টার্নিং পয়েন্ট
তাদের এক জুটিতেই বদলে গেলো ম্যাচের চিত্র
১৮৩ রানের বিশাল লক্ষ্য। টি-টোয়েন্টিতে ঘরের মাঠে এত বড় লক্ষ্য এর আগে কখনও পাড়ি দেয়নি বাংলাদেশ। আজ যদি জিততে পারে, তাহলে রীতিমত রেকর্ড গড়েই জিততে হবে- এমনই ছিল হিসাব-নিকাশ।
কিন্তু সেটা কী আদৌ সম্ভব হবে? যদিও ওপেনিং জুটিই জয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছে। সাইফ হাসান এবং তানজিদ হাসান তামিমের ৪১ রানের জুটিটাকে যদি বলা যায় ভোরের সূর্যোদয়, তাহলে মিডল অর্ডারে তাওহিদ হৃদয় এবং পারভেজ হোসেন ইমনের জুটিটাকে বলা যাবে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গনগনে সূর্যের প্রখর তাপ।
এরপর শামীম হোসেন পাটোয়ারির খানিক ঝড়কে কালবোশেখির সঙ্গে তুলনাও করা চলে। যে ঝড় নিউজিল্যান্ডকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়ে বাংলাদেশকে পৌঁচে দিয়েছে জয়ের বন্দরে।
তবে, মধ্য গগনে প্রখর রোদের তাপ সামলে বাংলাদেশের হালকে শক্ত হাতে ধরে রাখার মূল কারিগর কিন্তু তাওহিদ হৃদয় আর পারভেজ হোসেনের একটি দায়িত্বশীল জুটি। ৬৬ রানে দ্বিতীয় এবং ৭৭ রানে তৃতীয় উইকেট পড়ার পর যখন সিঁদুরে মেঘ দেখার মত ভয় তাড়া করছিল, তখন সেটাকে বেমালুম কাটিয়ে দিলেন এই জুটি।

বরং উল্টো চট্টগ্রামের সাগরিকায় তাদের ওপর তীব্র ঝড় বইয়ে দিলেন হৃদয় আর ইমন। তাদের ২৮ বলের ৫৭ রানের জুটিই বাংলাদেশকে পরিস্কারভাবে বন্দরের পথ দেখিয়ে দেয়। ১০.১ ওভারে ৩ উইকেটে ৭৭ রান থেকে তাওহিদ হৃদয় আর পারভেজ ইমন মিলে ১৪.৫ ওভারে বাংলদেশকে নিয়ে যান ১৩৪ রানে।
জস ক্লার্কসনের শর্টিস অফ-কাটার বলটি হালকা বাউন্স করেছিলো। পারভেজ ইমন শট খেললেন লং অফে। সোজা ছক্কা হতে যাচ্ছিল; কিন্তু প্রায় বাউন্ডারির ওপর দাঁড়িয়ে ক্যাচটি ধরে ফেললেন টিম রবিনসন। ১৪ বলে ১ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ২৮ রানে ইমন আউট হলেও পরের কাজ সারতে আর খুব বেশি কষ্ট করতে হয়নি তাওহিদ হৃদয় এবং শামীম পাটোয়ারীকে।
ইমন যে ঝড় তুলে দিয়ে গিয়েছিলেন, তার ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন শামীম পাটোয়ারী। ১৩ বলে ৩ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ৩১ রানে অপরাজিত থাকলেন তিনি। সে সঙ্গে অপরাজিত থাকলেন দৃঢ় নাবিক হয়ে ব্যাটিংয়ে হাল ধরে রাখা তাওহিদ হৃদয়। ২৭ বলে ২ বাউন্ডারি ৩ ছক্কায় ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত পুরো দুই ওভার (১২ বল) হাতে রেখে ৬ উইকেটের ব্যবধানে জয় নিয়ে বিজয়ীর বেশে মাঠ ছাড়েন তাওহিদ হৃদয় ও শামীম পাটোয়ারী।
আইএইচএস/