বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ মানেই বৃষ্টির হানা!

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা নটিংহ্যাম থেকে
প্রকাশিত: ০৫:২৯ পিএম, ১৯ জুন ২০১৯

কি অবিশ্বাস্য কাকতালীয় একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যাপারটা। অস্ট্রেলিয়ার সাথে আইসিসির কোন টুর্নামেন্ট, অর্থ্যাৎ বিশ্বকাপ কিংবা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের খেলা মানেই কি বৃষ্টির হানা? বৃষ্টিতে ম্যাচ পরিত্যক্ত, পন্ড বা বাতিল হয়ে যাওয়া?

কোন রসিকতা নয়। সত্য। নির্জলা সত্য। ইতিহাস জানাচ্ছে, গত চার বছরে আইসিসির দুটি বড় আসর বিশ্বকাপ আর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি- দুটিতেই বাংলাদেশ আর অস্ট্রেলিয়া যে দু’বার মুখোমুখি হয়েছে, প্রতিবারই বৃষ্টি এসে হানা দিয়েছে এবং খেলা পরিত্যক্ত হয়েছে। আরেকবার অর্ধেক হওয়ার পর বৃষ্টিতে বাতিল হয়ে গেছে।

প্রথমবারের ঘটনা, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে। বিশ্বকাপের ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিতক্ত হয়েছে। ওই ম্যাচে একটি বলও মাঠে গড়ায়নি। এমনটি টস পর্যন্ত হয়নি।

আর সর্বশেষ ২০১৭ সালে এই ইংল্যান্ডেই অনুষ্ঠিত হওয়া আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সর্বশেষ আসরে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ অর্ধেক হওয়ার পর বৃষ্টির হানায় বাতিল ঘোষণা করতে হয়েছে।

এর মধ্যে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অস্ট্রেলিয়ার সাথে বাংলাদেশ ছিল হারের পথে। স্কোর লাইন বা খেলার চালচিত্র এমন ছিল যে , ম্যাচ পুরো হলে অনিবার্য্য হারের সম্ভাবনা ছিল টাইগারদের।

BD-Australia-1.jpg

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দুই অসি ফাস্ট বোলার মিচেল স্টার্ক (৪/২৯) আর লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পার (২/১৩) সাঁড়াসি বোলিং আক্রমণে বাংলাদেশ অলআউট হয়ে গিয়েছিল মাত্র ১৮২ রানে। তামিম ইকবাল একাই যা করার করেছিলেন ওই ম্যাচে। এ বাঁ-হাতি ওপেনারের ব্যাট থেকে এসেছিল ১১৪ বলে ৯৫ রানের দারুণ সাহসী এক ইনিংস। এছাড়া সাকিব করেছিলেন ২৯ রান।

আর কেউই ওই ম্যাচে দাঁড়াতে পারেননি অসি বোলারদের সামনে। সৌম্য ৩, মুশফিক ৯, রিয়াদ ৮, মিরাজ ১৪, অধিনায়ক মাশরাফি শূন্য রানে ফিরে গিয়েছিলেন।

১৮৩ রানের ছোট টার্গেট সামনে রেখে অস্ট্রেলিয়া এগুচ্ছিল ভালই। ১৬ ওভারে এক উইকেটে ৮৩ রান করার পর বৃষ্টি চলে আসে। অজি ইনিংস অন্তত ২০ ওভার হলেও হয়ত ডিএল ম্যাথডে ফলাফল নিষ্পত্তি হতো। কিন্তু তা না হওয়ায় ম্যাচ বাতিল হয়ে গেছে।

ওই ম্যাচ বাতিল হওয়ায় বাংলাদেশের লাভই হয়েছিল। তাতে করে সেমিফাইনাল খেলার পথ সুগম হয়ে গিয়েছিল টাইগারদের। অস্ট্রেলিয়ার সাথে ম্যাচের এক পয়েন্ট পরে রীতিমত ‘বোনাস’ পয়েন্ট হিসেবে পরিগণিত হয়। শুরুতে ইংল্যান্ডের কাছে হার। তারপর মাঝে অজিদের কাছ থেকে বৃষ্টির সাহায্য নিয়ে এক পয়েন্ট পাওয়া। আর সবশেষে কিউইদের হারানো। এরপরই নিশ্চিত হয় সেমির স্বপ্ন।

সবার জানা, সাকিব আল হাসান আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অবিস্মরণীয় জোড়া শতকে বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মত কোন বিশ্ব আসরের সেমিতে পৌঁছে যায়, সেই কৃতিত্বের পরও অজিদের সাথে বৃষ্টির কল্যাণে পাওয়া এক পয়েন্ট অনেক কাজে দিয়েছিল।

BD-Australia-1.jpg

দুই বছর পর সেই ইংল্যান্ডের মাটিতে আবার অস্ট্রেলিয়ার সামনে বাংলাদেশ। এবার বিশ্বকাপের আসর। আবারও সেমিফাইনাল খেলার সম্ভাবনা আছে মাশরাফি বাহিনীর সামনে। এখন অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারলেই সে সম্ভাবনা অনেক উজ্জ্বল হয়ে যাবে বাংলাদেশের।

শুনতে হয়তো খারাপ লাগতে পারে। হয়ত শিষ্টাচার বহির্ভূত সংলাপও হবে। কেউ কেউ হয়ত বলবেন, ‘এটা আবার কেমন কথা? তারপরও চরম সত্য হলো বাংলাদেশ এখন যেখানে দাঁড়িয়ে, সেখান থেকে অস্ট্রেলিয়ার সাথে ম্যাচে যদি বৃষ্টির সাহায্য নিয়ে এক পয়েন্টও পায়, সেটা হবে আশির্বাদ। অনেক বড় পাওয়া।’

কারণ, সাধারণ হিসেবে অসিদের হারানো অসম্ভব নয়। বাংলাদেশ এরই মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা আর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সে সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। তাই অসিদের হারানো যাবে না, কিংবা মাশরাফি-সাকিবরা তা পারবেন না- এমন বলাও ঠিক না। তবে কাজটা খুব কঠিন।

কারণ দক্ষিণ আফ্রিকা অবিন্যস্ত। এবার যেন খাপছাড়া একটি দল। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাজানো গোছানো, ধারালো, বৈচিত্র্যও বেশি। তাই খেলে অজিদের সাথে পেড়ে ওঠা কঠিন। তাই যদি বৃষ্টিতে এক পয়েন্টও আসে অ্যাকাউন্টে, সেটাও বিশেষ সহায়ক উপাদান হিসেবে কাজ করবে। তখন আফগানিস্তান, পাকিস্তান আর ভারতকে হারাতে পারলে হয়ত সেরা চারে জায়গা হয়ে যাবে টাইগারদের। অস্ট্রেলিয়ার সাথে এক পয়েন্ট পেলে সংগ্রহ দাঁড়াবে ৬ খেলায় ৬ পয়েন্ট।

আর শেষ তিন ম্যাচে যথাক্রমে আফগানিস্তান, পাকিস্তান আর ভারতের বিপক্ষে জিতলে পয়েন্ট দাড়াবে ১২। তাতে করে সেমিতে খেলার যথেষ্ঠ সম্ভাবনা থাকবে। কাজেই সোজা-সাপটা কথা, অখেলোয়াড়োচিত মনোভাব তথা ‘আনস্পোর্টিং’ আচরণ, নেতিবাচক চিন্তা ও ক্রিকেটীয় শিষ্টাচারের বাইরের চিন্তা-ভাবনা এবং কথা বার্তা হলেও চরম সত্য যে, কাল অস্ট্রেলিয়ার সাথে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বৃষ্টির আনুকুল্য চাইতে পারে বাংলাদেশ।

BD-Australia-1.jpg

বলার অপেক্ষা রাখে না, শ্রীলঙ্কার সাথে ব্রিস্টলে এই বৃষ্টির কারণে সম্ভাব্য জয় হয়েছে হতাছাড়া। সেই ম্যাচ জিতলে সংগ্রহে আরও এক পয়েন্ট যোগ হতো। তখন কিছুটা হলেও অবস্থা ও অবস্থান দুই’ই ভাল থাকতো। এখন প্রশ্ন হলো, বৃহস্পতিবার (২০ জুন) নটিংহ্যামে অস্ট্রেলিয়া আর বাংলাদেশের ম্যাচে বৃষ্টির সম্ভাবনা কতটা?

এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিবিসিসহ নটিংহ্যামের সবকটি আবহাওয়া পূর্বাভাস ঘেঁটে দেখা গেছে, আজকের মত কালও নটিংহ্যামের আকাশে মেঘ থাকবে। তবে একদম মেঘের ঘনঘটা থাকার সম্ভাবনা কম। সারা দিনে ভারী ও টানা বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা নেই। ব্রিস্টলের মত ৮০-৯০ ভাগ বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই।

পূর্ভাবাসে বৃষ্টির কথা বলা যে নেই, তাও নয়। আছে। ৩০ % বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ আছে আবহাওয়া রিপোর্টে। তার মানে বৃষ্টি হয়ত ম্যাচ পন্ড করার মত করে হানা দেবে না । তবে ছোটখাট হলেও একটা হুমকি আছে। এখন শেষ মুহূর্তে ওই হুমকির মাত্রা বেড়ে গেলে ভিন্ন কথা। না হয় অতি নাটকীয় পরিবর্তন না ঘটলে ব্রিস্টলের মত নটিংহ্যামের ট্রেন্টব্রিজেও বৃষ্টিতে খেলায় বিঘ্ন ঘটারা সম্ভাবনা কম।

এআরবি/আইএইচএস/এমএস