প্রথম টি-টোয়েন্টি

নিউজিল্যান্ডের ১৮২ রান টপকে দুর্দান্ত জয় বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক চট্টগ্রাম থেকে
প্রকাশিত: ০৫:৪৯ পিএম, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
হৃদয়-ইমনের জুটিতেই ঘুরে যায় ম্যাচ/ছবি: বিসিবি

বাংলাদেশের পিচে টি-টোয়েন্টিতে ১৮৩ রানের লক্ষ্য একেবারে ছোট নয়। তবে এই বাংলাদেশ সাহসী ক্রিকেটে অনেকটাই অভ্যস্ততা দেখাচ্ছে। ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর টি-টোয়েন্টিতেও জয়ে শুরু করেছে টাইগাররা।

চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের ১৮২ রান ১৮ ওভারেই টপকে গেছে বাংলাদেশ। ৬ উইকেটের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে লিটন দাসের দল।

রান তাড়ায় নেমে সাইফ হাসান আর তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা করে বাংলাদেশ। প্রথম ৫ ওভারে বিনা উইকেটেই তোলে ৪০ রান।

তবে ষষ্ঠ ওভারে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাইফ হাসান। ১৫ বলে ১৭ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন তিনি। ওপেনিং জুটি ভাঙে ৪১ রানে।

আরও পড়ুন>ঝোড়ো ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হৃদয়

লিটন দাস ভালো খেলছিলেন। কিন্তু ইশ সোধির ঘূর্ণি বুঝতে না পেরে তিনি বোল্ড হন ১৫ বলে ২১ রানে। ৬৬ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

তানজিদ তামিম ঠিক তার মতো মারকুটে খেলতে পারেননি। ২৫ বলে ২০ রান করে সোধির দ্বিতীয় শিকার হন এই ওপেনার, ক্যাচ দেন লংঅফে। ৭৭ রানে তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের।

এরপর ঝোড়ো জুটি গড়েন তাওহীদ হৃদয় আর পারভেজ হোসেন ইমন। ২৮ বলে ৫৭ রানের মারকুটে জুটিতে দলকে জয়ের মতো একটা অবস্থানে নিয়ে যান তারা।

বড় শট খেরতে গিয়ে ১৪ বলে ১ চার আর ২ ছক্কায় ২৮ রান করে বাউন্ডারিতে ক্যাচ আউট হন ইমন। তবে হৃদয়কে থামেননি। ২৬ বলে করেন ফিফটি। শেষ পর্যন্ত ২৭ বলে ২ চার আর ৩ ছক্কায় ৫১ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন হৃদয়।

শেষদিকে শামীম পাটোয়ারীও দলের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন। ১৩ বলে তিনি ৩১ রান করেন ৩টি বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায়।

আগে ব্যাটিং করে ক্যাটেনি ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভারের সমান ৫১ রানের ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের বোর্ডে জমা হয়েছিল ৬ উইকেটে ১৮২ রান।

আরও পড়ুন>রিপনের ‘অভিষেক’

সোমবার (২৭ এপ্রিল) চট্টগ্রামে টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠান বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই হৃদয়ের ডিরেক্ট হিটে রানআউট হয়ে মাঠ ছাড়লেন টিম রবিনসন রানের খাতা না খুলেই। তানজিম হাসান সাকিবের করা দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে প্রথম বল ফেইস করেই করেই রানআউট হন তিনি।

এরপর দুটো উইকেট তুলে নেন রিশাদ হোসেন। নিউজিল্যান্ডের ওপেনার ক্লার্ক উইকেট গিফট করেন রিশাদকে। বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন তাওহিদ হৃদয়ের হাতে।

আউট হওয়ার আগে ৫১ রান করলেও উইকেট বিলিয়ে দিয়েছেন সদ্য ক্রিজে আসা ব্যাটারের মতো। ৭টি চার ও ১টি ছক্কা মেরেছেন নিজের ইনিংসে। ৯৯ রানে পতন হয় দ্বিতীয় উইকেটের। ভাঙে ক্লার্কের সঙ্গে গড়া ৮৮ রানের জুটি। এরপর ক্লার্ক সমান ৫১ রান করে রিশাদের বলেই সাজঘরে ফিরে যান দলীয় ১১০ রানে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে।

কিইউদের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন তানজিম হাসান সাকিব। ১ রান করা বেভন জ্যাকব আউট হলে ১১৭ রান ৪ উইকেট হারায় ব্ল্যাকক্যাপসরা। ওয়ানডে সিরিজে দাপট দেখানে ডিন ফক্সক্রফট হতাশ করেন মাত্র ৩ রানে শেখ মেহেদীর বলে কাটা পড়ে। ১৩০ রানে ৫ উইকেট হারালেও অধিনায়ক নিক কেলির ২৭ বলে ৩৯ ও জশ ক্লার্কসনের অপরাজিত ১৪ বলে ২৭ রানে ৬ উইকেটে ১৮২ রান করে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায় নিউজিল্যান্ড।

দুটি উইকেট পেয়েছেন রিশাদ হোসেন। সমান একটি করে শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব ও শেখ মেহেদীর। অভিষিক্ত রিপন মণ্ডল ৪ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে উইকেট পাননি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৮২/৬ (কেটেনে ক্লার্ক ৫১, ড্যান ক্লেভার ৫১; রিশাদ হোসেন ২/৩২)
বাংলাদেশ: ১৮ ওভারে ১৮৩/৪ (তাওহীদ হৃদয় ৫১*, শামীম পাটোয়ারী ৩১*, পারভেজ ইমন ২৮)

ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ।

এমএমআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।