পর্তুগালে তৃতীয় ধাপের লকডাউন শিথিল, স্বস্তিতে প্রবাসীরা

ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী
ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী
প্রকাশিত: ০২:২৯ পিএম, ১৯ এপ্রিল ২০২১

পর্তুগালে কার্যত তিন মাস সবকিছু বন্ধ থাকার পর তৃতীয় ধাপে বড় আকারে শিথিল হচ্ছে লকডাউন। ১৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও কস্তা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তৃতীয় ধাপের শিথিল লকডাউনে ১৯ এপ্রিল থেকে খুলছে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং শপিং সেন্টার, রেস্তোরাঁ, ক্যাফে এবং প্যাস্ট্রি শপ (সর্বাধিক চারজন বা বহিঃপ্রাঙ্গণে প্রতি টেবিলে ৬ জন), রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত (অথবা সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এবং পাবলিক ছুটির দিনে দুপুর ১টা), মাধ্যমিক, বিশ্ববিদ্যালয়।

সংশ্লিষ্ট উচ্চশিক্ষা সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানসমূহ, মাঝারি ঝুঁকির ক্রীড়া কার্যক্রম দীর্ঘসময় ধরে বন্ধ থাকা সিনেমা, থিয়েটার, অডিটোরিয়াম, কনসার্ট হল; নাগরিক সেবা কেন্দ্র (পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের মাধ্যমে), ছয়জন পর্যন্ত বহিরঙ্গন শারীরিক কার্যকলাপ, স্বল্প উপস্থিতিসহ বহিরাঙ্গন ইভেন্ট (১০০ বর্গমিটার এরিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচজন), বিবাহ ও অন্যান্য অনুষ্ঠানগুলি অনুষ্ঠানস্থলের সর্বমোট ধারণক্ষমতার সর্বোচ্চ ২৫% লোক সমাগমসহ আয়োজন করা যাবে।

চারটি সিটি করপোরেশন খুবই মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে অর্থাৎ প্রতি ১ লাখ জনগণের মধ্যে ঘরে ২৪০ জনের বেশি নতুন আক্রান্ত। ফলে উক্ত চারটি সিটি করপোরেশন সম্পূর্ণরূপে প্রথম ধাপের লকডাউন এ ফিরে যাবে অর্থাৎ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য এর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে এবং রেস্টুরেন্টে শুধুমাত্র হোম ডেলিভারি এবং টেকওয়ে থাকবে এবং জনগণের চলাচলের উপর বিধিনিষেধ রয়েছে।

সাতটি সিটি করপোরেশনে বর্তমান অবস্থা বজায় থাকবে অর্থাৎ ১৯ এপ্রিল লকডাউন শিথিল হচ্ছে না। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে পর্তুগাল ভ্রমণে আসলে ১৪ কোয়ারেন্টাইন করতে হবে। যথারীতি প্রতিবেশী দেশ স্পেনের সঙ্গে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সীমান্ত বন্ধ থাকবে।

তবে প্রয়োজনে নির্দিষ্ট পয়েন্টের মাধ্যমে চলাচল করা যাবে। জরুরি অবস্থা আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেলো ডি সজা বলেছেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে হয়তো বা এটিই দেশব্যাপী শেষ জরুরি অবস্থা।

লকডাউন শিথিল করার খবরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর বর্তমানে ব্যবসা বণিজ্য এবং কাজকর্ম স্বাভাবিক হলে সামনের ঈদ উৎসবে প্রিয়জনের মুখে সামান্য হলেও হাসি ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হবে।

এমআরএম/জেআইএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]