ছোট বিমানে ভয় : গাড়িতে করে অকল্যান্ড থেকে নেপিয়ারে তামিম-মাশরাফি

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১০:২৬ এএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

নিউজিল্যান্ডে বাতাস বেশি বলেই সব ধরণের বিমানে কম বেশি বাম্পিং (ঝাঁকুনি) হয়। সবচেয়ে বেশি হয় ছোট বিমানে। যে বাম্পিংয়ে ভীষণ ভয় মাশরাফি বিন মর্তুজার। এই ভয়ের কারণে ২০১৭ সালের সর্বশেষ নিউজিল্যান্ড সফরে ওয়েলিংটন হয়ে কোন বিমান ভ্রমণ করেননি নড়াইল এক্সপ্রেস। এমনকি সেবার টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে ৫/৬ দিনের জন্য স্ত্রী ও কন্যা-পুত্রসহ সিডনি যাবেন, তখনো ওয়েলিংটন এড়িয়ে অকল্যান্ডকে বেছে নিয়েছিলেন।

২০০১ সালে প্রথমবার মাশরাফি গিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ড সফরে। সেবার বিমানে চড়েছিলেন। সেই যে ভীতিটা মনের মধ্যে ঢুকেছে, আর বের হয়নি। এরপর থেকে ছোট বিমানের নাম শুনলেই দূরে সরে বসেন মাশরাফি। এবারের সফরেও ছোট বিমান এড়িয়ে গেলেন। তবে এবার তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি নাম, তামিম ইকবাল। দুজনের বিমানে না চড়ার খবরটি জানিয়েছে দেশের একটি শীর্ষ ইংরেজি জাতীয় দৈনিক।

নেপিয়ারে ১৩ ফেব্রুয়ারি সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। দল বিমানে করে আগেই সেখানে চলে গেছে। কিন্তু মাশরাফি আর তামিম দলের সঙ্গে যাননি। তারা অকল্যান্ড থেকে নেপিয়ারে যাওয়ার জন্য উঠে বসেন প্রাইভেট কারে। গাড়িতে করে সেখানে পৌঁছতে লেগেছে ছয় ঘন্টার মতো, বিমানে যে পথ বড়জোর এক ঘন্টার।

নেপিয়ারের সিনিক হোটেলে মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকরা আগেই গিয়ে উঠেছেন। হোটেলে যাওয়ার পর অবসরে লবিতে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। গতকাল বিকেলে হোটেলে পৌঁছা মাশরাফি আর তামিমকে তিনিই প্রথম অভ্যর্থনা জানান।

হোটেলে উঠার পর অবশ্য বিশ্রাম নেয়ার দিকে মন টানেনি মাশরাফির। তিনি তো আড্ডা হৈ হুল্লা পছন্দ করেন। কয়েক ঘন্টার মধ্যেই হোটেল থেকে বের হয়ে পড়েন বাংলাদেশের ওয়ানডে। যোগ দেন তার ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ সতীর্থ যিনি বর্তমানে নেপিয়ার থাকেন, সেই আল শাহরিয়ার রোকনের সঙ্গে আড্ডায়। সেখানে মাশরাফির রাজনীতিতে যোগ দেয়া নিয়েও অনেক কথা হয়। কথা হয় নিউজিল্যান্ডের মাটিতে জয়-পরাজয় এবং আরও অনেক বিষয় নিয়ে।

কিছুক্ষণ পর এই আড্ডায় যোগ দেন তামিমও। ইংরেজি দৈনিকের ওই সাংবাদিক তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, ছোট এয়ারক্রাফটের ভয়ের বিষয়ে। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে তো ওয়েলিংটনে। সেখানে আরও বেশি বাতাস। অকল্যান্ড থেকে না হয় গাড়িতে করে নেপিয়ারে আসলেন, ওয়েলিংটনে যাওয়ার সময় কি করবেন তামিম?

দেশসেরা এই ওপেনারের জবাব, 'না ভাই, আমি ওয়েলিংটনেও ফ্লাইট চেঞ্জ করব না। আমি সরাসরি ফ্লাইট কিংবা রোডে করে যাব।' বোঝাই যাচ্ছে, বিমানের বাম্পিং ভীতিতে তামিমও মাশরাফির চেয়ে খুব একটা পিছিয়ে নেই!

এআরবি/এমএমআর/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :