সাকিবের উদ্ভাসিত ব্যাটিং নৈপুণ্যের পেছনের রহস্য

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা টনটন থেকে
প্রকাশিত: ০২:২০ এএম, ১৮ জুন ২০১৯

ম্যাচ শেষে উল্লাসে ফেটে পড়লেন, আনন্দের আতিশয্যে দু’হাত ওপরে তুলে উল্লাস প্রকাশ করলেন। তারপর হাত মুঠো করে জানান দিলেন, আমি পেরেছি, আমরা জিতেছি। পরে মিডিয়া সেন্টার প্রান্তের উইকেট তুললেন। এমন স্মরণীয় ম্যাচের একটা স্মৃতি হিসেবে উইকেট নিজের সংগ্রহে রাখবেন- সেটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু পরক্ষণে কী ভেবে যেন তা রেখেও দিলেন পরম যত্নে। কারণ এখন যে জিং বেলস থাকে, সেগুলো অত্যন্ত দামি, মূল্যবান। তাই এখন আর জিং বেলসসহ উইকেট তোল যায় না। ব্যস এটুকুই। এর বেশি কোনো আনন্দ উল্লাস করেননি জয়ের নায়ক সাকিব আল হাসান।

খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনেও আসলেন ধীর পায়ে। বাড়তি আবেগ- উচ্ছ্বাস ছিল না চোখেমুখে। দেখে বোঝার উপায়ই ছিল না, মাত্র ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস খেলে দলকে রেকর্ড ও স্মরণীয় জয় উপহার দিয়ে এসেছেন, কথা বললেন একদম নরম গলায়।

অনেক কথা নানা প্রশ্নের ভিড়ে উঠলো, এটাই কি তার ক্যারিয়ারের সেরা সময় ও ফর্ম কি-না? সে প্রশ্নের উত্তরে এমন কিছু বললেন না, যা শুনে মনে হয়েছে- এটাই তার ক্যারিয়ারের সেরা সময়। এমন নয় যে, তিনি আগে কখনো সেঞ্চুরি করে ম্যাচ জেতাননি।

আজ যে দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজেদের ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড রান টপকে জিতলো বাংলাদেশ- সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয়ের রূপকার, স্থপতি আর নায়কও কিন্তু সাকিব আল হাসান নিজেই।

একটু পিছন ফিরে তাকান, ২০১০ সালের অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-০’তে সিরিজ জয়ের রূপকার ছিলেন সাকিব। দুই ম্যাচে হয়েছিলেন ম্যাচ সেরা। প্রথম ম্যাচে ৫৮ রান ও ৪/৪১, তৃতীয় ম্যাচে ১০৬ রান ও ৩/৫৪- এমন অসাধারণ অলরাউন্ডিং পারফরমেন্সে হয়েছিলেস সিরিজ সেরা। এছাড়া অপর দুই ম্যাচেও রেখেছেন কার্যকর অবদান (২/৪৫ ও ১৩* এবং ৩৬ ও ২/৩৫)।

আর এবার বিশ্বকাপের মতো আসরে প্রথম দুই ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরির পর টানা দু’দুটি শতরান। তাই বলাই যায়, সাকিব এখন আছেন ফর্মের চুড়োয়। মাঝের সময়গুলোতেও তার ভাল ফর্ম অব্যাহত ছিল। তিনিই গত একযুগ প্রায় বাংলাদেশের প্রধান চালিকাশক্তি।

এমনকি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি জয়ের নায়কও তিনি। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বাধিকবার ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হবার অসামান্য কৃতিত্বটিও তার। এবার বিশ্বকাপে চার ম্যাচে ভাল বোলিংয়ের পাশাপাশি চার ইনিংসে দুটি ৫০+ রানের পর এক জোড়া শতরান করেছেন।

এমন ভাল ফর্মে থাকার রহস্য কী? কোনটাকে এগিয়ে রাখতে চান সাকিব? এবারের বিশ্বকাপের অসাধারণ ফর্ম নাকি ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের রূপকার হয়ে সিরিজ সেরা এবং চার ম্যাচে একবার করে ফিফটি এবং সেঞ্চুরি হাকানো? কোনটা বেশি স্মরণীয়?

সাকিব মনে করেন দুবারই তিনি ছিলেন ফর্মের তুঙ্গে। এখন যে ভাল খেলছেন, বিশেষ করে ব্যাটিংটা অনেক বেশি ভাল হচ্ছে। তার পিছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হলে সাকিব বলেন, ‘আমি এখন বল খুব ভালো দেখতে পাচ্ছি এবং খেলার জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি সময়ও মিলছে।’

সেটা কেন ও কী করে? সাকিবের জবাব, ‘আসলে আপনি যখন ভাল খেলতে থাকবেন, নিয়মিত রান করবেন, তখন আপনা আপনি আস্থা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ে। ভাল খেলার ইচ্ছে প্রবল হয়। আর নিজের সামর্থ্যের প্রতি আস্থাও বৃদ্ধি পায়।’

তবুও নিজেকে সংযত রাখতে যারপরনাই সচেষ্ট সাকিব। তাই মুখে এমন কথা, ‘আমি এক্সাইটেড না। সামনে আরও চারটি ম্যাচ আছে। আমি জানি আমাকে ভাল খেলতে হলে এবং এমন পারফরম করতে হলে আবেগতাড়িত না হয়ে ধৈর্য্য নিয়ে পরিবেশ-পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, প্রতি ম্যাচই নতুন। সবকটায় নতুন শুরু চিন্তাও মাথায় রাখতে হবে।’

এআরবি/এসএএস

আপনার মতামত লিখুন :