পাকিস্তানে জাতীয় শোক দিবস পালন

প্রবাস ডেস্ক
প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৩৪ পিএম, ১৫ আগস্ট ২০২২

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশন। সোমবার (১৫ আগস্ট) দিবসটি উপলক্ষে দূতালয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করা হয়।

হাইকমিশনের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও তাদের পরিবার এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সবাই কালো পোশাক পরেন ও কালোব্যাজ ধারণ করেন। এদিন সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. রুহুল আলম সিদ্দিকী।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন হাইকমিশনার ও দূতালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাতে দূতালয়ে কোরানখানির আয়োজন করা হয়। এ সময় অংশ স্থানীয় একটি মাদরাসার ১৫ জন হাফেজ অংশ নেন।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে স্মরণসভার সূচনা হয়। এরপরে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পাঠানো বাণী পড়ে শোনানো হয়। আলোচনা পর্বে বক্তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান, জীবন ও কর্মের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো তুলে ধরেন। তারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেন।

হাইকমিশনার মো. রুহুল আলম সিদ্দিকী শোকাবহ এ দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে শাহাদতবরণকারীদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা ও মহান স্বাধীনতার রূপকার। তার আপসহীন নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন, সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, শিক্ষা কমিশনবিরোধী আন্দোলন, ৬৬ এর ৬ দফা, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এবং ৭০ এর নির্বাচনসহ বাঙালির মুক্তি ও অধিকার আদায়ের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বাঙালির মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন।

‌‘বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধে সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত ও অর্থনীতিতে পশ্চাৎপদ বাংলাদেশের নেতৃত্ব নিয়ে মাত্র সাড়ে তিন বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের কাজ শেষ করে দেশকে একটি দারিদ্র্যমুক্ত, শোষণ-বঞ্চনাহীন ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণের কাজ শুরু করেন। তিনি বৈরি বৈশ্বিক পরিবেশে, এ স্বল্প সময়ে ১১৬টি দেশের স্বীকৃতিসহ জাতিসসংঘে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন ও ইসলামী সম্মেলন সংস্থার সদস্যপদ লাভ করেন।’

হাইকমিশনার বলেন, মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত স্বাধীনতাবিরাধী মহলের ষড়যন্ত্রে কিছু বিপথগামী কুচক্রী বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে দেশের অগ্রগতিকে রুদ্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীদের এ চক্রান্ত বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে সাময়িকভাবে থামিয়ে দিলেও চিরতরে রুদ্ধ করে দিতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল ও ২০০৯ থেকে ধারাবাহিকভাবে মানুষের ভাগ্যেন্নয়নে কাজে করে যাচ্ছেন। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ ‘রূপকল্প ২০২১’ সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি জ্ঞান ভিত্তিক মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে এবং ‘সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষমাত্রা’ অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, গত ১৩ বছরে আর্থ-সামাকিজ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের সারিতে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। বর্তমানে তিনি তার সরকারের ‘রূপকল্প ২০৪১’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি স্বনির্ভর, উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যন্য মাইলফলক পদ্মা সেতু এরই মধ্যে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

‘এছাড়াও রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, উড়াল সড়ক, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেলসহ বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্পের কাজ শিগগির শেষ হবে। অর্থনৈতিক অগ্রগতিসহ দারিদ্র্য বিমোচন, টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, নারীর ক্ষমতায়ন, মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে তার স্বীকৃতি হিসাবে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে ‘উন্নয়নের রোল মডেল’ স্বীকৃতি লাভ করেছে।’

জাতীয় শোক দিবসে জাতির পিতাকে হারানোর শোককে শক্তিতে রূপান্তর ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

আলোচনা শেষে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মভিত্তিক ‘মুজিব আমার পিতা’ শিরোনামে একটি প্রামাণ্য ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। শেষে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের রুহের মাগফেরাত এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

এমআরএম/এমএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]