‘প্রয়োজন মেটাতে যেমন হিটার প্রয়োজন, আমাদের তা আছে’

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা টনটন থেকে
প্রকাশিত: ০৯:৪১ পিএম, ১৫ জুন ২০১৯

সময়ের সাথে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। কথোপকথন। এই যেমন ব্রিস্টলে ছিল শুধুই বৃষ্টি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে যত কথা হয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল বৃষ্টি আর আবহাওয়া নিয়ে। খেলা হবে কিনা? আর হলেও কত ওভারের হবে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস কি? ইত্যাদি, ইত্যাদি।

আর টনটনের সমারসেটে এসে বদলে গেছে কথা বার্তা। হ্যাঁ, বৃষ্টি নিয়ে কথা বার্তা শেষ হয়নি। আছে এখনো। ১৭ জুন আবহাওয়া কেমন থাকবে? বৃষ্টি হবে কিনা? বৃষ্টির সম্ভাবনা আসলে কতটা? আর বৃষ্টিতে আদৌ ম্যাচ পন্ড হবার সম্ভাবনা আছে কি না?

সে সব কৌতুহলি প্রশ্ন আছে অবশ্যই। তবে তা ছাপিয়ে দুটি কথা শোনা যাচ্ছে বেশি। এই ম্যাচটি বাংলাদেশের প্রায় অস্তিত্বের লড়াই। চলতি ভাষায় বাঁচা মরার লড়াই। হারলে সেমিফাইনাল খেলার সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে যাবে। আর সবচেয়ে বেশি কথা হচ্ছে সমারসেটের ছোট মাঠ ও তার আকৃতি নিয়ে। বলা হচ্ছে, এটাই এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে ক্ষুদ্রাকৃতির আউটফিল্ড।

আজ স্বদেশি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সে প্রশ্ন শুনলেন তামিম ইকবালও। দেশ সেরা ওপেনারের কাছে সমারসেট কাউন্টি ক্লাবের মাঠের আকৃতি নিয়ে কথা বলতে বলা হলে তামিমের জবাব, ‘আমি এই মাঠে কোনদিনই খেলিনি। তবে সব সময় শুনেছি সমারসেট কাউন্টি ক্লাবের মাঠ একদম ব্যাটিং স্বর্গ।’

তামিম যোগ করেন, ‘তবে যে কোনো কারনেই হোক এবার যে কটি ম্যাচ হয়েছে, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া আর পাকিস্তান ম্যাচ দেখে মনে হয়েছে উইকেট তত ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি না। এখানে শুধু ব্যাটসম্যানরাই নন, বোলাররাও সহায়তা পাচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়া আর পাকিস্তান ম্যাচ দেখে আমার তাই মনে হয়েছে। সেই সাথে আবহাওয়াও তেমন ভাল না। উইকেট যেমনই হোক আমাদের ভাল খেলতে হবে সেরাটা উপহার দিতে হবে।’

কথা বার্তায় পরিষ্কার, মাঠের আকার ও আকৃতি নিয়ে তামিমের কোন মাথা ব্যথা নেই। পরিষ্কার বুঝিয়ে দিলেন, মাঠের আকৃতি নিয়ে ভেবে লাভ নেই। চিন্তা করতে হবে নিজেদের নিয়ে। শক্তি-সামর্থ্যের সঠিক ও সময়মত প্রয়োগ ঘটানোই আসল কথা।

অনেকেই বলাবলি করছেন- মাঠ ছোট, পাশে ও সামনে দু দিকের বাউন্ডারি অনেক মাঠের চেয়ে কম। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা ‘বিগ হিট’ নিতে পারে বেশি। দলটিতে পাওয়ার হিটারের সংখ্যা অনেক বেশি। তাই সমারসেট কাউন্টি ক্লাবের ছোট মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হার্ডহিটারদের সামনে টাইগার বোলারদের সমস্যা হবে। তারা ছক্কা খাবেন বেশি। ভাবটা এমন-গেইল, আন্দ্রে রাসেলরা যাই মারবেন, তাই ছক্কা হবে।

তামিম কিন্তু সেভাবে ভাবতে চান না। তার চিন্তা-ভাবনা ও অনুভব একদম পরিষ্কার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা ‘ন্যাচারাল হিটার’। ‘পাওয়ার’ হিটিংটাও খুব ভাল পারন। তাই বলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ছক্কা হাঁকাতে পারেন না , তা ভাবা কোনই কারন নেই।

তাই তো তামিমের মুখে এমন কথা-‘মাঠ ছোট না বড়, সেটা তো আর আমাদের হাতে না। মাঠের আকার ও আকৃতি এবং আয়তন যেমনই হোক না কেন, সেটা আসলে দু দলের জন্যই সমান। আমরা মনের দিক থেকে ঠিক আছি কিনা, সেটাই বড়। আমাদের অ্যাপ্রোচ-অ্যাপ্লিকেশনটা সঠিক থাকতে হবে। আমরা জানি ওয়েস্ট ইন্ডিজে বেশ কজন পাওয়ার হিটার আছেন, যারা যে কোন মাঠে বড় ছক্কা হাঁকাতে পারেন। সেটা নিয়ে ভেবে লাভ নেই। আমাদের নিজেদের নিয়ে চিন্তা করা উচিত। আমাদের হয়ত ক্যারিবীয়দের মত এত বড় হিটার নেই। তবে প্রয়োজন মেটাতে যেমন হিটার প্রয়োজন, তা ঠিকই আছে।’

এদিকে মাঠের আয়তন নিয়ে মাথা না ঘামানোর পাশাপাশি তামিম বৃষ্টির কথাও বেশি ভাবতে নারাজ। তার কথা, ‘বৃষ্টি সহায়কও না, আবার বড় ধরনের বাধাও না। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে খেলা। বৃষ্টির ওপর আমাদের কেন, কারোই হাত নেই। তবে আমার মনে হয় না বৃষ্টি আমাদের জন্য বড় ধরনের সমস্যা হবে।’

‘আসলে বৃষ্টি-মাঠ এসব কোনটাই ফ্যাক্টর নয়। আসল কথা হচ্ছে ২২ গজে আমরা কেমন খেললাম, এবং নিজেদের লক্ষ্য, পরিকল্পনা আর গেম প্ল্যানের কতটা বাস্তবে পরিণত করতে পারলাম। তার ওপরই আসলে নির্ভর করে সাফল্য।’-যোগ করেন তামিম।

সত্যিই তাই। মাঠের আকার নিয়ে বেশি ভাবলে নিজেদের স্বাভাবিক পারফরমেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তার চেয়ে নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্যর যথাযথ প্রয়োগটাই আসল।

এখন জায়গামত সামর্থ্যের সেই বাস্তব প্রয়োগটাই দরকার। তা কি হবে ?

এআরবি/এমএমআর/এমকেএইচ