শিরকমুক্ত ঈমান কেন প্রয়োজন?

ধর্ম ডেস্ক
ধর্ম ডেস্ক ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:২৭ পিএম, ০৪ মার্চ ২০১৯

দুনিয়া ও পরকালের সফলতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস কী? কিসের ভিত্তিতে মানুষের দুনিয়ার কল্যাণ এবং পরকালের সফলতা নির্ভর করে? আল্লাহ তাআলা এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির কথা কুরআনে বার বার উল্লেখ করেছেন।

যে জিনিসের ফলে দুনিয়া ও পরকালের সব কাজের কৃতিত্ব ও কর্মফল নির্ভর করে তা হলো বিশুদ্ধ ঈমান। আল্লাহ ও তার রাসুলের প্রতি শুধু পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের মৌখিক স্বীকৃতিই নয় বরং পাশাপাশি সে বিশ্বাসকে কাজে বাস্তবায়ন করা। আর তখনই মানুষ হয়ে ওঠবে বিশুদ্ধ ঈমানের অধিকারী।

এ বিশুদ্ধ ঈমান-ই আল্লাহর কাছে মানুষের সব আমল ও ইবাদত গ্রহণযোগ্য হওয়ার প্রথম ও একমাত্র শর্ত। তাই কাজ যত ভালোই হোক না কেন; আত্মতুষ্টি উপলব্দি করার কোনো সুযোগ নেই। ফলাফল লাভে বিশুদ্ধ ঈমান একান্ত জরুরি। কেননা ঈমানবিহীন কোনো আমল তথা ভালো কাজই আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না।

শিরকমুক্ত ঈমানের প্রাপ্তি প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন-

- ‘যদি কোনো পুরুষ বা নারী ভালো কাজ করে এবং সে ঈমানদার হয়, আমি অবশ্যই তাদেরকে (দুনিয়াতে) পবিত্র জীবন দিয়ে জীবিত রাখবো এবং (আখিরাতে) তাদের ভালো কাজের সর্বোত্তম পুরষ্কার দেব।’ (সুরা সুরা নহল : আয়াত ৯৭)

অবিশ্বাসীদের উদ্দেশ্যে আল্লাহ বলেন-

- যদি জনপদের মানুষ ঈমান আনতো এবং আল্লাহকে ভয় করতো তবে আমি তাদের জন্য আকাশমণ্ডলী এবং জমিনের বরকত ও কল্যাণসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম। কিন্তু তারা অবিশ্বাস করলো, কাজেই আমি তাদের কর্ম অনুযায়ী প্রতিদান দান করলাম।’ (সুরা আরাফ : আয়াত৯৬ )

সুতরাং আল্লাহ তাআলা ঈমানদারকে উপদেশ প্রদান করেন বলেন-

- ‘এবং যে ব্যক্তি পরকালীন জীবনের কল্যাণ চায়, সে জন্য চেষ্টা করে এবং সে বিশ্বাসী বা মুমিন হয়; তবে তাদের চেষ্টা ও কর্ম কবুল করা হবে।’ (সুরা বনি ইসরাইল : আয়াত ১৯)

- সময়ে কসম! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে আছে। তারা ছাড়া, যারা ঈমান আনে এবং ভালোকাজ করে।’ (সুরা আসর : আয়াত ১-৩)

আল্লাহর বন্ধুত্ব ও সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমও বিশুদ্ধ ঈমান। তাইতো তিনি বিশুদ্ধ ঈমানদারকেই তার বন্ধু হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তাদেরকে অভয় দিয়ে বলেন-

- সাবধান! (জেনে রেখো), আল্লাহর বন্ধুদের ভয় নেই, তারা চিন্তাগ্রস্তও হবে না। যারা (বিশুদ্ধ) ঈমান গ্রহণ করেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে। তাদের জন্য সুসংবাদ দুনিয়ার জীবনে এবং পরকালের জীবনে। কখনোই আল্লাহর কথায় কোনো হের-ফের হয় না। আর এটাই মহাসফলতা।’ (৬২-৬৪)

পরিশেষে…

মানুষের জীবন ব্যবস্থায় ইসলাম যেমন স্বচ্ছ ও সত্য তেমনি কুরআনের বাণীও চিরন্তন সত্য। আর মহান আল্লাহর চিরসত্য ঘোষণাতেই বিশুদ্ধ ঈমানের প্রয়োজনীয়তা ওঠে এসেছে। যেখানে এ কথা সুস্পষ্ট যে, ঈমানবিহীন মানুষের সব কর্মই ব্যর্থ।

আল্লাহ তাআলা মানুষকে দুনিয়া ও পরকালের যাবতীয় কল্যাণ ও সফলতায় শিরকমুক্ত ঈমানের অধিকারী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/এমকেএইচ