মালয়েশিয়ায় আগাম নির্বাচনের জল্পনা, রাজার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে আগাম সাধারণ নির্বাচন নিয়ে জল্পনা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এমন অবস্থায় সোমবার (১৮ মে) দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জাতীয় প্রাসাদে রাজা সুলতান ইব্রাহিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
এর একদিন আগে রোববার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার নিজেই আগাম নির্বাচন ডাকার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
রাজার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিবৃতির বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, জাতীয় প্রাসাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারের প্রধান সচিবও উপস্থিত ছিলেন। তবে আলোচনার বিস্তারিত বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, আনোয়ার ইব্রাহিমের দপ্তরও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। প্রাসাদের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, এটি ছিল নিয়মিত সাক্ষাৎ এবং রাজার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাপ্তাহিক বৈঠকের অংশ। তবে বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না বলেও উল্লেখ করেন।
মালয়েশিয়ার পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৮ সালের শুরুর দিকে। কিন্তু ক্ষমতাসীন জোটের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন এবং আসন্ন রাজ্য নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তনের আশঙ্কায় আগাম সাধারণ নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে।
রোববার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার বলেন, জোটের অভ্যন্তরীণ বিভেদ আরও বাড়লে তিনি আগাম নির্বাচন ডাকার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। বর্তমানে তার সরকার গঠিত হয়েছে তার নেতৃত্বাধীন পাকাতান হারাপান জোট, সাবেক ক্ষমতাসীন প্রভাবশালী ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (উমনো) পরিচালিত বারিসান ন্যাশনাল এবং কয়েকটি ছোট দলের সমন্বয়ে।
রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে শনিবার বারিসান ন্যাশনাল ঘোষণা দেয়, তারা আসন্ন জোহর রাজ্য নির্বাচনে পাকাতান হারাপানের সহযোগিতা ছাড়াই স্বতন্ত্রভাবে ৫৬টি আসনের সবগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আনোয়ার পাকাতান নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক ডাকার পরিকল্পনার কথা জানান এবং বলেন, তার জোট যে কোনো দলের বিরুদ্ধে নির্বাচনে লড়তে প্রস্তুত।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে সরকারের সাবেক দুই মন্ত্রী রাফিজি রামলি ও নিক নাজমি নিক আহমাদের ঘোষণা। রোববার তারা আনোয়ারের দল পিপলস জাস্টিস পার্টি (পিকেআর) ছেড়ে একটি ছোট রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, জোটের অভ্যন্তরীণ সংকট এবং অংশীদার দলগুলোর দূরত্ব বাড়তে থাকলে মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়ে উঠতে পারে।
একিউএফ/এএসএম