জুমার খুতবা

কীভাবে কাটাবেন মাহে রমজান

ইসলাম ডেস্ক
ইসলাম ডেস্ক ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:১১ পিএম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কীভাবে কাটাবেন মাহে রমজান

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সময় ও যুগের বিবর্তনকারী। তিনিই সেই সত্তা যিনি রমজান মাসকে অন্য সব মাসের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং এই মাসে আমলের সওয়াবকে সত্তর গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে দিয়েছেন। আমি তাঁর প্রশংসা করছি, যিনি প্রশংসিত ও কৃতজ্ঞতাভাজন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি পরম দয়ালু ও অতিশয় ক্ষমাশীল। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা, আমাদের নবী ও আমাদের অভিভাবক মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসুল, যিনি হাশরের ময়দান ও পুনরুত্থানের দিনের মানুষের নেতা। আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সেই সকল সাহাবিদের ওপর যারা নির্দেশ পালনে এবং নিষিদ্ধ বিষয় বর্জনে সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন।

আম্মা বা’দ

হে মুসলমান ভ্রাতৃবৃন্দ! এটি মহিমান্বিত রমজান মাস। এটি রহমত ও বরকতের মাস, এটি ক্ষমা ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস। এটি ধৈর্য ও সহমর্মিতার মাস এবং এটি নেক আমলের প্রতিযোগিতার মাস। হজরত উবাদা ইবনে সামেত (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) একদিন বললেন, তোমাদের কাছে রমজান এসেছে, যা একটি বরকতময় মাস। আল্লাহ তোমাদেরকে এই মাসে রহমত দিয়ে ঢেকে দেন, ফলে তিনি রহমত নাজিল করেন, গুনাহসমূহ মোচন করেন এবং দোয়া কবুল করেন। আল্লাহ এই মাসে তোমাদের আমলের প্রতিযোগিতার দিকে দৃষ্টিপাত করেন এবং ফেরেশতাদের কাছে তোমাদের নিয়ে গর্ব করেন। অতএব তোমরা নিজেদের পক্ষ থেকে আল্লাহকে কল্যাণ দেখাও। কেননা সেই ব্যক্তিই হতভাগ্য, যে এই মাসে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হলো। (তাবারানি)

হে ভ্রাতৃবৃন্দ! নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের ওপর এই মাসের রোজা ফরজ করেছেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের জন্য তারাবিহ নামাজ সুন্নত করেছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো। (সুরা বাকারা: ১৮৩)

নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা রমজানের রোজা ফরজ করেছেন এবং আমি তোমাদের জন্য এর কিয়াম (তারাবিহ) সুন্নত করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি ইমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রোজা রাখবে এবং কিয়াম করবে, সে তার গুনাহ থেকে এমনভাবে পবিত্র হয়ে বের হবে যেন আজই তার মা তাকে জন্ম দিয়েছেন। (মুসনাতে আহমদ, সুনানে নাসাঈ)

হে ভ্রাতৃবৃন্দ! নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা রোজাকে আজাব থেকে বাঁচার ঢাল বানিয়েছেন। নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘রোজা একটি ঢাল, যতক্ষণ না সেটিকে ছিদ্র করা হয়।’ আর মিথ্যা, গিবত (পরনিন্দা) ও অন্যান্য নাফরমানি দ্বারা এটি ছিদ্র হয়ে যায়। এই কারণেই নেককারগণ বলেছেন, রোজার বিশুদ্ধতার জন্য ছয়টি আদব রয়েছে:

  • ১. কুৎসিত বিষয় থেকে চোখ নিচু রাখা।
  • ২. অনর্থক বিষয় থেকে কানকে বাঁচিয়ে রাখা।
  • ৩. মিথ্যা, গিবত, অসার কথা ও অন্যান্য বিষয় থেকে জিহ্বাকে হেফাজত করা।
  • ৪. গুনাহের কাজ থেকে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে বাঁচিয়ে রাখা।
  • ৫. ইফতারের সময় পেট ভরে না খাওয়া, যদিও তা হালাল খাবার হয়।
  • ৬. নিজের রোজা কবুল হওয়া নিয়ে ভয় ও আশার মধ্যে থাকা।

নবী (সা.) এই মাসে চারটি কাজ বেশি বেশি করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন। তিনি বলেছেন, তোমরা এই মাসে চারটি কাজ বেশি বেশি করো। দুটি কাজ এমন যা দ্বারা তোমরা তোমাদের রবকে সন্তুষ্ট করবে এবং দুটি কাজ এমন যা ছাড়া তোমাদের কোনো উপায় নেই। যে দুটি কাজ দ্বারা তোমরা তোমাদের রবকে সন্তুষ্ট করবে তা হলো, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-র সাক্ষ্য দেওয়া এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। আর যে দুটি কাজ ছাড়া তোমাদের কোনো উপায় নেই তা হলো, আল্লাহর কাছে জান্নাত প্রার্থনা করা এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া।

আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম। আল্লাহ তাআলা বলেন, রমজান মাসই সেই মাস যাতে কোরআন নাজিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হেদায়াত এবং সত্য-মিথ্যার স্পষ্ট প্রমাণ। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এই মাসটি পায়, সে যেন অবশ্যই রোজা রাখে। (সুরা বাকারা: ১৮৫)

আল্লাহ আমাদেরকে কোরআনের মাধ্যমে বরকত দান করুন, এতে যে আয়াতসমূহ ও সুস্পষ্ট বাণী রয়েছে তার দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন। আর আমার ও আপনাদের জন্য এবং সকল মুসলমানের জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

ওএফএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।