ফিরলো বল বয় সংস্কৃতি, উচ্ছ্বসিত খুদে ক্রিকেটাররা
বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে সিরিজের মধ্যেই মিরপুরের হোম অফ ক্রিকেটের প্রেসবক্সে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বলেছিলেন, বল বয় সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা হবে। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শহীদ মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ দিয়ে ফিরলো সেই বল বয় সংস্কৃতি। তবে এবার আর বল বয় নয়, তাদের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফিউচার স্টার।’
খেলা শুরু হতেই ব্রডকাস্টিং ক্যামেরা খুঁজে নেয় ফিউচার স্টারদের। চট্টগ্রামের অনূর্ধ্ব-১৪ ও ১৬ দলের ক্রিকেটাররা (ছেলে ও মেয়ে) বাউন্ডারির বাইরে বিজ্ঞাপন বোর্ডের কাছে বসে ছিলো। আজকের ম্যাচে মোট ২২ জন চার বা ছক্কা হলেই দৌড়ে গিয়ে বল কুড়িয়ে এনে দিচ্ছিলো ফিল্ডারদের হাতে।
বাংলাদেশে বল বয়ের এই সংস্কৃতি উঠেই গিয়েছিল। শেষ কবে দেখা গেছে বাউন্ডারির বাইরে এমন দৃশ্য- সেটা মনে করা মুশকিল। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের উদ্যোগে আবার ফিরলো সেই সংস্কৃতি।

সোমবার ফেসবুকে তামিম নিজেও স্ট্যাটাস দিয়েছেন। একজন বল বয়ের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড পোস্ট করে তিনি লিখেন, ‘বল বয় শব্দটা ব্যক্তিগতভাবে কখনোই খুব একটা ভালো লাগত না আমার। ওরাই আমাদের ভবিষ্যৎ, তাই আমি ওদেরকে বলতে চাই ফিউচার স্টারস। আশা করি, এই খুদে ক্রিকেটাররা ওদের প্রিয় ক্রিকেটারদের কাছ থেকে দেখে অনুপ্রাণিত হবে, ওদের স্বপ্নের সীমানা বড় হবে এবং একদিন বাংলাদেশের হয়ে খেলবে। আমিও একসময় ওদের মতোই ছিলাম, আমিও ছিলাম একজন বল বয়।’
বল বয়দের কারও বাবা বা কারও মা সঙ্গে এসেছেন। প্রত্যেকের চোখে-মুখেই উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছিল স্পষ্ট। সজীব নামের অনুর্ধ্ব-১৪ দলের একজনের বাবা বলেন, ‘খুবই ভালো লাগছে এমন উদ্যোগে। এরা মাঠে থেকে এত বড় তারকাদের সঙ্গে কথা বলতে পারবে, সামনে থেকে তাদের দেখতে পারবে, এগুলো ওদের আরও অনুপ্রাণিত করবে।’
মিঠুন নামের অনূর্ধ্ব-১৬ দলের ক্রিকেটারও আজ ছিলেন বাউন্ডারি লাইনের বাইরে। অনুভূতি প্রকাশে তিনি বলেন, ‘আমার খুব ভালো লাগছে। আগে টিভিতে দেখতাম সবাইকে। আজকে সামনে থেকে দেখছি- লিটন, হৃদয় ভাইদের সঙ্গে কথা বলতে পারি যদি তাহলে খুব ভালো লাগবে।’
ক্রিকেটাররাও এই বল বয় বা ফিউচার স্টারদের সঙ্গে মিশে যান। এই ম্যাচে দ্বাদশ খেলোয়াড় নুরুল হাসান সোহানকে দেখা গিয়েছিল বাউন্ডারি লাইনের পাশে বসে তাদের সঙ্গে কথা বলতে। পেসার তানজিম হাসান সাকিব বাউন্ডারি লাইনে ফিল্ডিং করার সময়ে দুজনকে ডেকে কথা বলেছেন। বল বয় হিসেবে থাকা এই খুদে ক্রিকেটারদের পর্যাপ্ত খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়।
এসকেডি/আইএইচএস/