মালয়েশিয়ায় বাড়ছে অপহরণ: শিকলে বাঁধা বাংলাদেশিকে উদ্ধার

আহমাদুল কবির
আহমাদুল কবির আহমাদুল কবির , মালয়েশিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:০৯ এএম, ১৫ অক্টোবর ২০২২
শিকলে বাঁধা অপহৃত বাংলাদেশিকে উদ্ধার

শিকলে বাঁধা অপহৃত এক বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে মালয়েশিয়া পুলিশ। অপহরণের চারদিন পর পরিত্যক্ত একটি বিল্ডিং থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় একটি শ্রমিক হোস্টেল থেকে ৩৪ ও ৪৩ বছর বয়সী দুই বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সম্প্রতি অপহৃত মালয়েশিয়াপ্রবাসী সোহেল মিয়ার (৩৯) মরদেহ উদ্ধারের রেশ কাটতে না কাটতেই শিকলে হাত-পা বাঁধা অপহৃত আরেক বাংলাদেশিকে উদ্ধার করলো দেশটির পুলিশ। একের পর এক অপহরণের ঘটনায় মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রবাসী কর্মীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

১৪ অক্টোবর কুয়ালালামপুর সেন্টুল জেলা পুলিশের প্রধান এসিপি বেহ এং লাই এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার সেরি কামবাগানের পরিত্যক্ত একটি বিল্ডিং থেকে শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ওই বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়। অপহরণকারীরা অপহৃতের মোবাইল ব্যবহার করে বাংলাদেশে পরিবারকে ফোন দিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।

মুক্তিপণ না দিলে মেরে ফেলার হুমকিও দেয় অপহরণকারীরা। এরপর থানায় অভিযোগ দায়েরের পর বাংলাদেশিকে উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা শুরু করে পুলিশ।

এ ঘটনায় গত ১০ অক্টোবর অপহরণচক্রের মূলহোতাসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই বাংলাদেশি ও স্থানীয় তিন নাগরিকসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর পুলিশ ৪৫ বছর বয়সী ওই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে।

পুলিশের ধারণা, গত ৭ অক্টোবর ওই পাঁচজনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর বাংলাদেশে তাদের পরিবারের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা।

এছাড়া অপহরণের সময় ব্যবহৃত ছয়টি মোবাইল ফোন এবং একটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। অপহরণকারী দুই বাংলাদেশিকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় তিন নাগরিককে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অপহরণের জন্য দণ্ডবিধির ৩৬২ ধারায় মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান এসিপি বেহ এং লাই।

অপহরণের ১১ দিন পর বাংলাদেশি সোহেল মিয়ার (৩৯) মরদেহ উদ্ধার

অপহরণের ১১ দিন পর গত ৬ অক্টোবর মালয়েশিয়াপ্রবাসী সোহেল মিয়ার (৩৯) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রাজধানী কুয়াললামপুর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে সেলাঙ্গর রাজ্যের সেরিকাম বাগানের তামিং জায়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ১০ নম্বর রোডের একটি কারখানার পেছনের জঙ্গল থেকে সোহেলের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় কাজাং থানা পুলিশ।

কাজাং ওসিপিডির সহকারী কমিশনার মোহম্মদ জাইদ হাসান বলেন, মরদেহে পচন শুরু হয়েছিল এবং হাত ও মুখ টেপ দিয়ে বাঁধা ছিল। অপহরণের ঘটনায় আটক চার প্রবাসী বাংলাদেশির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির সূত্র ধরে সোহেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোহেলের মামা মিজানের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে কাজাং থানা পুলিশ অভিযান শুরু করেছিল।

অপহৃত সোহেল মিয়া ৩৯, (মৃত) ছবি সংগৃহীত

৭ অক্টোবর সকালে সারডাং হাসপাতালে মরদেহ নিয়ে আসার পর সোহেলের মামা মিজান তার মরদেহ শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালে রাখা হয়। গত ২৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে কুয়ালালামপুরের তামিলজায়া এলাকায় নিজ বাসার কাছ থেকে সোহেল মিয়াকে অপহরণ করা হয়।

তাকে মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়ায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের বরিশালের একটি ব্যাংকের শাখার মাধ্যমে অপহরণকারীদের দাবি করা পাঁচ লাখ টাকার মুক্তিপণও পাঠায় তার পরিবার। কিন্তু এরপরও মুক্তি না পাওয়ায় মালয়েশিয়ায় ২টি ও দেশে ১টি মামলা করে সোহেলের পরিবার।

সোহেল টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দক্ষিণ ধলাপাড়া গ্রামের মরহুম আহমেদ মিয়ার ছেলে। ১৫ বছর ধরে তিনি মালয়েশিয়াপ্রবাসী। সেখানে তিনি একটি কারখানায় কাজ করতেন।

কাজং পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৫ অক্টোবর বিকেলে বেরানং এলাকা থেকে ২ বাংলাদেশি এবং পরদিন সেমেনিহে এলাকা থেকে আরও ২ বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারদের মধ্যে মামুন শিকদার ও আলমগীরের নাম প্রকাশ হলেও তদন্তের স্বার্থে বাকি দুইজনের নাম এখনো জানায়নি পুলিশ। গ্রেফতারদের আগামী সপ্তাহে আদালতে নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

একই ঘটনায় গত ৪ অক্টোবর বরগুনা থেকে মুক্তিপণের টাকাসহ নাসির উদ্দিন (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানায় সোহেলের বোন-জামাই বিল্লাল হোসেনের দায়ের করা অপহরণ মামলার সূত্রে নাসিরকে গ্রেফতার করা হয়।

বুধবার ঘাটাইল থানা পুলিশের সাতদিনের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে নাসিরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

একেরপর এক অপহরণের ঘটনায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবাসী বলেন, করোনার সময় প্রবাসীরা একটু শান্তিতে থাকলেও এখন আবার অপহরণের ঘটনা শোনা যাচ্ছে। প্রবাসে এমন ঘটনায় দেশের মান ক্ষুন্ন হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এর মাত্রা বৃদ্ধি পাবে এমন শঙ্কায় রয়েছেন প্রবাসীরা।

এমআরএম/এএসএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]