আইসিএল খেললে নিষিদ্ধ হবেন, জানতেনই না নাফীসরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৫৪ এএম, ২৪ জুলাই ২০২০

বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য কালো একটি অধ্যায় ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগ (আইসিএল)। যে টুর্নামেন্টে নাম লিখিয়ে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন শাহরিয়ার নাফীস, ফরহাদ রেজা, আফতাব আহমেদ, ধীমান ঘোষ, নাজিমউদ্দিন, মোশাররফ রুবেল, তাপস বৈশ্যর মতো নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়রা। যাদের সামনে ছিল লম্বা ক্যারিয়ার।

আইসিসির অস্বীকৃত এ টুর্নামেন্ট খেলায় মূলত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। যদিও পরে এ সিদ্ধান্ত বাতিল করতে খুব একটা সময় নেয়নি বিসিবি। পুনরায় জাতীয় দলে খেলেছেন নাফীস, আফতাব, ফরহাদ, নাজিমউদ্দিনরা। কিন্তু কেউই আসলে সে অর্থে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে পারেননি।

এই আইসিএল খেলতে গেলে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে, এ বিষয়টি জানতেনই না সেই টুর্নামেন্টে যোগ দেয়া খেলোয়াড়রা। অন্যান্য সব ঘরোয়া টুর্নামেন্টের মতো করে ভেবেই সেখানে খেলতে গিয়েছিলেন নাফীসরা। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত তাদের কাছে আসে বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো।

নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ‘আইসিএল : দ্য আনটোল্ড ট্রুথ’ নামে সিরিজ প্রচার করছেন শাহরিয়ার নাফীস। সেখানে দেয়া ভিডিওতে তখনকার প্রেক্ষাপট ও আইসিএলে যোগ দেয়ার কারণসহ নানান প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এ বাঁহাতি টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান। জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো নাফীসের প্রশ্নোত্তর:

প্রশ্ন: আইসিএল খেললে ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে এই কথা কি জানতেন?
নাফীস: আমরা যখন আইসিএলে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, ঐ মুহূর্তে কোনো দেশের ক্রিকেট বোর্ডই আইসিএলকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করেনি। বাংলাদেশ, ভারত বা আইসিসি- কেউই এটিকে নিষিদ্ধ করেনি। হ্যাঁ আইসিসি এটাকে স্বীকৃতি দেয়নি, এটি তখন অস্বীকৃত একটি টুর্নামেন্ট ছিল।

এ জিনিসটা আমার মাথায় ছিল যে, নিষিদ্ধ টুর্নামেন্ট এবং অস্বীকৃত টুর্নামেন্টের মধ্যে পার্থক্য আছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, দেশে বিসিবির অধীনে হয় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। এর বাইরে আমরা অনেক খ্যাপ খেলতে যাই বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে। সেগুলো কিন্তু স্বীকৃত নয়। আবার নিষিদ্ধও নয়। তো যেহেতু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আইসিএলকে নিষিদ্ধ করেনি, তাই ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে বা বাংলাদেশ জাতীয় দলে আর খেলতে পারব না- এমন চিন্তা কখনও মাথায়ই আসেনি।

প্রশ্ন: আইসিএলে খেলতে যাওয়ার ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আপনাদের নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছিল, এ বিষয়টা কি খেলতে যাওয়ার আগে জানতেন?
নাফীস: আমরা সবাই যখন আইসিএলে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার ঘোষণা দেই, তারপরে বিসিবি আমাদের নিষিদ্ধ করে। যখন আইসিএলে যাওয়া নিয়ে কথাবার্তা হয় কিংবা চুক্তি করতে যাচ্ছিলাম, তখন কিন্তু বিসিবি কর্তৃক এই টুর্নামেন্ট নিষিদ্ধ ছিল না। তো যখন আমরা ঘোষণা দিলাম যে, আইসিএলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি, তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আমাদের সবাইকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে। সেখানে যোগ দেয়ার আগে আমরা জানতাম না নিষেধাজ্ঞার কথা, যোগ দেয়ার পরেই এ বিষয়ে জানতে পেরেছি।

প্রশ্ন: বিসিবি যখন আপনাদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করল, তখন কেমন লেগেছিল?
নাফীস: আমরা যখন আইসিএলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হই, এরপরে বিসিবি সিদ্ধান্ত নেয় যে আমাদের সমস্ত খেলোয়াড়দের ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হবে। নিষেধাজ্ঞার যেদিন ঘোষণা আসে, দিনটি আমার জন্য কঠিন ছিল। কারণ আমি একজন খেলোয়াড় হিসেবে সবসময় চেয়েছি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে প্রতিনিধিত্ব করতে, বাংলাদেশের জার্সি গায়ে জড়িয়ে খেলতে।

আমি যখন আইসিএলে যোগ দেই, আমার কিন্তু একটাই স্বপ্ন ছিলো যে, আমি যাবো, ভালো খেলবো। দেশের মানুষকে এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সামনে আমার পারফরম্যান্স মেলে ধরবো। বেশ কিছুদিন ধরেই আমার জাতীয় দলের ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলো। তো আমি এই ক্ষতি থেকে বের হওয়ার জন্যই ঐ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। যখন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসে, তখন খুবই কষ্ট পেয়েছি।

তবু আমার মনে বিশ্বাস ছিল, এই নিষেধাজ্ঞা কিংবা এই কঠিন সময় হয়তো বেশিদিন থাকবে না। আমার মনে সবসময়ই বিশ্বাস ছিল যে, আইসিএলে ভালো খেললে কিংবা আইসিএল থেকে ফিরে আসলে বিসিবি হয়তো তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সবসময়ই কিন্তু দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক। বাংলাদেশ দলের ভালো বিবেচনা করেই সব সিদ্ধান্ত নেয়। তো আমার জন্য ব্যক্তিগতভাবে খুবই কঠিন ছিল, তবে আমার মনে সবসময়ই আশা ছিল।

প্রশ্ন: আইসিএলের সার্বিক অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
নাফীস: আমরা যখন সবাই আইসিএলে যোগ দিয়ে ফেলি, তখন বিসিবি আমাদের ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে। আমাদের সবারই আইসিএলে যোগ দেয়ার সময় একটা ব্যক্তিগত লক্ষ্য ছিল যে, আমরা সবাই ভালো ক্রিকেট খেলব। আমরা সবাই-ই কিন্তু জাতীয় দলের ক্যারিয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত ছিলাম।

তাই সবারই লক্ষ্য ছিল ভালো খেলে নিজেদের আবার ফুটিয়ে তুলবো, দেশের মানুষের নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেবো। কিন্তু আমরা যখন যাই, তখন আমাদের মাথায় দশ বছরের নিষেধাজ্ঞা এবং ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা। এমন অবস্থায় আমরা সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলাম যে দেশের জন্যই খেলব। দলের নাম হয়তো ঢাকা ওয়ারিয়র্স ছিল, তবে পরে আমরা আইসিএল বাংলাদেশ নামেও একটি টুর্নামেন্ট খেলেছি। আমাদের সামনে তখন ভালো খেলা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। তাই এ বিষয়টি মাথায় রেখে খেলেছি আমরা।

টুর্নামেন্টটিতে কিন্তু আমরা দলগতভাবে এবং ব্যক্তিগতভাবে খুবই ভালো খেলেছিলাম। আমাদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ভারতে সুনাম অর্জন করতে পেরেছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত ঢাকা ওয়ারিয়র্স নামে আমরা যে টুর্নামেন্ট খেলেছিলাম, সেটার সেমিফাইনালে যেতে পারিনি। পরে আইসিএল বাংলাদেশ নামে আরেকটি যে টুর্নামেন্ট খেলি, সেখানে খুব ভালো পারফরম্যান্স ছিল। দুর্ভাগ্যবশত সেটি পুরোটা হয়নি।

এসএএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]