নাহিদ-মিরাজের বোলিং তোপে ১১৪ রানেই অলআউট পাকিস্তান

ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৫৭ পিএম, ১১ মার্চ ২০২৬

শুরুটা দেখে মনে হচ্ছিল ভালোই লড়াই হবে বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের মধ্যে। কারণ, ১০ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪১ রানের জুটি গড়ে ফেলেছে পাকিস্তান। কিন্তু দিনের শুরু সব সময় সঠিক বার্তা দেয় না। পাকিস্তানের দুই ওপেনারও দিতে পারেননি। ১০ম ওভারের শেষ বলে সাহিবজাদা ফারহানকে ফেরানোর মধ্য দিয়ে পাকিস্তান ইনিংসে ধস নামাতে শুরু করেন নাহিদ রানা।

এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট নিতে থাকেন নাহিদ। ৬৯ রানেই পাকিস্তানের ৫জন ব্যাটারকে ফেরান তিনি। যার সবগুলোই দখল করেন নাহিদ রানা। এরপর দৃশ্যপটে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি নিলেন ৩ উইকেট। বাকি দুই উইকেট ভাগ করে নিরেন তাসকিন ও মোস্তাফিজ। তাতেই মাত্র ৩০.৪ ওভারে পাকিস্তান অলআউট হলো ১১৪ রানে।

যা বাংলাদেশের বিপক্ষে করা তাদের সর্বনিম্ন রানের ইনিংস। এর আগে ১৯৯৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বনিম্ন ১৬১ রানে অলআউট হয়েছিল পাকিস্তান। এবার সর্বনিম্ন অলআউট হলো ১১৪ রানে। শেষ দিকে যদি ফাহিম আশরাফ এবং আবরার আহমদ ৩২ রানের জুটি না গড়লে ১০০’ও পার হতো না পাকিস্তানের সংগ্রহ।

বাংলাদেশের সবচেয়ে গতিময় পেসার মনে করা হয় নাহিদ রানাকে। তার বলের গতি ১৪০, ১৪৫ কিলোমিটারের ওপরেও উঠে যায়। দীর্ঘদিন পর ওয়ানডে ফরম্যাটে ফিরে আসা বাংলাদেশকে এখন আশা দেখাচ্ছেন গতির রাজা নাহিদ রানা।

পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে কেন টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, তা ভালোভাবে দেখিয়ে দিচ্ছেন নাহিদ রানা।

একা নাহিদের তোপ সামলাতেই তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়লো পাকিস্তানের টপ অর্ডার। ৬৯ রানেই ৫ উইকেট হারিয়েছে সফরকারীরা। ৫টি উইকেট একাই নিলেন ডানহাতি গতিময় এই পেসার। নাহিদ রানার ক্যারিয়ারে এটাই প্রথম ফাইফার।

চার ব্যাটারের মধ্যে ২জন অভিষিক্ত মা’জ সাদাকাত ও শামিল হুসাইন। এছাড়া অভিজ্ঞ তিন ব্যাটারকেও ফেরালেন নাহিদ। একজন টি-২০ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী সাহিবজাদা ফারহান, একজন টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের অধিনায়ক সালমান আলি আগা এবং অন্যজন আরও বেশি অভিজ্ঞ, মোহাম্মদ রিজওয়ান।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নতুন ওপেনার মা’জ সাদাকাতকে নিয়ে শুরুটা ভালোই করেছিলেন সাহিবজাদা ফারহান। ৪১ রানের জুটি গড়ে তোলেন তারা দু’জন। তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজরা যখন সাফল্য বয়ে আনতে পারছিলেন না, তখন ইনিংসের ১০ম ওভারের শেষ বলেই প্রথম আঘাতটা হানেন নাহিদ রানা।

৪১ রানের জুটি ভেঙে ফেরান সাহিবজাদা ফারহানকে। ৩৮ বলে ২৭ রান করেন ফারহান। নিজের পরের ওভারেই শামিল হুসাইনকে ফিরিয়ে দেন তিনি। ৭ বলে ৪ রান করেন শামিল। অভিজ্ঞ ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ২০ বলে ১০ রান করে নাহিদ রানার হাতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন।

৬৯ রানের মাথায় ৫ম ব্যাটার হিসেবে আউট হন সালমান আলি আগা। ৮ বলে ৫ রান করে আউট হন তিনি। সে সঙ্গে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফার নেওয়ার কৃতিত্ব দেখান নাহিদ রানা।

নাহিদ রানার ৫ উইকেটের বৃত্ত পূরণের পর বল হাতে যেন জ্বলে ওঠেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার মায়াবী ঘূর্ণিতে হুসাইন তালাত, আবদুল সামাদ ও শাহিন শাহ আফ্রিদি আউট হয়ে যান দ্রুতই। একটা সময় গিয়ে ১০০ রান করত পারবে কি না পাকিস্তানিরা, সে শঙ্কায় পড়ে যায়। অশেষে ফাহিম আশরাফ আর আবরার আহমেদের ৩২ রানের জুটি না হলে ১০০ রানের আগে অলআউটের রজ্জায় পড়তে হতো তাদেরকে।

তিন পেসারের মধ্যে নাহিদ রানা ৫ উইকেট নিলেও খালি হাত ফিররেন না তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানও। তারা নিয়েছেন ১টি করে উইকেট। ৩টি নেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

আইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।