অকারণে মন উদাস

মো. ইয়াকুব আলী
মো. ইয়াকুব আলী মো. ইয়াকুব আলী
প্রকাশিত: ০৬:০৫ পিএম, ০৩ মার্চ ২০২১
সংগ্রহীত

আমরা সপরিবারে অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী ভিসা পেয়েছি কিছুদিন আগে। তখন চলছিল প্রস্তুতি। ঠিক সেই সময়ে প্রিয় একজন মানুষের সঙ্গে খুদে বার্তায় কথোপকথন চলছে।

আজকের দিনটা আমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারণ এদিনে একজন বিশেষ মানুষ এই পৃথিবীর আলো দেখেছিলেন। সে এই পৃথিবীর আলোর মুখ না দেখলে আমি কখনই আজকের আমি হতে পারতাম না।

আমি ঠিকই বেঁচে থাকতাম আর দশটা মানুষের মতো যেখানে কোনো বোধ কাজ করত না। তাই আজকের দিনটাকে এখন থেকে আলাদাভাবে মনে রাখার চেষ্টা করব। ভালো থাকুক সে অহর্নিশি। তার জন্মদিনে এই অধমের পক্ষ থেকে শুকনা শুভেচ্ছা।

এত সুন্দর একটা মেসেজ কিভাবে শুকনা হলো, মেসেজের জন্য ধন্যবাদ। তবে কোনো কোনো মানুষের জীবন আলোকিত হওয়ার জন্য বাইরের আলোর দরকার নেই, তুমি তেমন একজন।

শুকনা বলেছিলাম কারণ তোমাকে সামনা সামনি বা ফোনে বা ফেসবুকে জানাতে পারছি না তাই। আমি আসলে লিখতে চেয়েছিলাম ভার্টুয়াল শুভেচ্ছা, এর কোনো ভালো বাংলা মনে আসল না তাই শুকনা লিখেছিলাম।

আর আমি মোটেও সূর্যের মতো নিজের আলোয় আলোকিত না, বরং চন্দ্রের ন্যায় অন্যের আলো ধার নিয়ে নিজের সৌন্দর্য বর্ধন করি। তবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলার মধ্যে অন্যতম তোমার মতো বন্ধু যারা একই সঙ্গে বন্ধু এবং পরামর্শদাতা। যাইহোক তুমি কেমন আছ?

ভালো আছি আবারো রাঙামাটি যাচ্ছি শুক্রবার, রোববারে পরীক্ষা আছে; এইবার হলেই শেষ। এখনকার মতো বিদায় বলতে হচ্ছে কারণ মোবাইলের চার্জ কম। ভালো থেক। ধন্যবাদ।

পরীক্ষা শেষ হয়েছে, কেমন হলো?
ভালো হয়েছে।
আলহামদুলিল্লাহ্! কখন রওয়ানা দিবা?

তুমি এত খবর নিচ্ছ কেন? তোমাকে না বলেছি এত খবর নিবা না। আজকে যাব না মনে হয়।
দুই দিন পর আর খবর নিতে পারব না হাজার ইচ্ছা হলেও, তাই এত খবর নিচ্ছি। আমার কিছুই ভালো লাগছে না, আজ থেকে ছুটি শুরু হয়েছে।

ওওও দুই দিন না তোমার যাওয়ার এখনও দেরি আছে।
সেটা ঠিক আছে কিন্তু তুমি বাসায় ফিরে গেলে খবর নিতে ভয় লাগে, না জানি তুমি আবার কোনো ঝামেলায় পড়ো। আমি আর বাবু ইচ্ছামত ঘুরে বেড়াচ্ছি।

তোমার খবর নেয়ার আগে অনেকবার চিন্তা করি আবেগ তাড়িত হয়ে কিছু বলে ফেলছি না তো? কারণ আমার কারণে তোমার একবিন্দু সম্মানহানি হোক সেটা আমি চাই না।

অনেকক্ষণ ধরে ফিরতি ক্ষুদে বার্তা না পেয়ে আমি আবারো ক্ষুদে বার্তা দিলাম।
আবার কি হলো? থেমে গেলা কেন? তুমি থেমে গেলে মনে যে কত ধরনের দুঃশ্চিন্তা জেকে বসে।

ভাই তোমার কোন কাজ নাই আর আমি এর মধ্যে অনেক কাজ করলাম, টিকিট কেটে, বই কিনে স্টেশনে মন খারাপ করে বসে আছি। আমার বান্ধবীর ছেলেটা অনেক কান্নাকাটি করছে।

ও আচ্ছা তাই বল, ট্রেন কখন ছাড়বে? কি বই কিনলা? বাবুটা কাঁদছে তুমি চলে যাচ্ছ বলে? আমিও কাঁদব। বাইরে অনেক রোদ্দুর তাই আমি টিভি আর বাবু ল্যাপটপ এ কার্টুন দেখছে।

তুমি কাঁদবা কেন? তুমিতো ৩২ পাটি দন্ত বিকশিত করে হাসতে হাসতে উড়োজাহাজে ওঠবা। ঠিক আছে, আমাকে বিরক্ত করবা না, আমি বই পড়ব-মাসুদ রানা কিনলাম, স্টেশনে অন্য বই নাই।

সময় কাটানোর জন্য মাসুদ রানা ভালো সঙ্গী, তবে সোহানা পড়লে একেবারে খাপে খাপে মিলে যেত, কি বল? ট্রেন ছাড়বে কখন, পৌছাবা কয়টাই? ট্রেন ছেড়েছে, ৯টার মধ্যে পৌছাবে, সম্ভবত।

কেমন কাকতালীয়! আমি কেবলই খুদে বার্তা লেখা শুরু করে একটা শব্দ লিখেছি মাত্র, সঙ্গে সঙ্গে তোমার খুদে বার্তা পেলাম। এইবার জানালাটা একটু খুলে দাও, বসন্তের মন উদাস করা বাতাস একটু গায়ে মাখো। বসন্তের এই বাতাসে বেশি বেশি দেশের কথা মনে পড়ছে।

জানালা খোলা, আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে আর গান শুনছি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ‘জীবন অনেক সুন্দর।’

এই সময়টাই এমন, অকারণে মন উদাস হয়ে যায়, আমের মুকুলের গন্ধে মন মাতাল হয়ে যায়, কোকিলের কুহু ডাকে প্রিয়ার কথা মনে পড়ে। এই সময় চার দেয়ালের মধ্যে নিজেকে বেঁধে রাখাই দায়, আমি এই সময় সাইকেল নিয়ে চলে যেতাম থানা পাড়ার সেই নির্দিষ্ট রাস্তায় যদি একবার তার দেখা পাওয়া যায়? কি সুন্দর স্বপ্নময় ছিল তখন!

কোথায় এখন? ঘুমাইছ না কি?

আমি ঘুমাচ্ছি না কিন্তু আমার কোলে গত ২ ঘণ্টা ধরে একজন ঘুমাচ্ছে, আমার নয় মাসের সহযাত্রী আব্দুল্লাহ, গোলগাপ্পা ধরনের। খুব দুষ্টমি করছিল, ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছি।

হা হা হা...তুমি দেখি আমার মতো, কোনো জায়গায় গেলে সবার আগে কনিষ্ঠ সদস্যের সঙ্গে ভাব হয়ে যায়। ভাগ্যবান আব্দুল্লাহ। বাবুর জন্মদিনের জন্য কিছু কিন নাই?

আব্দুল্লাহর সহযাত্রী কতদূর? যাওয়ার আগের এই কয়টা দিন খুদে বার্তা আদান-প্রদানের অনুমতি চাচ্ছি।
তুমি খুদে বার্তা দিতে পারো তবে এমন কোনো খুদে বার্তা দিবা না যাতে আমি অস্বস্তি বোধ করি। আমিও দুই সন্তানের মা আর তুমিও এক মেয়ের বাবা। আর বেশি খুদে বার্তা না দেয়াই ভালো।

এগুলো কি আর আমাকে মনে করিয়ে দিতে হবে, তবে মাঝে মাঝে তোমাকে খুব রাগিয়ে দিতে ইচ্ছা করে। কিন্তু অবচেতনভাবেও কখনও তোমাকে মানুষের কাছে এক বিন্দু পরিমাণ ছোট করার ইচ্ছা আমার নেই।

তোমার জায়গাটা আমার কাছে সম্মানের, শ্রদ্ধার। তবে আমার কারণে তোমার কোনো সমস্যা হোক এটা আমি কখনই চাই না, তাই কোন সমস্যা হলে জানাতে দ্বিধা করো না। আর তোমার সাথে মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগটা কি রাখতে পারি।

না, আমার মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে তুমি এখনও মাঝে মাঝে কলেজ জীবনে আটকে যাচ্ছ আর তুমি খুব ইমোশনাল। অন্য কারো কাছে বাদ দাও আমাকে আমার কাছে ছোট করো না।

আমার কি মনে হচ্ছে জানো, তুমি কলেজ জীবনটা নিয়ে সবসময়ই নিজেকে অপরাধি ভাবো, তাই তোমার কাছে মনে হচ্ছে আমি এখনও কলেজ জীবনে আটকে আছি। কলেজ জীবনটা আমার কাছে সুন্দর স্বপ্নের মতো যে স্বপ্নটা বারবার দেখতে ইচ্ছা করে, সেটা কিন্তু নিছক স্বপ্নই।

আর সেই স্বপ্নে তোমার অবস্থান অনেক উপরে, যেখান থেকে আমি কখনই তোমাকে নামাতে চাই না। তাহলে স্বপ্নটার সৌন্দর্য মলিন হয়ে যাবে। আর একটা ব্যাপার আমি যেমন আবেগি তেমনি বাস্তবতাও কিছুটা বুঝি।

তাই এটা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করো না। আর অবসর আমার জন্য দুঃর্বিসহ, কিন্তু ব্যস্ত থাকলে আমি অনেক প্র্যাকটিকাল। তাই খুদে বার্তা দেয়ার সুযোগও তেমন পাব না। মেইল আদান প্রদান কি করতে পারি।

আর আমার লেখালেখির অনুপ্রেরণা যেমন তুমি, ঠিক তেমনি গুরুও বটে, একই সঙ্গে সমালোচকও, তাই আমার প্রত্যেকটা লেখা তোমাকে সবার আগে পড়ায়, তুমি ছাড়পত্র দিলে তবেই পোস্ট করি।

দেশ ছেড়ে আসার আগে ঠিক এভাবেই প্রিয় মানুষটার সঙ্গে আলাপ হত। সাধারণত আমার দীর্ঘ বার্তার প্রতুত্তরে সে সামান্য কিছু বলে। বেশিরভাগ সময় আমিই বকবক করি। এইবার তার কাছ থেকেই প্রথম বার্তা পেলাম।

তোমারতো কাউন্ট ডাউন শুরু হয়ে গেছে, আর মাত্র সাতদিন। দেশের বাড়িতে গিয়েছিলা? না কি আব্বা মা ঢাকায় আসবে?

আমরা কুষ্টিয়া যেতে পারি নাই, আব্বা মার আসার কথা আছে। তোমারতো কোন খবর নাই, তুমিতো আবার ডুমুরের ফুল হয়ে গেলা? আমি ভালই দৌড়ের উপর আছি।

আমার একটা লিউকোমিয়া রোগী আছে ১৮ বছর বয়স্ক, আমার ওর সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করে আবার ওর দিকে তাকালে কান্নাও পায়। ওর হাতে হয়তো আর ৩ মাস সময় আছে...

তোমার খুদে বার্তাটা পাওয়ার পর থেকেই চোখের পানি তার বাধ ভেঙে ফেলতে চাইছে। কিছু মানুষের সামান্য কথাতেই সব কিছু বলা হয়ে যায়, এমন অর্থপূর্ণ রূপকধর্মি কথা আমি এর আগে কখনই শুনি নাই! আমিও মাঝে মাঝে পরম করুণাময়ের উপর অনেক রেগে যায়, কেনো তিনি কিছু কিছু মানুষের জীবনকে এমনভাবে সাজান?

তবে উনিই যেহেতু সব কিছু জানেন তাই নিশ্চয় এর মধ্যেও হয়তো মানব জাতীর জন্য কল্যাণ নিহিত আছে। আমিও এর আগে এক শিশুকে রক্ত দিয়েছিলাম, যাকে নিয়মিত রক্ত দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে।

আমি দু-একটা কোমল কথা বলতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু বাবুটার চোখের দিকে তাকিয়ে আর কিছুই বলা হয়ে ওঠেনি। সেই চোখের চাহনি আজো আমাকে তাড়া করে ফেরে। কয়েকদিনের বিরতিতে আবারো তাকে ক্ষুদে বার্তা পাঠালাম।

অনেকদিন পর আজ নামাজ পড়লাম এখন একটু ভালো লাগছে। একটা খুদে বার্তা দেয়ার পর থেকেই দুঃশ্চিন্তা কাজ করতে থাকে, না জানি আবার কোন নতুন ভেজালে তোমাকে ফেলে দিলাম, শেষে উত্তর পেয়ে হাফ ছেড়ে বাঁচি। আমার এখন অখণ্ড অবসর, তুমি চাইলে খুদে বার্তা দিতে পারো, তবে অবশ্যই নিজের কাজকর্ম ঠিক রেখে। তোমার আর আমার খুদে বার্তায় কথা বলাটা খুব মিস করবো বিদেশে গিয়ে।

তোমার খুদে বার্তা এবং সেই সঙ্গে তোমার মোবাইল নম্বরটাও মুছে ফেলেছিলাম। কি অবস্থা, গোছানো শেষ?

এটা ঠিক না। তোমার সাথে আড়ি। তুমি পচা মেয়ে? গোছানো চলছে। ওখানে জীবন অনেক কঠিন হবে, একটু আগে এক বড় ভাই ফোন দিয়ে সেটাই বলল। অমানসিক খাটুনির জন্য মানসিকভাবে তৈরি হতে বললেন। এখন তোমাকে সত্যি কথাটা বলেই ফেলি, আমি মনে মনে আসলেই ভয় পাচ্ছি। একটু দোয়া করো আমার জন্য।

জীবন সব জায়গায়ই কঠিন, আমিতো সারাদিন দৌড়ায়, আমার কোন শুক্রবার নেই, ও ঢাকায় যাওয়ার পর থেকে আরো বেশি ব্যস্ত, আগে ও সাহায্য করতো, তুমিও পারবা, বাঙালি সব পারে।

তোমার মুখে ফুল চন্দন পড়ুক। আসলেই বাঙালি সব পারে। আসলে পরিস্থিতিই সব কিছু শিখিয়ে দেয়। তবে আমার চার পাশে সাহায্য করার জন্য সবসময়ই কিছু মানুষ সব সময়ই তৈরি ছিল, কিন্তু ওখানে তারা থাকবে না। এটাই আমার ভয়ের কারণ। আর পরিবেশটাও পুরোপুরি অপরিচিত।

আগে আমার আত্মবিশ্বাস ছিল যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার কিন্তু ইদানিং অলস হয়ে গেছি। তবে আমার কাছে সব কাজই কাজ, তাই আশা করি সমস্যা হবে না।

বাচ্চাদের জন্য ওটা একেবারে স্বর্গরাজ্য তাই ওর দিকে চেয়ে হলেও আমরণ যুদ্ধ চালিয়ে যাব। এক আত্মীয়ের বাসায় বিদায়ী দাওয়াত খেতে এসেছি, এটা ভালই উপভোগ করছি। নামাজও পড়লাম, তাই মনটা ভালো।

তোমার কি খবর?
এরপর এক রাতে তাকে আবার ক্ষুদে বার্তা পাঠালাম।
ঘুমাও নাই?

রাত জেগে ফেসবুকিং, পাগলের ডাক্তার দেখানো দরকার?
পচা!
দুঃখিত। ঘুম পাচ্ছিল এই জন্য আর খুদে বার্তা দেই নাই, ক্লান্তও ছিলাম। তোমার কি খবর? বাচ্চার কিছু ওষুধ বাড়তি নিয়ে নিও।
‘ঘুম পাচ্ছি, ঘুমাতে যাব’ এটুকু অন্তত লিখতে পারতা? আমার খবর ভালই, সময় খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে। বাবুতো ওখানে সব কিছুই বিনামূল্যে পাবে। তুমি কেমন আছ?

হু জানি... কিন্তু আমি এমনই। মাঝে মাঝে আমি ডুব মারি...তখন কথা বলতে ভালো লাগে না, তুমি আর মাত্র ৪ দিন আছো, তাই এত খুদে বার্তা দেয়ার কি আছে? ওখানেতো অর্ধেক চলেই গেছো।

এটা ভালো অভ্যাস। ছাত্রজীবনে আমিও মাঝে মাঝে এভাবে ডুব মারতাম। এতে চারপাশের কোলাহল থেকে নিজেকে আলাদা করে একটু স্বস্তিতে দম ফেলা যায়। একটা কথা আছে না, শেষ হইয়াও হইলো না শেষ। তেমনি এত খুদে বার্তা দেয়ার পরেও মনে হচ্ছে যদি আর একটু কথা বলতে পারতাম।

আসলে কেউই চায় না সুন্দর স্বপ্নটা দ্রুত ভেঙে যাক, মনে হয় আরো একটু দীর্ঘায়িত হলে ভালো হত। ওখান থেকে যদি মাঝে মাঝে খুদে বার্তা দেয়, তুমি কি রাগ করবা? আসলে কেউই চায় না একজন নিঃস্বার্থ ভালো বন্ধুকে হারাতে। তার দিক থেকে ক্ষুদে বার্তা আসতে দেরি দেখে আবারো তাকে ক্ষুদে বার্তা পাঠালাম।

ও ডুমুরের ফুলের দেবী, আবার কি ডুব দিলেন? ভালো ভালো, আমি চলে গেলে আপনাকে আর কেউ বিরক্ত করতে আসবে না, আর ডুবও দেয়া লাগবে না? আর তো মাত্র ৩টা দিন!

আমাকে ডুব দিয়েই থাকতে দাও, এত্ত এত্ত দুর্নীতি আর ভালো লাগে না, কি অসহায় আমাদের রোগীগুলো...ডুব দেয়াটা সমাধান না, কিছু করতেই হবে।

চারদিকে এত্ত এত্ত দুর্নীতির মাঝেও তোমার আমার মত মানুষও আছে। উটপাখির মতো ঝড় আসলে মাটির মধ্যে মাথা গুঁজে শান্তি খোঁজাটা যেমন বোকামি, তেমনি ঝড় দেখে পালিয়ে শান্তি খোজাটাও কাপুরুষতা, যেমন আমি। তোমার এই যুদ্ধ করার স্পৃহাটা অটুট থাকুক সারাটা জীবন, দূর থেকে তোমার জন্য এই দোয়া করি, এবং আমি জানি তুমি এটা পারবা। শুধু মনে সাহস রেখো। আল্লাহ্ তোমার সহায় হোন, আমীন। আমি একটু একটু করে সব গোচাচ্ছি।

বিদেশে আসার আনন্দ না কি দেশ ছাড়ার দুঃখ কোনটা আসলে বড়। কোনটা আসলে আমাদেরকে বেশি আলোড়িত করে। আমার ক্ষেত্রে এই দুটোই সমান ক্রিয়া করছে। মাথার মধ্যে তখন এক ধরনের ঝিমুনি কাজ করত। কোন কিছু স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করতেও পারতাম না। তাই বারবার তাকে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে বিরক্ত করতাম।

এই চার দেয়াল আমার দেশ? আমার একলা থাকার অভ্যাস?
খুদে বার্তার মানে বুঝলাম না, বুঝতে পারছি বিদেশ যাওয়ার আনন্দে তোমার মাথা আউলায়ে গেছে।
সুখে থাকতে ভুতে কিলায়, ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি হয়ে থাকলে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। তখন বাইরের দুনিয়ার সাথে যোগাযোগ করার জন্য ফেসবুক আর মোবাইলের জানালা খুলে বসি। তুমি আমার সেই জানালা যেটা দিয়ে প্রশান্তির বাতাস আসে।

তাই সময়ে অসময়ে তোমাকে বিরক্ত করি। কিছুই ভালো লাগছিলো না তাই তোমাকে ওই খুদে বার্তাটা দিয়েছিলাম। আর আমি মোটেও খুশিতে টগবগ হয়ে বিদেশ যাচ্ছি না, ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য যাচ্ছি, হু। মন মেজাজ কি এখন একটু ভালো?

৩ দিন পর রঙিন দুনিয়া, এমনিতেই মন ভালো হয়ে যাবে, বিদেশ যাচ্ছ ভালোভাবে বাঁচার জন্য তার মানে এখানে মৃতপ্রায় ছিলে? আজব! আমি বললেই শুধু দোষ...আজব দুনিয়া! ঠিক আছে আমি এখন ঘুমাবো, আমি সুখি মানুষ শেষ ঘুমের রেকর্ড ছিল ১১ সেকেন্ড, খুদে বার্তা দিতে দিতেও ঘুমিয়ে যেতে পারি তাই খোদা হাফেজ, শুভ রাত্রি, শাব্বা খায়ের।

এমআরএম/এএসএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]