হজ পালনে আসে সমৃদ্ধি

ফারুক ফেরদৌস
ফারুক ফেরদৌস ফারুক ফেরদৌস , সহ-সম্পাদক, জাগো নিউজ
প্রকাশিত: ০৬:৪২ পিএম, ১১ জুন ২০২৪

কারো ওপর যদি হজ ফরজ হয়, তাহলে তার কর্তব্য দ্রুত হজ আদায় করে নেওয়া। অযথা দেরি করা ঠিক নয়। হাদিসে এ ব্যাপারে বিশেষ তাগিদ দিয়ে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

مَنْ أَرَادَ الْحَجَّ فَلْيَتَعَجَّلْ فَإِنَّهُ قَدْ يَمْرَضُ الْمَرِيضُ وَتَضِلُّ الضَّالَّةُ وَتَعْرِضُ الْحَاجَةُ

যে ব্যক্তি হজ্জের সংকল্প করে সে যেন অবিলম্বে তা আদায় করে। কারণ মানুষ কখনও অসুস্থ হয়ে যায়, কখনও প্রয়োজনীয় জিনিস বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং কখনও অপরিহার্য প্রয়োজন সামনে এসে যায়। (সুনানে ইবনে মাজা: ২৮৮৩)

অনেকেই হজ ফরজ হওয়ার পরও দেরি করতে থাকেন। মনে শয়তানের এ রকম ওয়াসওয়াসা আসে যে হজের জন্য যে অর্থ ব্যয় করবো তা দিয়ে যদি আরও কিছুদিন ব্যবসা-বাণিজ্য করি, তাতে অনেক লাভ হবে। হজ করলে অনেকগুলো টাকা ব্যয় হয়ে যাবে।

হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, হজ মানুষকে দরিদ্র্য বানায় না বরং দারিদ্র দূর করে। হজ যেমন গুনাহ দূর করে, দারিদ্র্যও দূর করে। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

تَابِعُوا بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ فَإِنَّهُمَا يَنْفِيَانِ الْفَقْرَ وَالذُّنُوبَ كَمَا يَنْفِي الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ وَالذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَلَيْسَ لِلْحَجَّةِ الْمَبْرُورَةِ ثَوَابٌ إِلَّا الْجَنَّةَ

ধারাবাহিকভাবে হজ ও ওমরার করতে থাক। কারণ এ দুটি দারিদ্র্য ও গুনাহ এমনভাবে দূর করে, যেমনভাবে হাঁপর লোহা ও সোনা-রুপার ময়লা দূর করে। মাবরুর হজের (সব রকম গুনাহ ও অশ্লীলতা থেকে পবিত্র) সাওয়াব জান্নাত ব্যতীত আর কিছু নয়। (সুনানে নাসাঈ: ২৬৩১, সুনানে তিরমিজি: ৮১০)

জাবের (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

مَا أَمْعَرَ حَاجٌّ قَطُّ

হজ আদায়কারী ব্যক্তি কখনও নিঃস্ব হয় না।

শ্রোতারা জাবেরের (রা.) কাছে নিঃস্ব হওয়ার মানে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অর্থাৎ হজ আদায়কারীরা অভাব-অনটনে পড়ে না। (মুসনাদে বাযযার: ১০৮০, তাবরানি ফিল আওসাত: ৫২০৯)

এ দুটি হাদিস থেকে বোঝা যাচ্ছে, হজ-ওমরাহ করলে সম্পদ কমার বদলে বরং বেড়ে যায়। অভাব আসার বদলে অভাব মোচন হয়। হজ করলে সম্পদ কমে যাবে বা দরিদ্র্য আসবে এটা শয়তানের ধোঁকা বা ওয়াসওয়সা।

হজের জন্য খরচের বদলায় সওয়াব লাভের প্রতিশ্রুতিও এসেছে বিভিন্ন হাদিসে। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সাললাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

الحَجُّ سَبيلُ اللهِ، النَّفَقةُ فيه: الدِّرْهَمُ بسَبْعِمِئةٍ

হজ হল আল্লাহর রাস্তা। হজে এক দিরহাম খরচের সওয়াব সাতশত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। (তাবরানি ফিল আওসাত: ৫৬৯০)

ওএফএফ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।