত্যার জন্য গ্রেনেড হামলা চালালেন।’

‘বিএনপি-জামায়াতের এই দুঃশাসন ও অপশাসনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনা। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও আন্দোলন গড়ে তুললেন তিনি।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, সে সময় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ক্রীড়নক শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করলেন। তার শান্তিপূর্ণ সমাবশে ১১টি গ্রেনেড নিক্ষেপ করালেন। আল্লাহর রহমতে সেদিন শেখ হাসিনা বেঁচে গেলেও নারীনেত্রী আইভি রহমানসহ ২২ জন জীবন দিলেন। ৫০০ বোমায় ৬৩টি জেলা রক্তাক্ত করলেন, রক্তাক্ত হলো বাংলাদেশ।

‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিএনপির দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যখন গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ, তখন বিএনপি ২০০৬ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিলো। এক কোটি ২১ লাখ ভুয়া ভোটার করলেন। ১৫০ ছাত্রদলের ক্যাডারকে নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ দিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নিয়ে টালবাহানা করলেন।’

‘বিএনপির ষড়যন্ত্রের ফসল হলো ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দিনের সরকার। যারা বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করলো সেই খালেদাকে গ্রেফতার না করে, যিনি খালেদা-জামায়াতের দুঃশাসন, অপশাসন, দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করলেন সেই গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করলেন।’

‘আজকের এই দিনে আমাদের শপথ নিতে হবে, সেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিনিধি বিএনপি-জামায়াতের সব অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে মহাসাফল্যের প্রতীক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করে তাদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে।’

নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান, শহিদুল ইসলাম বকুল, রত্না আহম্মেদ ও পৌর মেয়র উমা চৌধুরী জলিসহ অনেকে।

এসইউজে/এমপি/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।