আদম আলাইহিস সালামের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ


প্রকাশিত: ০৩:০৩ এএম, ০৪ জানুয়ারি ২০১৬

ফেরেশতাদের সামনে আল্লাহ তাআলার এ মহড়াটি ছিল তাদের প্রথম সন্দেহের জবাব। এভাবে আল্লাহ তাদের জানিয়ে দিলেন যে, আমি আদমকে কেবল স্বাধীন ক্ষমতা-ইখতিয়ারই দিচ্ছি না বরং জ্ঞানও দিচ্ছি। প্রতিনিধি নিয়োগের ব্যাপারে তোমরা যে আশংকা করছো, তা এ ঘটনার একটি দিক মাত্র। এর মধ্যে মহাকল্যাণের দিকও রয়েছে। বিপর্যয়ের তুলনায় কল্যাণের গুরুত্ব ও মূল্য অনেক বেশি। ছোট-খাট ক্ষতি ও অকল্যাণের জন্য বড় রকমের লাভ ও মহাকল্যাণকে উপক্ষো করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তাইতো আল্লাহ বলেন-

Adam-Inner

তিনি বললেন, হে আদম, ফেরেশতাদেরকে বলে দাও এসবের নাম। তারপর যখন তিনি বলে দিলেন সে সবের নাম, তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, আমি আসমান ও জমিনের যাবতীয় গোপন বিষয় সম্পর্কে খুব ভাল করেই অবগত রয়েছি? এবং সেসব বিষয়ও জানি যা তোমরা প্রকাশ কর, আর যা তোমরা গোপন কর! (সুরা বাক্বারা : আয়াত ৩৩)

পূর্ববর্তী আয়াতে ফেরেশতারা সমগ্র সৃষ্টির নাম বলতে অপারগতা প্রকাশ করেছিল। তাই আল্লাহ তাআলা হজরত আদম আলাইহিস সালামকে লক্ষ্য করে বলেন, হে আদম! সকল সৃষ্টির আদি-অন্ত সম্পর্কে বিবরণ দাও। কেননা আল্লাহ তাআলা ইলহাম ও ইলক্বার মাধ্যমে হজরত আদম আলাইসি সালামকে সমস্ত্র নাম, বৈশিষ্ট্য ও উপকারিতা জানিয়ে দিয়েছিলেন। যখনই তাঁকে ঐগুলো সম্পর্কে বলতে নির্দেশ দেয়া হলো, তখন তিনি সত্বর সমূদয় জিনিসের নাম বলে দিলেন। অথচ ফেরেশতারা তা পারেনি। এভাবে আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের সামনে প্রতিনিধি সৃষ্টির রহস্য উদঘাটন করলেন।

দ্বিতীয়ত- দুনিয়ার নিয়ম নীতি পরিচালনার জন্য জ্ঞানের কত গুরুত্ব, ফজিলত এবং মর্যাদা তা বর্ণনা করে দিলেন। যখন ফেরেশতাদের সামনে আদম সৃষ্টির গুরুত্ব ও তাৎপর্য পরিষ্কার হয়ে গেল, তখন তারা নিজেদের জ্ঞান বুদ্ধি যে অতি স্বল্প তা স্বীকার করে নিলেন। আর ফেরেশতাদের এ স্বীকৃতির দ্বারা এ কথাও পরিষ্কার হয়ে গেলও যে, অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য নির্ধারিত। তাঁর বিশিষ্ট বান্দাদের কেবল ততটাই জ্ঞান থাকে, যতটা মহান আল্লাহ তাদেরকে দান করেন।

পরিশেষে...
মহান রাব্বুল আলামিন যে মহাকল্যাণের জন্য বান্দাকে সৃষ্টি করেছেন তা কর্মে সম্পাদন করা প্রত্যেক ঈমানদারের দায়িত্ব ও কর্তব্য। মুমিন বান্দার প্রতিটি কর্মই হবে আল্লাহ ইবাদাত। আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাকে দুনিয়ার ছোট-খাট বিপর্যয় থেকে হেফাজত করে মহাকল্যাণের পথে ধাবিত হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]