এখনও কি দাস মুক্ত করে সওয়াব পাওয়া সম্ভব?
ইসলামের আগমনের আগে থেকে দাস প্রথার প্রচলন ছিল। ইসলাম আগমনের পরেও দাস প্রথার প্রচলন ছিল। কিন্তু তা থাকলেও নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্নভাবে এই প্রথাকে নিরুৎসাহিত করেছেন। বিভিন্ন হাদিসের মাধ্যমে দাস মুক্ত করে দেওয়ার চমৎকার সব ফজিলত বর্ণনা করেছেন। এমনকি ইসলামের বিভিন্ন বিধান পালন করতে না পারলে কাফফারা হিসেবে দাস মুক্ত করার বিধান ইসলামি শরিয়তে বিধিবদ্ধ করেছেন। হত্যা, কসম ভঙ্গ, যিহার এবং রামাজান মাসে দিনের বেলায় সহবাস প্রভৃতির কাফ্ফারা আদায়ের অন্যতম উপায় হিসেবে দাস মুক্তির বিধান এসেছে।
দাস মুক্তি করা বিভিন্ন বিধান লঙ্ঘনের কাফফারাই নয় বরং দাস মুক্ত করা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত পাওয়ার অন্যতম একটি মাধ্যম। কিন্তু বর্তমান সময়ে কেউ ইচ্ছা করলেও কোটি টাকার বিনিময়ে হলেও দাস মুক্ত করার এ ফজিলতপূর্ণ আমল করতে পারবে না। কারণ এখন আর আগের মতো দাস প্রথার প্রচলন নেই। কিন্তু দাস মুক্ত করতে না পারলেও ইসলামের এমন কিছু আমল আছে, যার মাধ্যমে দাসমুক্ত করার মতো ফজিলতপূর্ণ আমল করা যায়। সেগুলো কী?
দাস মুক্তির ফজিলত
হাদিসের একাধিক বর্ণনায় নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গোলাম আযাদ করা বা দাসমুক্ত করার অনেক ফজিলত বর্ণনা করেছেন। কেননা দাস মুক্ত করার সবচেয়ে বড় ফজিলত হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাত পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম।
১. হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি-
مَنْ أَعْتَقَ رَقَبَةً مُؤْمِنَةً، أَعْتَقَ اللهُ بِكُلِّ عُضْوٍ مِنْهُ عُضْوًا مِّنَ النَّارِ، حَتَّى يُعْتِقَ فَرْجَهُ بِفَرْجِهِ،
‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিন দাসকে মুক্ত করবে, আল্লাহ তাআলা এর প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে আযাদকারীর প্রতিটি অঙ্গকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে দেবেন। এমনকি এর (দাসের) লজ্জাস্থানের বিনিময়ে তার (মুক্তকারীর) লজ্জাস্থানকে মুক্তি দেবেন।’ (মুসলিম ১৫০৯, তিরমিজি ১৫৪১, ইরওয়াউল গালীল ১৭৪২)
২. হজরত শুরাহবিল ইবনুস সিমত রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, একদিন তিনি আমর ইবনু আবাসাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেন, আপনি আমাদের কাছে এমন একটি হাদীস বর্ণনা করুন, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে শুনেছেন। তিনি বলেন-
مَنْ أَعْتَقَ رَقَبَةً مُؤْمِنَةً كَانَتْ فِدَاءَهُ مِنَ النَّار
‘যে ব্যক্তি একজন মুমিন দাসকে মুক্ত করে দেবে, এর বিনিময়ে তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করে দেওয়া হবে।’ (আবু দাউদ ৩৯৬৬)
সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম আঝমাঈন এ হাদিসের ফজিলতে অনুপ্রাণিত হয়ে দাস মুক্ত করার জন্য পরস্পর প্রতিযোগিতা করতেন। এভাবে সচ্ছল সাহাবায়ে কেরাম আল্লাহর পথে নির্যাতিত গোলাম/তাস সাহাবিদের কিনে কিনে আযাদ করে দিতেন।
৩. হজরত নাফে রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার জীবদ্দশায় একশত দাস আযাদ করেছিলেন।’ (ছিফাতুছ ছাফওয়া, খন্ড ১ পৃষ্ঠা ২৪০)
দাস মুক্ত করার মতো ফজিলতপূণ আমলসমূহ কী?
১. কাবা ঘর তওয়াফ করা
হজরত উমাইর রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ইবনু ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ভিড় ঠেলে হলেও হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানির কাছে যেতেন (তা স্পর্শ করার জন্য)। অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্য কোনো সাহাবিকে আমি এরূপ করতে দেখিনি। আমি বললাম-
,يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، إِنَّكَ تُزَاحِمُ عَلَى الرُّكْنَيْنِ زِحَامًا مَا رَأَيْتُ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُزَاحِمُ عَلَيْهِ
‘হে আবু আব্দুর রহমান! আপনি ভিড় ঠেলে হলেও এই দুই রুকনে গিয়ে পৌঁছেন, কিন্তু আমি তো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্য কোনো সাহাবিকে এভাবে ভিড় ঠেলে সেখানে যেতে দেখিনি। তিনি বললেন, আমি এরূপ কেন করব না? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আমি বলতে শুনেছি-
إِنَّ مَسْحَهُمَا كَفَّارَةٌ لِلْخَطَايَا وَسَمِعْتُهُ، يَقُولُ: مَنْ طَافَ بِهَذَا البَيْتِ أُسْبُوعًا فَأَحْصَاهُ كَانَ كَعِتْقِ رَقَبَةٍ وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: لَا يَضَعُ قَدَمًا وَلَا يَرْفَعُ أُخْرَى إِلَّا حَطَّ اللهُ عَنْهُ خَطِيْئَةً وَكَتَبَ لَهُ بِهَا حَسَنَةً، ‘
এই দুইটি রুকন স্পর্শ করলে গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যায়। আমি তাঁকে আরও বলতে শুনেছি যে, সঠিকভাবে যদি কোনো লোক বাইতুল্লাহ সাতবার তওয়াফ করে, তাহলে তার জন্য একটি ক্রীতদাস আযাদ করার সমান নেকি হবে।’ আমি আরও বলতে শুনেছি যে, যখনই কোনো ব্যক্তি তওয়াফ করতে গিয়ে এক পা রাখে এবং অপর পা তোলে, তখন আল্লাহ তার একটি করে গুনাহ মাফ করে দেন এবং একটি করে সওয়াব লিখে দেন।’ (তিরমিজি ৯৫৯, মিশকাত ২৫৮০)
২. তওয়াফের পর নামাজ ও সাফা-মারওয়া সাঈ করা
ওমরা ও হজের অন্যতম একটি রোকন হলো সাফা-মারওয়া সাঈ করা। যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা গোলাম আযাদ করার নেকি দান করেন। হাদিসে পাকে এসেছে, হজরত ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি-
وَأَمَّا رَكْعَتَاكَ بَعْدَ الطَّوَافِ كَعِتْقِ رَقَبَةٍ مِنْ بَنِي إِسْمَاعِيلَ وَأَمَّا طَوَافُكَ بِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ بَعْدَ ذَلِكَ كَعِتْقِ سَبْعِيْنَ رَقَبَةً
‘জেনে রাখ! তওয়াফের পর দুই রাকাত নামাজ পড়ার সওয়াব ইসমাঈলের বংশ থেকে একজন দাস আযাদ করার মতো। এরপর সাফা-মারওয়ায় সাঈ করার সওয়াব সত্তর জন দাস মুক্ত করার সমান।’ (মুসনাদে বাজ্জার ৬১৭৭, আত-তারগিব ওয়াত তারহিব ১১১২)
৩. আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ করা
দাস মুক্ত করার সওয়াব পাওয়ার আরেকটি অন্যতম উপায় হলো আল্লাহর পথে জেহাদ করা। হাদিসে পাকে এসেছে, হজরত আমর ইবনু আবাসাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি-
مَنْ رَمَى الْعَدُوَّ بِسَهْمٍ، فَبَلَغَ سَهْمُهُ الْعَدُوَّ، أَصَابَ أَوْ أَخْطَأَ، فَعَدْلُ رَقَبَةٍ،
‘যে ব্যক্তি (জেহাদে) শত্রুবাহিনীর প্রতি একটি তীর নিক্ষেপ করলো। এরপর সেই তীর শত্রুর কাছে পৌঁছে ঠিক লক্ষ্যে আঘাত হানুক বা লক্ষ্যচ্যুত হোক, এর বিনিময়ে একজন দাস মুক্ত করার সওয়াব রয়েছে। (ইবনু মাজাহ ২৮১২, আত-তারগিব ১২৮৬)
হজরত আবু নাজিহ আস-সুলামি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি-
مَنْ رَمَى بِسَهْمٍ فِي سَبِيلِ اللهِ فَهُوَ لَهُ عَدْلُ مُحَرَّرٍ
‘যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একটি তীর নিক্ষেপ করবে, তার জন্য একজন দাস মুক্তির নেকি রয়েছে।’ (তিরমিজি১৬৩৮, নাসাঈ ৩১৪৩, ইবনু মাজাহ ২৮১২)
৪. ঋণ দেওয়া এবং সঠিক পথের সন্ধান দেওয়া
হজরত বারা ইবনু আযেব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
مَنْ مَنَحَ مِنْحَةَ وَرِقٍ أَوْ مِنْحَةَ لَبَنٍ أَوْ أَهْدَى زُقَاقاً فَهُوَ كَعِتْقِ نَسَمَةٍ،
‘যে ব্যক্তি একবার দহন করা দুধ দান করে অথবা টাকা-পয়সা ধার (করজে হাসানাহ) দেয় অথবা পথহারা (রাস্তা ভুলে যাওয়া) ব্যক্তিকে সঠিক পথ দেখায়, তার জন্য রয়েছে একটি দাস মুক্ত করার সমপরিমাণ সওয়াব।’ (তিরমিজি ১৯৫৭, জামে ৬৫৫৯)
৫. ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়ানো
দাস মুক্ত করার নেকি পাওয়ার অন্যতম বিকল্প মাধ্যম হলো- ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়ানো, তৃষ্ণার্তকে পান করানো এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করা। হাদিসে পাকে এসেছে, হজরত বারা ইবনু আযেব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একদিন এক গ্রাম্য লোক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলল-
يَا رَسُولَ اللهِ عَلِّمْنِي عَمَلًا يُدْخِلُنِي الْجَنَّةَ
‘হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাকে এমন একটি আমলের কথা বলে দিন, যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। দারাকুতনীর বর্ণনায় এসছে, সে বললো-
دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ يُقَرِّبُنِي مِنَ الْجَنَّةِ وَيُبَاعِدُنِي مِنَ النَّار
‘আমাকে এমন একটি আমলের সন্ধান দিন, যা আমাকে জান্নাতের কাছেবর্তী করবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে।’ (দারাকুতনি ২০৫৫)
তিনি বললেন, ‘যদিও তুমি অল্প কথায় বলে ফেললে, কিন্তু তুমি ব্যাপক বিষয় জানতে চেয়েছ। (তাহলো)-
أَعْتِقِ النَّسَمَةَ، وَفُكَّ الرَّقَبَةَ، قَالَ: أَوَلَيْسَا وَاحِدًا؟ قَالَ: لَا، عِتْقُ النَّسَمَةِ: أَنْ يَنْفَرِدَ بِعِتْقِهَا، وَفُكُّ الرَّقَبَةِ أَنْ يُعِينَ فِي ثَمَنِهَا، وَالْمِنْحَةُ الْوَكُوفُ، أَظُنُّهُ قَالَ: وَالْفَيْءُ عَلَى ذِي الرَّحِمِ الظَّالِمِ، فَإِنْ لَمْ تُطِقْ ذَلِكَ، فَأَطْعِمِ الْجَائِعَ، وَاسْقِ الظَّمْآنَ، وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ، وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ، فَإِنْ لَمْ تُطِقْ ذَلِكَ، فَكُفَّ لِسَانَكَ إِلَّا مِنْ خَيْرٍ،
‘তুমি একটি প্রাণী মুক্ত কর এবং গোলাম মুক্ত কর। সে বলল, এ কাজ দু’টি কি একই নয়? তিনি বললেন, (অবশ্যই) না। কেননা প্রাণী মুক্ত করার অর্থ হলো একাকি একটি প্রাণ মুক্ত করা, আর গোলাম মুক্ত করার অর্থ হলো তার মুক্তিপণের মাধ্যমে সাহায্য করা। অধিক দুগ্ধদানকারী প্রাণী দান করা এবং অত্যাচারী আত্মীয়-স্বজনের প্রতি দয়াশীল হওয়া। যদি তুমি এসব কাজ করতে সক্ষম না হও, তাহলে ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়াও এবং তৃষ্ণার্তকে পান করাও। সৎকর্মের আদেশ দাও এবং মন্দ কাজে বাধা দাও। আর যদি তুমি এ কাজ করতেও অক্ষম হও, তাহলে উত্তম কথোপকথন ছাড়া তোমার জিহবাকে সংযত রাখ।’ (বায়হাকি ৪০২৬, মিশকাত ৩৩৮৪, আত-তারগিব ১৮৯৮)
৬. মাগরিব ও ফজর নামাজের পর তাহলিল পাঠ করা
যে ব্যক্তি মাগরিব ও ফজরের ফরজ নামাজের পর দশবার করে বিশেষ তাহলিল পাঠ করে, তার আমলনামায় দশজন মুমিন ক্রীতদাস মুক্ত করার নেকি লেখা হয়। হাদিসে পাকে এসেছে, হজরত উমারাহ ইবনু শাবীব আস-সাবাঈ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মাগরিবের নামাজের পর দশবার বলবে-
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الـمُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، يُحْيِي وَيـُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ: ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা-শারিকা লাহু লাহুল মুল্কু ওয়া লাহুল হাম্দু ইয়ুহ্ঈ ওয়া ইয়ুমিতু ওয়াহুয়া আলা-কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির।’
অর্থ: ‘আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো ইলাহ্ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই, সকল রাজত্ব তাঁর এবং তিনিই সকল প্রশংসার অধিকারী, তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু দেন এবং প্রতিটি জিনিসের উপর তিনিই মহা ক্ষমতাশালী।’
তাহলে আল্লাহ তার (পাঠকারীর) নিরাপত্তার জন্য একদল ফেরেশতা পাঠান, যারা তাকে শয়তানের ক্ষতি থেকে ভোর পর্যন্ত নিরাপত্তা দান করেন, তার জন্য (আল্লাহর অনুগ্রহ) আবশ্যক করার ন্যায় দশটি নেকি লিখে দেন, তার দশটি ধ্বংসাত্মক গুনাহ মুছে দেন এবং তার জন্য দশজন ঈমানদার দাস মুক্ত করার সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে।’ (তিরমিজি ৩৫৩৪; আত-তারগিব ৬৬০)
৭. প্রতিদিন একশত বার কালেমা পড়া
হজরত আবু হুরায়ারা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এই দো‘আটি দিনে একশ’ বার পড়বে যে-
لاَ إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الـمُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ: ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্দাহু লা-শারিকা লাহু লাহুল মুল্কু ওয়া লাহুল হাম্দু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির’
অর্থ: ‘আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো ইলাহ্ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই, সকল রাজত্ব তাঁর এবং তিনিই সকল প্রশংসার অধিকারী এবং প্রতিটি জিনিসের উপর তিনিই মহা ক্ষমতাশালী।’
তাহলে তার জন্য দশটি গোলাম আযাদ করার সমপরিমাণ নেকি অর্জিত হবে, তার জন্য একশটি নেকি লেখা হবে এবং একশটি গুনাহ মোচন করা হবে। আর সেই দিনের সন্ধ্যা অবধি এই দোআটি তার জন্য শয়তান থেকে বাঁচার রক্ষাকবচ হবে এবং তার চেয়ে সেদিন কেউ উত্তম আমল করতে পারবে না। তবে তার কথা স্বতন্ত্র, যে এর চেয়ে আরও বেশি আমল করে।’ (বুখারি ৩২৯৩, মুসলিম ২৬৯১, মিশকাত ২৩০২)
৮. একশত বার তাসবিহ পড়া
হজরত উম্মু হানী রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, একবার আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাকে একটা আমলের কথা বলে দিন। কেননা এখন আমি তো বৃদ্ধ হয়ে পড়েছি, দুর্বল হয়ে গেছি এবং আমার দেহও ভারী হয়ে গেছে। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
كَبِّرِي اللهَ مِائَةَ مَرَّةٍ، وَاحْمَدِي اللهَ مِائَةَ مَرَّةٍ، وَسَبِّحِي اللهَ مِائَةَ مَرَّةٍ خَيْرٌ مِنْ مِائَةِ فَرَسٍ مُلْجَمٍ مُسْرَجٍ فِي سَبِيلِ اللهِ، وَخَيْرٌ مِنْ مِائَةِ بَدَنَةٍ، وَخَيْرٌ مِنْ مِائَةِ رَقَبَةٍ
‘তুমি একশত বার আল্লাহু আকবার, একশত বার আল-হামদুলিল্লাহ এবং একশত বার সুবহানাল্লাহ পড়। এটা তোমার জন্য জিনপোষ ও লাগামসহ একশত ঘোড়া আল্লাহর পথে (জেহাদে) দান করার চেয়ে উত্তম, একশত উটের চেয়ে উত্তম এবং একশত গোলাম আযাদ করার চেয়ে উত্তম।’ (ইবনু মাজাহ ৩৮১০, আত-তারগিব ওয়াত তারহিব ১৫৫৩)
মনে রাখতে হবে
বর্তমান যুগে যদি দাস প্রথা থাকত, তাহলে একশটি দাস আযাদ করতে কোটি কোটি টাকার প্রয়োজন হ’ত। অথচ উম্মতে মুহাম্মাদি মাত্র পাঁচ-সাত মিনিটের আমলের মাধ্যমেই দাস মুক্তির এ সওয়াব পেতে পারে।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসে উল্লেখিত আমল করার এবং ফজিলত পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
এমএমএস/এএসএম