জাতীয় সংগীত চলাকালে চেয়ারম্যানের ওপর বিএনপি নেতার হামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৬:৪৭ পিএম, ১৯ মে ২০২৬
লাঠি হাতে তেড়ে আসেন ওই বিএনপি নেতা/ছবি-সংগৃহীত

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় এক ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতা ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ৩৬ নম্বর মধ্য সিড্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত আন্তঃ ইউনিয়ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করছিলেন সিড্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল হাদি জিল্লু। অনুষ্ঠান চলাকালে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি জসিম বেপারি ও তার অনুসারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে চেয়ারম্যান জিল্লুর উপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। হামলায় আহত হলে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের উপস্থিতিতে পরে পুনরায় ক্রীড়া অনুষ্ঠান শুরু হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সিড্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে সিড্যা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি জসিম বেপারির সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল হাদি জিল্লুর। সেই পূর্ব শক্রতাকে কেন্দ্র করে জসিম বেপারি ও তার ছেলে সিয়াম বেশ কয়েকজন লোকজন অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যানের ওপর হামলা চালান। হামলার সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় সংগীত চলাকালীন এ ধরনের ঘটনা উপস্থিত সবাইকে হতভম্ব করে দেয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগের কথা জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই চেয়ারম্যান।

জাতীয় সংগীত চলাকালে চেয়ারম্যানের ওপর বিএনপি নেতার হামলা

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল হাদি জিল্লু কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করছিলেন। হঠাৎ পাশ থেকে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি জসিম বেপারি হাতে লাঠি নিয়ে তেড়ে এসে চেয়ারম্যানকে লক্ষ্য করে আঘাত করেন। এসময় চেয়ারম্যান হাত দিয়ে নিজেকে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। পরবর্তী সময় পাশে থাকা লোকজন জসিম বেপারিকে প্রতিহত করেন। এসময় হট্টগোল শুরু হয়।

চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল হাদি জিল্লু অভিযোগ করে বলেন, ‌‘মূলত বিদ্যালয়ের জায়গা নিয়ে জসিমের সঙ্গে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরোধ ছিল। আমি সেই সালিশিতে উপস্থিত থাকায় সেই থেকে জসিম বেপারী ক্ষিপ্ত ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘অতিথিদের নিয়ে যখন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করছিলাম, ঠিক তখনই পূর্ব শত্রুতার জের নিয়ে জসিম বেপারি ও তার ছেলে সিয়াম বেশ কয়েকজন লোক নিয়ে আমার ওপর হামলা চালায় এবং অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। আমি আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি। সুস্থ হলে আইনি পদক্ষেপ নেবো।’

হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত জসিম বেপারি বলেন, ‘আমার বাপ-দাদার জমিতে এই স্কুল। আমি ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি। এখন অনুষ্ঠান আমাদের নেতা-কর্মীদের নিয়ে করবো। কারণ এখন আমাদের দল ক্ষমতায়। ও এখানে কেন আসবে? বিগত সরকারের আমলে ওরাই অনুষ্ঠান করেছে, এখনো ওরাই করবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিএনপি করি, এজন্য এই চেয়ারম্যান বিগত দিনে আমরা অনেক ক্ষতি করেছে। এজন্য একটি লাঠি নিয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু লোকজন থাকায় আঘাত করতে পারিনি।’

ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলে খেলা পুনরায় চালু করা হয়। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিধান মজুমদার অনি/এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।