শায়খ আহমাদুল্লাহর পোস্ট
উপহার পৌঁছে দিতে গিয়ে থমকে যেতে হয়
এক অসহায় বৃদ্ধাকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা ৩৩ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে শোক প্রকাশ করে তিনি এই ঘটনা উল্লেখ করেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ লিখেছেন, ‘এই নিঃসঙ্গ ইফতার প্যাকেজটির পাশে বয়সের ভারে ন্যুব্জ এক বৃদ্ধার থাকবার কথা ছিল। অথচ তিনি নেই। তিনি এই পৃথিবীতেই নেই। ইফতারের নাম বরাদ্দের দুদিন পরই তিনি পাড়ি জমিয়েছেন পরপারে।
বৃদ্ধার নাম শারবান বিবি। বয়স হয়েছিল পঁচাত্তর বছর। নানান অসুখ-বিসুখে নুয়ে পড়া এক ক্ষয়িষ্ণু বৃদ্ধা। চলতেন লাঠিতে ভর করে। বাড়ির আঙিনার বাইরে যাওয়ার সামর্থও ছিল না। তবে নামাজ-রোজার প্রতি ছিলেন অত্যন্ত যত্নশীল।
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর চকের হালগরায় তার বাড়ি। তিন ছেলের সবাই হতদরিদ্র। থাকতেন ছোট ছেলে জবরুল মিয়ার ভাগে।
বৃদ্ধার এই দুরবস্থা বিবেচনা করে স্থানীয় প্রতিনিধি ইফতার প্যাকেজের জন্য তার নাম তালিকাভুক্ত করেন। বৃদ্ধা নিজেই তার সকল তথ্য দেন।
কিন্তু কয়েক দিন পর ইফতারের উপহার পৌঁছে দিতে গিয়ে থমকে যেতে হয়—বাড়িজুড়ে শোকের ছায়া। নাম বরাদ্দের দুদিন পরই ইন্তেকাল করেছেন শারবান বিবি।
এই রমাদানে বৃদ্ধার আর রোজা রাখা হবে না, আস-সুন্নাহর উপহার দিয়ে ইফতার করা হবে না—এই অমোঘ বাস্তবতাটাই তখন বড় হয়ে ওঠে আমাদের কাছে। বৃদ্ধা নেই, তারপরও যে ছেলের আশ্রয়ে তিনি থাকতেন, ইফতারের উপহার তার কাছে আমরা হস্তান্তর করি।
সাতটি রোজা গত হতে চললো। কিন্তু এই একাকী জীর্ণ ঘর আর ইফতার প্যাকেজকে ঘিরে যে হাহাকারমিশ্রিত শূন্যতা, তার অনুভব এখনো ঘিরে রেখেছে আমাদের।
মহান আল্লাহ শারবান বিবির ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন। তার পরজীবন সুখময় করুন। আর আমাদের পরিশ্রমকে নাজাতের মাধ্যম বানান। আমিন।’
এসইউ