সৌদি আরবও প্রবেশ করছে ক্রিকেট জগতে, শুরু হচ্ছে নতুন ফ্রাঞ্চাইজি লিগ
ফুটবল-গলফের পর এবার ক্রিকেটেও বিপ্লব ঘটাতে যাচ্ছে সৌদি আরব। আইপিএলের আদলে সৌদি আরবও প্রবেশ করছে ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটে। আগামী অক্টোবরেই দেশটি চালু করতে যাচ্ছে নিজেদের প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট ‘ডিউনস লিগ টি-টোয়েন্টি’।
সৌদি আরব ক্রিকেট ফেডারেশনের (এসএসিএফ) অনুমোদন পাওয়া এই টুর্নামেন্টে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া, তবে এখনো বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলা তারকাদের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত কয়েক বছরে ক্রীড়াঙ্গনে বড় ধরনের বিনিয়োগ করে আলোচনায় এসেছে সৌদি আরব। ফুটবল, টেনিস, বক্সিংয়ের পর এবার দেশটি ক্রিকেটেও নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। এর আগে সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) ‘লিভ গলফ’ চালু করে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে আলোড়ন তুলেছিল।
গত তিন বছর ধরেই গুঞ্জন ছিল, আইপিএলের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বড় কোনো টি-টোয়েন্টি লিগ চালু করতে পারে সৌদি আরব। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনও গত বছর ‘গ্র্যান্ড স্ল্যাম’ ধরনের বৈশ্বিক টি-টোয়েন্টি সার্কিটে সৌদি বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল।
তবে বাস্তবে সৌদি আরব ক্রিকেটে ধীরে ধীরে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে। আইসিসির সঙ্গে স্পনসরশিপ চুক্তি, ২০২৪ সালের আইপিএল নিলামের আয়োজন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএল টি-টোয়েন্টির সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ক্রিকেটে সক্রিয় হয়েছে দেশটি। এছাড়া নারী ক্রিকেটের ‘ফেয়ারব্রেক উইমেন্স টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ’ আয়োজনের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিও করেছে সৌদি আরব, যদিও উপসাগরীয় অঞ্চলের অস্থিরতার কারণে প্রথম আসর স্থগিত রয়েছে।
নতুন ডিউনস লিগ টি-টোয়েন্টিতে অংশ নেবে ছয়টি দল। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জেদ্দার কাছে তায়েফ শহরে। দক্ষিণ এশিয়ান নেটওয়ার্কের সঙ্গে যৌথভাবে টুর্নামেন্টটি আয়োজন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে দুটি আন্তর্জাতিক ট্যালেন্ট এজেন্সি- ইউনিক স্পোর্টস গ্রুপ ও প্রোলিথিক। ইউনিক স্পোর্টস গ্রুপের ক্লায়েন্টদের মধ্যে রয়েছেন ইংল্যান্ডের পেসার জোফরা আরচার, আর প্রোলিথিক দেখভাল করে ভারতের ওপেনার অভিষেক শর্মাকে।
ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার যুবরাজ সিংকে টুর্নামেন্টের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
সৌদি আরব ক্রিকেট ফেডারেশন গত বছরই প্রাথমিকভাবে এই লিগ আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। তাদের দাবি, এই টুর্নামেন্ট সৌদি আরবকে ‘বিশ্ব ক্রিকেট মানচিত্রে’ প্রতিষ্ঠিত করবে এবং স্থানীয় প্রতিভা বিকাশেও ভূমিকা রাখবে।
জানা গেছে, প্রতিটি দলে সর্বোচ্চ চারজন এমন ক্রিকেটার রাখা যাবে, যারা গত দুই বছরের মধ্যে পূর্ণ সদস্য দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। এর ফলে আইসিসির বিশেষ অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না।
টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ক্রিকেটারদের জন্য আকর্ষণীয় পারিশ্রমিকও রাখা হয়েছে। শীর্ষ তারকারা প্রায় এক লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত পারিশ্রমিক পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইএইচএস/