পরিশ্রমী মানুষের কারণেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:২৪ পিএম, ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯

গোলাম রহমান। সভাপতি, কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সাবেক চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রাষ্ট্রীয় প্রশাসনেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন সাবেক এ আমলা।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতি, ভোক্তা অধিকার ও সরকারের দায় নিয়ে সম্প্রতি মুখোমুখি হন জাগো নিউজ’র। বলেন, ‘বেশি দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগে শুধু জেল-জরিমানাই সমাধান নয়।’ দীর্ঘ আলোচনায় দুর্নীতি ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়েও আলোকপাত করেন এ বিশ্লেষক। তিন পর্বের সাক্ষাৎকারের আজ থাকছে শেষটি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সায়েম সাবু

জাগো নিউজ : ফের বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। কীভাবে মূল্যায়ন করবেন এ প্রস্তাব?

গোলাম রহমান : বিদ্যুতের দাম বাড়লে সবকিছুর ওপর প্রভাব পড়ে। অপচয় ও দুর্নীতির কারণেই বিদ্যুতের দাম বাড়ে।

সরকার ব্যয়বহুল পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। রেন্টাল ও কুইক রেন্টালে উৎপাদনে গিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে। এ সময় বড় বড় প্রকল্পে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকার পারেনি। বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার অসফল। এত ব্যয় ও আশ্বাস দিয়েও সরকার বড় কোনো প্রকল্পের উৎপাদনে যেতে পারল না।

রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের নামে ব্যাপক দুর্নীতি হচ্ছে। অথচ, এর দায়ভার পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। সরকারের এ আচরণ কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

জাগো নিউজ : সরকারের এমন আচরণের পেছনে কোনো কারণ দেখতে পান কি-না?

গোলাম রহমান : এক্ষেত্রে স্বার্থান্বেষী মহলকে সুবিধা দিতেই সরকার একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। এ মহলে দেশি-বিদেশি নানা পক্ষই সম্পৃক্ত।

জাগো নিউজ : আপনার পরামর্শ কী?

গোলাম রহমান : বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি ও খামখেয়ালিপনা বন্ধ করা দরকার। বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়া সময়ের দাবি। বড় প্রকল্পগুলোর উৎপাদনে সরকারকে অধিক জোর দেয়া দরকার।

জাগো নিউজ : আপনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ছিলেন। সম্প্রতি সরকার দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক সংগঠন বাংলাদেশে দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ করেছে। দুর্নীতির পরিস্থিতি নিয়ে কী বলবেন?

গোলাম রহমান : দায়িত্ব পালনকালে আমি বলেছিলাম, ‘দুদক হচ্ছে দন্তহীন বাঘ’। কারণ আমি দেখেছি, দুর্নীতির মামলায় এ দেশে খুব একটা শাস্তি হয় না। বিচারিক আদালতে শাস্তি হলে উচ্চ আদালতে যাচ্ছেন। উচ্চ আদালতে গেলে আপনি সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছেন।

সেখানে ২০-৩০ বছর কেটে যাবে বিচার শেষ করতে। এর মধ্যে আপনি মারাও যেতে পারেন। আমি একে বিচারহীনতা বলছি না। বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণেই দুর্নীতি কমছে না। এ দীর্ঘসূত্রতা সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় অন্তরায়। এটি দূর করতে না পারলে কোনো অভিযান পরিচালনা করেই দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব হবে না।

জাগো নিউজ : দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে আমলাদের বিষয়টিও উঠে আসছে। আপনি দীর্ঘদিন প্রশাসনে ছিলেন। কী বলবেন এ বিষয়ে?

গোলাম রহমান : আমলারাই তো বড় দুর্নীতিবাজ। মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণেই আমলারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন। মূল্যবোধ ঠিক থাকলে তারা দুর্নীতি করতেন না।

তবে শুধু আমলাদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীরাও দুর্নীতিবাজ। রাজনীতি হচ্ছে, দুর্নীতির সূতিকাগার।

জাগো নিউজ : কেন এমনটি মনে করছেন?

গোলাম রহমান : সংসদ সদস্য নির্বাচনে বৈধ ব্যয় হচ্ছে ২৫ লাখ টাকা। আর অবৈধভাবে ব্যয় হচ্ছে কয়েক কোটি টাকা।

এত টাকা ব্যয় করে নির্বাচন! নির্বাচিত হলে তো তাকে কোনো না কোনোভাবে এ টাকা তুলে নিতে হবে। রাজনীতিতে অর্থ ও পেশি শক্তির ব্যবহার বন্ধ না হলে দুর্নীতি কোনো দিনই বন্ধ হবে না।

জাগো নিউজ : এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ নিয়ে কী বলবেন?

গোলাম রহমান : সাধারণত পরিশ্রমী মানুষের কারণে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারও চেষ্টা করছে। একদিনেই সব সমাধান হবে না। সময় দিতে হবে।

বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তার ধারাবাহিকতা থাকা, মাথাপিছু আয় তিন হাজার ডলারে আসা এবং আয় বৈষম্য না বাড়লে দ্রুত উন্নতি হবে। আর দুর্নীতি কমাতে সবার মাঝে মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে।

ছোটবেলায় দেখতাম, শতকরা ৯৯ ভাগ লোক খালি পায়ে হাঁটত। এখন তো সে পরিস্থিতি নেই। এটিই এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার পথকে আরও প্রশস্ত করতে হলে রাজনীতিতে পরিবর্তন আনতেই হবে।

এএসএস/এমএআর/এমএস

রাজনীতিতে অর্থ ও পেশি শক্তির ব্যবহার বন্ধ না হলে দুর্নীতি কোনো দিনই বন্ধ হবে না

শুধু আমলাদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীরাও দুর্নীতিবাজ। রাজনীতি হচ্ছে, দুর্নীতির সূতিকাগার

বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণেই দুর্নীতি কমছে না। এ দীর্ঘসূত্রতা সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় অন্তরায়

বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার অসফল। এত ব্যয় ও আশ্বাস দিয়েও সরকার বড় কোনো প্রকল্পের উৎপাদনে যেতে পারল না