জাকাত কার্যকরভাবে বণ্টনে প্রধানমন্ত্রীকে যে পরামর্শ দিলেন আহমাদুল্লাহ
জাকাত কার্যকরভাবে বণ্টনের বিষয়ে পরামর্শ নিতে জনপ্রিয় ইসলামিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজকর্মী শায়খ আহমাদুল্লাহকে সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে ডেকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। এসময় তার পাশে ছিলেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
এই সমাজকর্মী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল যে জাকাতকে কীভাবে আরও কার্যকরভাবে বণ্টন করা যায় (তা জানতে)। বাংলাদেশে জাকাত সংগ্রহের যে অপার সম্ভাবনা আছে, সেই সম্ভাবনা ব্যবহার করে দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাতকে প্রত্যক্ষভাবে কীভাবে যুক্ত করা যায় এবং আরও সফলভাবে জাকাত ব্যবস্থাপনা করা যায়, সে বিষয়ে পরামর্শ এবং মতবিনিময়ের জন্য তিনি আমাকে ডেকেছেন।’
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের অভিজ্ঞতা
শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, তারা আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে জাকাত নিয়ে কাজ করছেন গত ছয়-সাত বছর ধরে। শুধু গত এক বছরের হিসাব অনুযায়ী, তারা ১৩ কোটি টাকা খরচ করে দুই হাজার ১০০ বেকার তরুণ-তরুণীকে পৃথকভাবে দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এখন সেই বেকার তরুণরা গত এক বছরে ৪২ কোটি টাকা আয় করেছেন। প্রতি বছর এটি আস্তে আস্তে বাড়বে বৈ কমবে না।
‘জাকাতের অর্থে দক্ষতা উন্নয়ন করে বা স্বাবলম্বী করে স্থায়ী দারিদ্র্য বিমোচনের পথে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের কিছু অভিজ্ঞতার জায়গা আছে। সেই জায়গা থেকে আমরা কিছু পরামর্শ, কিছু মত দেওয়ার চেষ্টা করেছি প্রধানমন্ত্রীকে এবং সেই মতগুলো তিনি শুনে খুবই খুশি হয়েছেন,’ যোগ করেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।
বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি গঠন
তিনি জানান, সরকারের জায়গা থেকে কীভাবে আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খলভাবে জাকাত বণ্টন করা যায়, সেই সম্ভাবনাগুলো খুঁজে বের করার জন্য ধর্মমন্ত্রী এবং অন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
‘একটি কমিটির প্রস্তাব করেছেন তিনি। সেখানে আমাকেও থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন। আমি উনাকে সবিনয়ে বলেছি যে এখানে বায়তুল মোকাররমের খতিব আছেন, আরও অনেকে আছেন, তারপরও তার একান্ত অনুরোধে ইনশাআল্লাহ আমি হয়তো থাকার চেষ্টা করবো,’ যোগ করেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।
প্রস্তাবিত কমিটিতে কতজন থাকবে সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি জানিয়ে এই ইসলামি বক্তা বলেন, ‘পাঁচ-সাতজনের কমিটি হবে। ধর্মমন্ত্রীর সভাপতিত্বে কমিটি হবে এবং বায়তুল মোকাররমের খতিব থাকবেন। আর আমাকে যেহেতু তিনি (প্রধানমন্ত্রী) অনুরোধ করেছেন, আমি হয়তো থাকার চেষ্টা করবো। সেই সঙ্গে ইসলামি অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমরা দেশ থেকে, দেশের বাইরে থেকে এক-দুজনের নাম প্রস্তাব করেছি। তাদের সবাইকে নিয়ে হয়তো কমিটি গঠন হবে। কমিটি সুপারিশ করবে।’
নীতি নির্ধারণ ও বিদেশি জাকাত সংগ্রহ
নিজের প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি জানান, এখন মানুষ যার যার মতো জাকাত দিচ্ছে। এটা তো আছেই। পাশাপাশি দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো জাকাত সংগ্রহ করছে। নিয়ন্ত্রণের জায়গা থেকে তাদের জন্য সরকারের উচিত কিছু নীতি তৈরি করে দেওয়া। সেই সঙ্গে কে কত কার্যকরভাবে কাজ করছে এর একটি প্রতিযোগিতা দেখা দরকার।
বিদেশ থেকে জাকাত সংগ্রহের বিষয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘শুধু ওআইসিভুক্ত (ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা) দেশগুলোতে যে পরিমাণ জাকাত হয় সেটা হলো ৬০০ বিলিয়ন ডলার প্রতি বছর। আমাদের দেশে সেই জাকাতের টাকা আনার কোনো যথাযথ পথ সেভাবে নাই। তো আমরা প্রস্তাব দিয়েছি যে যদি সেটাকে আনার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে জাতীয় অর্থনীতিতে এটা ব্যাপক ভূমিকা রাখবে ইনশাআল্লাহ।’
তার মতে, সাময়িক কিছু টাকা-পয়সা দিয়ে কারও দারিদ্র্য আসলে দূর করা যায় না। দরকার তার দক্ষতা উন্নয়ন করে দেওয়া আর না হয় তাকে স্বাবলম্বী করার কোনো একটি প্রক্রিয়ায় যাওয়া। যা আস-সুন্নাহ থেকে করা হচ্ছে।
তিনি যোগ করেন, ‘সরকার সবার কাছ থেকে জাকাত সংগ্রহ করবে। এটি বাধ্যতামূলক সরকারকে দিতে হবে, ব্যাপারটি সেরকম না। আমার প্রস্তাব ছিল- জাকাত বিভিন্ন সংস্থা নিচ্ছে, প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, এখন শুধু নীতিগত জায়গা থেকে সরকার কাজ করবে যে এর যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে কি না।’
আরএমএম/একিউএফ