তিন পেসার খেলানোর কৌশলেই সাফল্য, নাহিদ রানার বিধ্বংসী পাঁচ উইকেট

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:২৯ পিএম, ১১ মার্চ ২০২৬

শেরে বাংলা বরাবরই বাংলাদেশের বোলারদের ‘হান্টিং গ্রাউন্ড’। ওয়ানডেতে টাইগার বোলারদের ৫ উইকেট পাওয়ার আগের ১১টি ঘটনাই ঘটেছে মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে।

এই মাঠে পেসারদের মধ্যে সর্বশেষ ৫ উইকেট শিকারি ছিলেন হাসান মাহমুদ। আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ বাংলাদেশি ফাস্ট বোলার হিসেবে ৫ উইকেট শিকারি হলেন নাহিদ রানা। পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সালমান আগাকে আউট করেই নাহিদ রানার পঞ্চম উইকেট ঝুলিতে জমা পড়ে।

এ ম্যাচের আগে বাংলাদেশের হয়ে ৫টি ওয়ানডে খেলা নাহিদ রানার সেরা বোলিং ফিগার ছিল ৪০ রানে ২ উইকেট (২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে)। আজ ১১ মার্চ শেরে বাংলায় বল হাতে আগুন ঝরিয়ে প্রথম ৫ ওভারেই ৫ উইকেট ঝুলিতে পুরে নেন নাহিদ রানা।

উইকেটে খুব একটা সহায়তা ছিল না। পিচে খুব বেশি সবুজ ঘাসের সমারোহও নেই। তবে গতি ও বাউন্স চিরচেনা শেরে বাংলার চেয়ে খানিকটা ভালো ছিল। পেসাররা গতি তুলতে পেরেছেন। মাঝে মাঝে সামান্য সুইংও করেছে।

নাহিদ রানা এই পিচে কখনো কখনো ১৪৫ কিলোমিটার গতিতে বল করে পাকিস্তানি ব্যাটারদের বিব্রত করে তুলেছেন। তার দ্রুতগতির ডেলিভারির বিপক্ষে সাহিবজাদা ফারহান আর মা’জ সাদাকাতও মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেননি। তার থ্রি-কোয়ার্টার লেন্থে পিচে পড়া ১৪৫ কিলোমিটার গতির বল সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেয়েছেন পাকিস্তানি ব্যাটাররা।

টি-টোয়েন্টি থেকে ওয়ানডে অভিষেক হওয়া সাহিবজাদা ফারহান ছিলেন নাহিদ রানার প্রথম শিকার। ইনিংসের ১০ নম্বর ওভারে প্রথম বল করতে এসে ফারহানকে আউট করেন তিনি। নাহিদের বলে কভার ও পয়েন্ট দিয়ে চালাতে গিয়ে মাঝ ব্যাটে আনতে পারেননি ফারহান। বল চলে যায় পয়েন্টে। আফিফ হোসেন মাটিতে শরীর ফেলে তা তালুবন্দি করেন।

পরের উইকেটটি অভিষেক হওয়া মা’জ সাদাকাতের। পুল খেলতে গিয়ে ডিপ স্কোয়ার লেগে সাইফের হাতে ধরা পড়েন তিনি। এরপরের দুটি উইকেট নাহিদ রানা গতির সঙ্গে সুইংয়ের মিশেল ঘটিয়ে তুলে নেন। তার তৃতীয় শিকার ছিলেন আরেক অভিষিক্ত শামিল হুসেইন। রানার আউটসুইংয়ে উইকেটের পেছনে কিপার লিটন দাসের গ্লাভসে ক্যাচ তুলে দেন শামিল।

এরপর চতুর্থ উইকেটটি ছিল অভিজ্ঞ মোহাম্মদ রিজওয়ানের। নাহিদ রানার গতি ও সুইংয়ে পরাস্ত হয়ে রিজওয়ান উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন।

নাহিদ রানার পঞ্চম শিকার হন সালমান আগা। খানিকটা লাফিয়ে ওঠা বলকে পেছনের পায়ে গিয়ে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেও পারেননি তিনি। বল তার ব্যাটের নিয়ন্ত্রণের বাইরে লেগে ক্যাচ চলে যায় শর্ট লেগে দাঁড়ানো তানজিদ তামিমের হাতে। তামিম কয়েকবারের চেষ্টায় তা ধরে ফেলেন।

তাতেই ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথম ৫ উইকেট পূর্ণ হয় নাহিদ রানার। তার এই সংহার মূর্তির সামনে পাকিস্তানি ব্যাটারদের রীতিমতো অসহায় মনে হয়েছে। একজনও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি।

নাহিদ রানার এই কার্যকর ও বিধ্বংসী বোলিং বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টের তিন পেসার খেলানোর সিদ্ধান্তের যথার্থতার প্রমাণ। ২ পেসার খেলালে হয়তো তাসকিন আর মোস্তাফিজই খেলতেন। নাহিদ রানার জায়গা হতো কি না সন্দেহ। দলে তিনি তৃতীয় সিমার হিসেবেই খেলেছেন এবং তাসকিন, মোস্তাফিজ ও মেহেদী মিরাজের পরে বোলিংয়ে এসেছেন।

শেরে বাংলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে ৬ উইকেট দখল করেছিলেন লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন। সেই মাঠেই এবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা দুর্দান্ত বোলিং করে ৫ উইকেট শিকার করেছেন।

গল্পটা সত্যিই নতুন। যে মাঠে গণ্ডায় গণ্ডায় সাকিব, মিরাজ, তাইজুলদের ৫ উইকেট আছে, সেখানে ১৬ মাস পর এক ফাস্ট বোলারের ৫ উইকেট পাওয়া নিঃসন্দেহে সাফল্যের নতুন গল্প।

এআরবি/আইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।