তাহির-জাম্পাকে স্বচ্ছন্দে খেলতে পারলে রশিদ খানকে কেন নয়?

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা সাউদাম্পটন থেকে
প্রকাশিত: ০১:৪৮ পিএম, ২৪ জুন ২০১৯

বিশ্বকাপ এখন ‘এশিয়া কাপ’ হয়ে গেছে বাংলাদেশের জন্য। শেষ তিন ম্যাচ এশিয়ার তিন দল আফগানিস্তান, ভারত আর পাকিস্তানের সাথে। পরিস্থিতিটাও প্রায় একই। সর্বশেষ এশিয়া কাপে এই আফগানিস্তানকে হারিয়েই ফাইনালের সম্ভাবনা জাগরুক করেছিল টাইগাররা। আর তারপরই ফাইনালে গিয়ে ভারতের সাথে শেষ বলে গিয়ে হার মানা।

এখন বিশ্বকাপে প্রায় একই অবস্থা। টাইগারদের সেমিফাইনাল খেলতে হলে পরের তিন ম্যাচে জয় ছাড়া বিকল্প নেই। আর কয়েক ঘণ্টা পর আফগানিস্তানকে দিয়ে শুরু হবে সেই কঠিন মিশন।

এবার যেহেতু শুরু থেকেই বৃষ্টি ভোগাচ্ছে, তাই প্রিয় জাতীয় দলের প্রতিটি খেলার আগে বাংলাদেশের কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্ত-সমর্থক সবার আগে খবর নেন আবহাওয়া কেমন? দলের প্রতিটি সদস্য ফিট কি না? একাদশটা কেমন হবে?

আর তারপর প্রতিপক্ষ দলে কোন বিশেষ কেউ থাকলে তাকে নিয়েও কথা-বার্তা হয়। আজ আফগানিস্তানের সাথে ম্যাচের আগে সেই সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপার থেকে নানা প্রশ্ন, ‘ভাই আকাশ কেমন? বৃষ্টির সম্ভাবনা কতটা? দলের খবর কি?’

এসব প্রশ্নের প্রথম জবাব, ‘আকাশ খুব ভালো, মানে রোদ ঝলমলে সকাল নয়। তবে সে অর্থে বৃষ্টির পূর্বাভাষ নেই। সকাল ৬ টা থেকে বিকেল ৬টা (এখানে রাত ৯টার সূর্য ডোবে, তাই ছয়টা মানে বিকেলই) পর্যন্ত একটু-আধটু বৃষ্টির কথা বলা আছে আবহাওয়া রিপোর্টে। তবে সেটা খুব বেশী নয়। সকাল ৮ থেকে ৬ টা পর্যন্ত ১০ ভাগ থেকে সর্বোচ্চ ২০ ভাগ বৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।

আর বাংলাদেশ দলের ইনজুরি মুক্তির খবরও ভালো। সাইফউদ্দীন আর মোসাদ্দেক হোসেন ফিট। সম্ভবত দু’জনই ফিরছেন একাদশে। আজ সকালে টিম হোটেল ছাড়ার আগে জাগো নিউজের সাথে মুঠোফোন আলাপে ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন জানিয়েছেন, ‘সাইফউদ্দীন আর মোসাদ্দেক দুজনই ফিট। তবে মাঠে গিয়ে সাইফউদ্দীনের ফিটনেস টেস্ট হবে। তাতে উৎরে গেলে আর কোন বাঁধাই থাকবে না। সাইফ খেলতে পারবে।’ সাইফউদ্দীন আর মোসাদ্দেক ফেরা মানে বাইরে চলে যেতে হচ্ছে সাব্বির রহমান আর রুবেল হোসেনকে।

এদিকে আফগানিস্তানের সাথে খেলা মানেই ‘জুজুর বুড়ি’র মত যত চিন্তা রশিদ খানকে নিয়ে। বিশেষ করে গত বছর জুনে ভারতের দেরাদুনে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে রশিদ খানের (৩/১৩, ৪/১২ ও ১/২৪) স্পিন ভেলকিতে টাইগাররা হার মানায় চিন্তাটা বেশি। তবে ভুলে গেলে চলবে না, সেটা ছিল টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। যেখানে ব্যাটসম্যানের মেরে বা চালিয়ে খেলার তাড়া তাগিদ থাকে। তাই বোলারের ওপর চড়াও হতে গিয়েও উইকেট দিতে হয়।

আর ৫০ ওভারের ফরম্যাটে তা হয় না। তাই এবার ইমরান তাহির আর জাম্পা দুই লেগ-স্পিনার সুবিধা করতে পারেননি বাংলাদেশের সাথে। কাজেই রশিদ খানকে নিয়ে অত চিন্তার কারণ নেই। আর খেলা হচ্ছে শতভাগ ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে। বাড়তি টার্ন পাবার কোনই সুযোগ নেই।

সেখানে রশিদ খান খুব বেশি কিছু করতেও পারেননি এবারের বিশ্বকাপে। আগের পাঁচ ম্যাচে তার উইকেটে মোটে তিনটি। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সাথে ৮ ওভারে ১১০ রান দিয়ে ফেলেছেন। প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২ উইকেট পাওয়ার পর আর একটি মাত্র উইকেট পেয়েছেন রশিদ খান। সেটা ভারতের বিপক্ষে। মহেন্দ্র সিং ধোনি স্ট্যাম্পড হয়েছিলেন তার বলে।

তবে একটা কথা তারপরও থেকে যাচ্ছে, তাহলো গত ২২ জুন সাউদাম্পটনের যে মাঠে ভারতের বিপক্ষে খেলেছিল আফগানিস্তান, আজ ঠিক সেই রোজ বোলেই বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা। খুব স্বাভাবিকভাবেই উইকেটের গতি-প্রকৃতি রশিদের একটু বেশিই জানা।

তারপরও বাংলাদেশের ফ্রন্টলাইনে যেহেতু তিন বাঁ-হাতি তামিম, সৌম্য আর সাকিব আছে, তাই লেগ স্পিনার রশিদের চেপে বসার সুযোগ ও সম্ভাবনাও কম। আর পরিসংখ্যান জানান দিচ্ছে, ইমরান তাহির আর জাম্পা কেউই সুবিধা করতে পারেননি বাংলাদেশের সাথে। তাহির ২টি, আর জাম্পা তামিম-সাকিব, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর কাছে বেদম মার খাবার পর শুধু লিটন দাসের উইকেটটি পেয়েছিলেন। তাও ৯ ওভারে ৬৮ রান দিয়ে।

দুই বিশ্ব মানের লেগস্পিনার ইমরান তাহির আর জাম্পা কিছু করতে পারেননি, কারণ দু’জনকেই শুরুতে সামলেছেন সাকিব। আজও যদি সাকিব, তামিম আর সৌম্য যে কোন দু’জন উইকেটে বেশি সময় থাকেন, তাহলে রশিদ খানের কার্যকরিতার সম্ভাবনা খুব কম থাকবে।

পাশাপাশি দুই অফ-স্পিনার মোহাম্মদ নবি আর মুজিব-উর রহমানও আছেন। তাদের সামলাতে লিটন, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ আর মোসাদ্দেক আছেন। তাদেরও দায়িত্ব নিয়ে ওই দুই অফ ব্রেক বোলারকে খেলতে হবে। সব মিলে পেস আর ফাস্ট বোলারদের ভাল মত সামলে আসা বাংলা টাইগারদের আজ আফগান স্পিনারদের সামাল দিতে হবে।

দু’দিন আগে মিঠুন একটা ভাল ও তাৎপর্যপূর্ণ কথা বলেছেন। ব্যাটসম্যানরা ফর্মে ও ছন্দে থাকলে পেস আর স্পিন- কোনোটাই সমস্যা নয়। আর তখন ফাস্ট বোলিং বেশি খেলার পর হঠাৎ স্পিন নির্ভর বোলিং আক্রমণ সামলানোও কঠিন না। অ্যাডজাস্ট করে নেয়া যায়। সাকিব, মুশফিক আর তামিম-রিয়াদরা রাবাদা, এনগিদি, বোল্ট, সান্তনার, মার্ক উড, আর্চার, ক্রিস ওকস, প্যাট কামিন্স আর মিচেল স্টার্ক ও ওশানে থমাস, কটরেল, গ্যাব্রিয়েলদের সামাল দিয়েছেন দারুণভাবে।

আজ হয়ত আফগান স্পিনারদের সামলাতে হবে। ফর্মে থাকা সাকিব আর মুশফিক আর লিটনদের জন্য তা কি কঠিন? দেখা যাক কি হয়?

এআরবি/আইএইচএস/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :